প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিনটি সেক্টরের মধ্যে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন সেক্টর রংপুর জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এলজিইডি রংপুরের একটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯৫-৯৬ ইং সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতিটি উপ-প্রকল্প প্রায় ১ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
বায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে উপ-প্রকল্প এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সাধন ত্বরান্বিত হয়েছে। এডিবি, ইফাদ, নেদারল্যান্ডের সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সকল জেলায় জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এবং পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সূত্র জানায়, এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ কি. মি. খাল ও ২৬ কি. মি. এর অধিক বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক ও বর্গা চাষীদের প্রায় ৯ হাজার ৫’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। এলজিইডি রংপুর সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় তিনটি উপ-প্রকল্প এবং তারাগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলায় চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রেগুলেটর নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন সাতটি উপ-প্রকল্প, পীরগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন দুটি এবং পীরগাছা উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে উপকারভোগী জনগণকে সদস্য করে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য আর্থিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
এছাড়া, কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সমিতিগুলোর সার্বিক সহায়তার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, বীজ ও মাছের পোনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
সারা দেশে পুকুর-খাল খনন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন কি. মি. খাল ও ৮’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানিয়েছে, গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে উপকারভোগী জমি ও কৃষক-কৃষাণী ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এতে করে জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন