রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২০ পি.এম
দেশের বিজ্ঞাপনী বাজার ও ডিজিটাল বিপণনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই চালিত প্রোগ্রাম্যাটিক এড-বাইয়িং প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইক (AdZoic)।
রাজধানীর বনানীতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি অভিজাত হোটেলে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সেলস ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিটাল মার্কেটিংকে একসূত্রে বাঁধতে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘আম্ব্রেলাএক্স’ (Umbrellax)-এর সমন্বিত ইকোসিস্টেম উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অ্যাডজোইক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী উল্লেখ করেন, প্রথাগত নিয়মে আন্দাজ নির্ভর বিজ্ঞাপন চালাতে গিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্র্যান্ডগুলোর প্রচুর অর্থ ও সময় অপচয় হয়। ডিসেলস (DSales)-এর ডেটা ও সেলস ইন্টেলিজেন্সের শক্ত ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নির্মিত অ্যাডজোইক (AdZoic) ব্র্যান্ডগুলোকে সঠিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
অ্যাডজোইক-এর প্রযুক্তিগত কৌশল ও কার্যক্রম উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ জানান, অ্যাডজোইক (AdZoic) কোনো সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া এড ম্যানেজমেন্ট টুল নয়; এটি একটি ডিমান্ড-সাইড প্ল্যাটফর্ম (DSP)। কোনো থার্ড-পার্টি কুকির ওপর নির্ভর না করে এটি মাত্র ১০ মিলিসেকেন্ডের কম সময়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১০০ মিলিসেকেন্ডের ডিজিটাল নিলামের মাধ্যমে সর্বনিম্ন খরচে সঠিক বিজ্ঞাপন নিশ্চিত করে।
ইভেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্ল্যাটফর্মটির অফিশিয়াল কাউন্টডাউন উন্মোচন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে. এম. আমিনুর রহমান এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে. এম. আমিনুর রহমান বিজ্ঞাপনী সংস্থা, পাবলিশার এবং ব্র্যান্ডগুলোকে এই এআই-নির্ভর নতুন ইকোসিস্টেমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান DSales-এর ছাতার নিচে গড়ে ওঠা AdZoic ও Umbrellax যৌথভাবে ডিজিটাল প্রোগ্রামেটিক বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং সেলস অটোমেশনকে একটি স্মার্ট ড্যাশবোর্ডে নিয়ে এসেছে, যা এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল ব্যবসার ধারা বদলে দিতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিনটি সেক্টরের মধ্যে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন সেক্টর রংপুর জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এলজিইডি রংপুরের একটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯৫-৯৬ ইং সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতিটি উপ-প্রকল্প প্রায় ১ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
বায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে উপ-প্রকল্প এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সাধন ত্বরান্বিত হয়েছে। এডিবি, ইফাদ, নেদারল্যান্ডের সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সকল জেলায় জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এবং পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সূত্র জানায়, এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ কি. মি. খাল ও ২৬ কি. মি. এর অধিক বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক ও বর্গা চাষীদের প্রায় ৯ হাজার ৫’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। এলজিইডি রংপুর সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় তিনটি উপ-প্রকল্প এবং তারাগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলায় চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রেগুলেটর নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন সাতটি উপ-প্রকল্প, পীরগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন দুটি এবং পীরগাছা উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে উপকারভোগী জনগণকে সদস্য করে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য আর্থিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
এছাড়া, কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সমিতিগুলোর সার্বিক সহায়তার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, বীজ ও মাছের পোনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
সারা দেশে পুকুর-খাল খনন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন কি. মি. খাল ও ৮’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানিয়েছে, গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে উপকারভোগী জমি ও কৃষক-কৃষাণী ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এতে করে জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় নিষিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি এবং পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ তৈয়েব হোসেন নুরকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা সুপার মার্কেটের অভ্যন্তর থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া তৈয়েব হোসেন মৃত শেখ শাহাদাত হোসেন বাচ্চুর পুত্র, যিনি পাইকগাছা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নাশকতা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তৈয়েব হোসেনের বিরুদ্ধে গোপনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
পাইকগাছা থানার ওসি আউওয়াল কবীর তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ভারতকে পিছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এবং চীন পূর্বের মতো তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যে কিছুটা অবনতি দেখা দিয়েছে। গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন নিয়মকানুন ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয়, এবং এর বিপরীতে ভারতও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধা তুলে নেয়।
সব মিলিয়ে, দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। সংস্কারের ফলে সংগ্রহশালাটিকে আধুনিক, নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম সংস্কারকৃত সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। সংস্কারকাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।" প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, "এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।"
সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে জানান ফাতিমা। দায়িত্ব নেওয়ার পর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও উপকরণ সংযোজন করা হবে। এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও স্থান পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে এখানে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সংগ্রহশালাটি ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডাকসুর ১৯৫৭-৫৮ সেশনের ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম বলেন, "কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহশালায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।" এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
তিনি বলেন, "তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা বলেছিলেন।" প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগের জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবিসহ সংগ্রহশালায় এখনো কিছু তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, "আগামী এক সপ্তাহ সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে।" কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি কিংবা সংশোধনী থাকলে তা ডাকসুকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল, ছবি এবং শহীদদের স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি ও জিএসদের নামসংবলিত সম্মাননা ফলক সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিল এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ