বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩৮ পি.এম
নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষের ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উত্থিত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, লিখিত পরীক্ষার পর ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে দুটি কক্ষের অন্তত শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের বাংলা প্রথমপত্রের ‘খ’ সেট ১২১ কোডের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্ন দেওয়া হয়।
পরীক্ষা শেষের পর শিক্ষার্থীরা বাড়িতে ফিরে উত্তর মিলিয়ে দেখার পর ভুল প্রশ্নের বিষয়টি তাদের অগোচরেই চলে যায়। ওই বিষয়ে জানা গেলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি এবং ভালো ফলাফল নিয়ে তাদের চিন্তার কারণে সমস্যাটি বাড়তে থাকে।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়ে আমি বুঝতে পারিনি।
বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে আমি দেখি পুরোনো প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, এ কারণে এখন আমরা ভালো ফলাফল নিয়ে চিন্তিত।
কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমি বিষয়টি জানতে পারি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণে এমনটি হয়েছে।
বিষয়টির সমাধানের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রের কাছে আসার আগে যে ধাপগুলো রয়েছে, সেই হিসেবে এক পরীক্ষার প্রশ্ন আরেক পরীক্ষায় আসা অনেকটা অসম্ভব বলা যায়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা কলেজের শিক্ষকরা ভুল করেছেন বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলা থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী দর্শন ও সাহিত্যকর্মকে তৃণমূল থেকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ র শুভ সূচনা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগান্তকারী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহী কবিই নন; তিনি সাম্য, তারুণ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির প্রথম আগমনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানটিকে পূর্ণাঙ্গ ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মকে কেবল বদ্ধ ঘরে সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সুধীসমাজ সরাসরি অনুষ্ঠানটিতে সংযুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান।
নেত্রকোণা থেকে যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক।
এসময় উকিল মুন্সী, জালাল খাঁ ও বারী সিদ্দিকীর মতো অসংখ্য গুণী শিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কালচারাল একাডেমি’ স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বাসস’কে জানান, নেত্রকোণায় স্বতন্ত্র কালচারাল একাডেমি স্থাপনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নেত্রকোণায় আজ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আজ সন্ধ্যায় নেত্রকোণা পাবলিক হলে বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৩ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের জন্য তিনটি ভিন্ন গ্রুপে রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা এবং ৪ জুলাই (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৪টায় সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও নেত্রকোণা পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, পুলিশ সুপার মো.তারিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করছেন সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খান।
বাগেরহাট-১ আসনের জাতীয় সংসদের সদস্য মো. মশিউর রহমান খান বলেন, "কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি।" তিনি বলেন, টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারী কৃষি সহায়তা কার্যক্রম, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরো জোরদার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, "একসময় এ দেশের মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগত এবং অনেকেরই তিন বেলা খাবার জুটত না।" সে সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে ইরি ধান চাষে গুরুত্ব দেন। এর ফলশ্রুতিতে দেশের খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয় এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ এগিয়ে যায়।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে পুষ্টিনির্ভর, টেকসই ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে। এই লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের কর্মকর্তা, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন এবং খুলনা অঞ্চল পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মো. হেদায়েত উল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়, কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় টানা চার দিন ধরে রয়েছেন। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত রোববার (২৮ জুন) সময় বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাবস্টেশনের (হাজীগঞ্জ) ওই ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় ৯২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও অন্ধকারে পড়াশোনা করতে পারছেনা। দ্রুত ফেলে দেওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, ‘বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত পলাশ প্রামাণিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১২ জুন রাতে ধার করা টাকা নিয়ে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসেছিল। এক পর্যায়ে জুয়েল ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত পলাশ প্রামাণিক (২৫) কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের পাশান প্রামাণিকের ছেলে। জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা পাশান প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এসআই সোহাগ আরও জানান, ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাবের সহায়তায় ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা মনজেলা খাতুনকে ২৯ জুন এবং প্রধান দুই আসামি হৃদয় ও জুয়েলকে ৩০ জুন জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে হৃদয় ও জুয়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বর্তমানে গ্রেপ্তার ছয় আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ