০৬:০৯ পি.এম
সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশী (২৯) নিহতের ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে, তাঁর মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছানোর পর, তাঁরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এর আগে সকালে ৮টায় মরদেহ পীরগাছায় এসে পৌঁছায়। পরে স্বজন ও বিক্ষুব্ধরা থানার সামনে জড়ো হয়ে মোনারুলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান।
আরও পড়ুন: পূর্ণিমা রাতে ব্রহ্মপুত্রের তীরে লালনের সুরে মুখরিত ময়মনসিংহ
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ হলো, নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সাভারে পুলিশের অভিযানের সময়, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেন। অভিযোগ আনা হয় যে, পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ও উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তাঁরা পুলিশের পোশাক পরে সেখানে যান।
তাদের দাবি অনুযায়ী, সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযানের সময়, মোনারুল ভবনের ছাদে ছিলেন। মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালকসহ কয়েকজন সেখানে গেলে মোনারুল তাঁদের চিনে ফেলেন। এরপর তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে অভিযোগ করা হয় যে, মোনারুলকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহতের বোন শাহিনুর বেগম বলেন, মিন্টু মিয়া পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক কোথা থেকে পেলেন, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ হলো, পীরগাছা থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা সাভারে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
নিহতের স্বজনেরা আরও দাবি করেন, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ বিদ্যমান রয়েছে। তাঁরা বলেন, ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের সুষ্ঠু জানা যাবে এবং কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে।
আরও পড়ুন: কটিয়াদী ও মনোহরদীতে আড়িয়লখাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ, মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে
তারা সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই করে মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন।
বিক্ষোভে আওলাদ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাঁকে এবং কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করেছেন। পুলিশের সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি এলাকা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায়, তাঁর বাবা মিন্টু মিয়া পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্য সাভারে যান। সাভার মডেল থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযানের আয়োজন করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মোনারুলের বাবা জাফর আলী পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময়, ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। এরপর নিচে গিয়ে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মদপানে অসুস্থ হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১
মোনারুল হোসেন বকশী সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সেখানে স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। মোনারুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সাভার থানা পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক জানিয়েছেন, মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালকের পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি সঠিক নয়। এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার করার জন্য সাভার থানার সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল। সাভারে এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুরেও সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন