০৫:৪৪ পি.এম
ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তা ও গাজা যুদ্ধের ফলস্বরূপ ইসরায়েল ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত তরুণ। দেশটির পার্লামেন্টের (নেসেট) নির্দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলে আসা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ দেশটি ত্যাগ করেছেন, এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ ও মেধাবী।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশত্যাগের এই প্রবণতা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে একই সময়ে অন্য দেশ থেকে ইসরায়েলে ফিরে আসা নাগরিকদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
আরও পড়ুন: মাদক সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর বার্তা দিলেন মির্জা ফয়সল
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি দেশ ত্যাগ করেছেন, যা ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতি বছর গড়েই ৪০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে দেশ ত্যাগকারী এবং ফিরে আসার মধ্যে নেট পার্থক্য এখন ১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশত্যাগকারীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তবে ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বয়সসীমার মানুষের হার মাত্র ৩২ শতাংশ। ২০২২ সাল থেকে দেশত্যাগকারীদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশের ব্যাচেলর ডিগ্রি, ২১ দশমিক ৫ শতাংশের মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ৩ দশমিক ৭ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। বিশেষভাবে গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর স্নাতকদের দেশত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া ২০২৪ সালে যারা দেশ ত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশের জন্ম ইসরায়েলে এবং বাকি ৪৮ শতাংশের জন্ম বিদেশে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেসেট সদস্য গিলাদ কারিভ ওয়াইনেটকে জানান, ‘আগামী দিনের বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তারা জনসংখ্যার হারের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ইসরায়েল ছেড়ে যাচ্ছেন।’ মেধার এই গণহারে চলে যাওয়াকে তিনি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কৌশলগত হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের ইরান যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন