১২:০৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘দখলদার’ হিসেবে অবস্থান নিতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। খবর আনাদোলুর
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ফ্লোরিডার নাসার একটি স্থাপনায় বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের তুলনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, গত অক্টোবর মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হরি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার
মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটাকেই যুদ্ধ বলা হয়।’
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের নবম মাস চলছে, তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত কয়েক মাসে কেউ আহত হননি। এই কারণে তিনি বলেন, একে যুদ্ধ বলা যায় না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো শুধু একজন দখলদার। আমরা দখলদার হতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনি আবারও দাবি করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মদিনায় ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা
ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আমরা এই প্রণালি থেকে বেশি তেল উত্তোলন করছি।’
শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে যে খবর এসেছে, সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, প্রথমে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি, তবে পরে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা ছোটখাটো কিছু হামলা চালাই।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা তৈরি করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কয়েক মিনিটের মধ্যে ধ্বংস করে দেয়।
আরও পড়ুন: আরাগচির সঙ্গে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলোচনা
এর কয়েক দিন আগে কেশম দ্বীপে ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি ওই অভিযানকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সীমিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে—এমন দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের বক্তব্য, এই কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতে রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। জুনে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। তবে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
আরও পড়ুন: বিয়ে না করায় প্রেমিকাকে গোকাক জলপ্রপাতে হত্যা করলেন কনস্টেবল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন