সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ পি.এম
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ফাতেমা মামুনের মৃত্যু ঘটেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছর। তিনি অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের স্ত্রী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফাতেমা মামুনের মৃত্যু ঘটে।
ফাতেমা মামুন তার মেয়ে রয়া মুনতাসীর, দুই ছেলে মিসবাহউদ্দিন মুনতাসীর ও নাবিল মুনতাসীর এবং পাঁচজন নাতি–নাতনি রেখে গেছেন।
চাঁদপুরের কচুয়ায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঠিক তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি আহত জুলাইযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের বাহিরে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
আজ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরী।
বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছে যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়। বৈঠকে বিগত বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে গত ৬ মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদানের বিষয়ে সচেষ্ট থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মো. আব্দুল হান্নান এবং রোকেয়া বেগম।
এছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার সময় মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে পৌঁছেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজের নিচ থেকে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, ‘নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই। ট্রলারডুবির ঘটনায় দুর্ঘটনাজনিত একটি মামলা হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ও শনিবার সকালে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদী থেকে একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং দুই ছেলে সজীব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫)। এছাড়া ঘটনার দিন রাশিদা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহ পরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে আসছিলেন ১৩ আত্মীয়স্বজন। ট্রলারটিতে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল।
সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কম্পানির কারখানার কাছে পৌঁছালে নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হলে ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। প্রায় আধাঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন চারজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে আরো তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে একজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে আজ সোমবার নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে রাঙামাটির নানিয়ারচরে তার নিজ গ্রাম রামহরি পাড়ায় বৌদ্ধধর্মীয় রীতি ও যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত নৌ-সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন বাংলাদেশ ফোর্স মেরিটাইম ইউনিট ব্যানএফএমইউ-১১-এ দায়িত্ব পালনকালে ট্রোম্যান খীসা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ট্রোম্যান খীসার জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার রামহরি পাড়ায়। তিনি ২০০৬ সালের ১ জুলাই নাবিক হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন বিএনপি গৃহদাহের মধ্যে রয়েছে। নগরীর দুই প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং শফিকুল ইসলাম মনার মধ্যে পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে। বর্তমানে খুলনা বিএনপি দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কোন্দল নিরসনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত নিজেদের সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে। বিরোধী দল একক মেয়র প্রার্থী নিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদি কোন্দলের সমাধান না হয়, তাহলে জাতীয় নির্বাচনে যেমন দুটি আসন হারিয়েছে বিএনপি, তেমনি সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীও পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারেন।
খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সঙ্গে রয়েছেন। অপরদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা এবং শফিকুল আলম তুহিনেরও রয়েছে বিপুল কর্মী সমর্থন। মঞ্জু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মনা গ্রুপ তাকে কোণঠাসা করে রাখে। তিনি দলে ফিরে আসার পর বিভাজন আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। মাঝে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল দুই পক্ষকে এক করার চেষ্টা করেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন comprises ৩১টি ওয়ার্ড, যার মধ্যে খানজাহান আলী, দৌলতপুর, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা, সদর থানা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে নগরীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯০৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন। ১৯৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেসিসিতে ২০ জন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন বিএনপির এবং ৫ জন আওয়ামী লীগের।
খুলনা সিটিতে বিএনপির প্রভাব দীর্ঘকাল ধরে ছিল। আওয়ামী লীগের সময়েও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী এখানে জয়ী হয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে জয়ী হলেও খুলনা নগরীর একটি আসন হারিয়েছে।
বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কম গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই পরাজয় ঘটে। মেয়র পদেও তিনি এবারও দাবিদার।
নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বিএনপি-জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা পোস্টার সাঁটানো শুরু করেছেন। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারা মোড়ে মোড়ে পোস্টার, ব্যানার লাগানোসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।
কেসিসির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক দিয়ে কেসিসি পরিচালনা করে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক পদ দেওয়া হয়। বর্তমানে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির পক্ষে তিনিই মাঠে রয়েছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জহির, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর প্রমুখ।
এদিকে জামায়াতের একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। সাংগঠনিকভাবে কেসিসি নির্বাচন নিয়ে জামায়াত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। কারণ গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাদের একমাত্র টার্গেট কেসিসির মেয়রের চেয়ারটি। তারা রাজনৈতিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়েই কাজ শুরু করেছেন। খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। অথচ এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এসএম মুশফিকুর রহমান। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালে কেসিসি নির্বাচন করেছিলেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি মেয়র পদটি তারা কোনোভাবেই হারাতে চায় না। প্রশাসক মঞ্জু প্রতিনিয়ত তার রুটিন কাজের পাশাপাশি দলীয় কাজে অংশ নিচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলা, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কারণে তাকে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনের পর দলের অন্তর্কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বশেষ কেসিসি বাজেট মিটিংয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউকে দেখা যায়নি। নেতাদের দাবি, সব সংকট কাটিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মেয়র পদটি প্রধানমন্ত্রীকে ‘উপহার’ দেবেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানান, মহানগর বিএনপির সঙ্গে মঞ্জু-মনা ভাই গ্রুপের দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি। যার প্রভাব গত সংসদ নির্বাচনে পড়েছিল। যদি আগামীতে এই গ্রুপিং থেকে যায়, তবে বিএনপি মেয়র পদটিও হারাতে পারে।
খুলনার ইতিহাসে মেয়র পদে জামায়াত কখনো আসেনি; কিন্তু এবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি খুলনার স্থানীয় দলীয় অন্তর্কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। খুলনায় বিএনপি দেখতে যতটা ঐক্যবদ্ধ, ভেতরটা ততই ফাঁকা। নেতাদের ভাষ্য- এই সংকট মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিশিয়ে রাজনীতি করতে হবে। বিএনপি নেতাদের অন্তর্কোন্দলের কারণে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতৃত্ব সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দলের কাছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত দ্বিতীয়বারের মতো এখানে মেয়র নির্বাচন করছে। এর আগে ছাতা প্রতীক নিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন করেছিলেন। আমরা কেসিসি মেয়র পদে জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী। খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসন নিয়ে কেসিসির নির্বাচন। গত সংসদ নির্বাচনে এই দুটি আসন থেকে সাধারণ মানুষ আমাদের পক্ষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। আশা করি কেসিসি নির্বাচনে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’
কেসিসির বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘দল থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। আগে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন। এরপর সিটি নির্বাচন। আমাকে প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটি পালন করে যাচ্ছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরবাসীর জন্য কাজ করছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছুই করব না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ