প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কীটতত্ত্ববিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে, যা সতর্কতা জানাচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগীর বৃদ্ধির জন্য চারটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো- মশা নিধনে সুব্যবস্থার অভাব, স্বাস্থ্য সেবায় অপ্রতুলতা, ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং দেশে অসময়ে বন্যা ও বৃষ্টিপাত।
আমাদের দেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরণ রয়েছে- ডেন ১, ২, ৩, ৪। গত বছর দেশে ডেন-২ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার বা নতুন কোনো ধরণে আক্রান্ত হলে, সেই রোগীর পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গু বেশি ছড়ালে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কেননা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে রোগী বেশি হলে, তা সামলানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, ঢাকার বাইরের এলাকায় মশা নিধনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার জন্য আমাদের কিছু বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।
ডেঙ্গু কি: ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ হলো- জ্বর। ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে পারে। জ্বর টানা থাকতে পারে এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেওয়ার পর, আবারও আসতে পারে। এর সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ বা ফুসকুরি দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে কি করা উচিৎ: ডেঙ্গু হলে কী ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, তা নির্ভর করে এর ধরণ বা ক্যাটাগরির ওপর। ডেঙ্গু জ্বরের চারটি ধরণ বা ক্যাটাগরি আছে। প্রথম ক্যাটাগরির রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট। ধরণ বা ক্যাটাগরির ৩ এর ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকে। এতে লিভার, কিডনি, এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর কি কি খাবার খাওয়া প্রয়োজন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা প্রচুর প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ পানি, স্যালাইন, স্যুপ, ডাবের পানি, ফলের রস এবং দুধ জাতীয় তরল পানীয় গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে ওঠার পরেও প্রচুর পরিমাণ তরল পান করতে হবে। এ সময় শরীর যেন পানিশূন্যতায় না ভোগে, সে জন্য প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।
কোন বয়সী ব্যক্তিগণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন: ডেঙ্গুতে সাধারণত বেশি ঝুঁকিতে থাকে- ১ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের যাদের ওজন বেশি, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, যারা হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত, কিংবা যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয়, তাদেরকে ডেঙ্গু সংক্রামণের শুরু থেকেই হাসপাতালে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে চিকিৎসকদের দ্বারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা এবং ডেঙ্গু রোগীর ওপর নজরদারী বাড়াতে হবে। এডিস মশার লার্ভা জন্মে এমন সকল স্থান অপসারণ করতে হবে। জনগণকে ডেঙ্গু মশা নিধনে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে, যেখানে বেশীর ভাগ রোগী প্রথমবারের মতো আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন