মো:নিয়াজ মোরশেদ জামালপুর (বকশীগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৬:২১ পি.এম
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস ও প্রসাধনসামগ্রী জব্দ করেছে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার দিগলকোনা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘বিন্দুমাত্র ছাড় নয়’—এ নীতির আলোকে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান, বিজিইউএম, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় সীমান্তে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতানিপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহলদল অভিযান চালায়। টহলদলটি সীমান্ত পিলার ১০৮৯/এমপি থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলার দিগলকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন ভারতীয় প্রসাধনসামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১০০ পিস স্কিন সাইন ক্রিম, ৫৯৪ পিস চেইন ও ১৭ জোড়া কানের রিং। সব মিলিয়ে ৯৭১ পিস ভারতীয় কসমেটিকস ও প্রসাধনসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।জব্দ করা এসব চোরাই পণ্য বিধি অনুযায়ী রৌমারী কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরিণাকুণ্ডুর মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ, একজন পুলিশ হেফাজতে
যশোরের চৌগাছায় চোর সন্দেহে মিজানুর রহমান ওরফে ‘মাস্তান’ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১ নম্বর ভায়না ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পরিবারের দাবি, মিজানুর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। মাঝে মাঝে চৌগাছায় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত আঘাতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নগর উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল (Implementation Support Mission Team) নাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর, ২০২৬) সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান। আরো উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলম সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।
মতবিনিময় সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল নাসিকের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের হার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নাসিক প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। এই নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলে একটি সুপরিকল্পিত এবং আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো নারায়ণগঞ্জের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বব্যাংকের এই সফর আমাদের কাজের গতিকে আরও বেগবান করবে। আমরা আশা করি, আগামীতে নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আরও বড় আকারের নতুন নতুন প্রকল্পে আমাদের পাশে থাকবে।”
সভায় বিশ্বব্যাংকের মিশন টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত চিত্র প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিনিধি দলটি নাসিকের আওতাধীন কয়েকটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে খোদ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ৩২ জন ছাত্রীর অংশ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকারের কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি থাকলেও, দায়িত্বশীল শিক্ষকদের এমন প্রত্যক্ষ প্রশ্রয় ও নিষ্ক্রিয়তা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ৩২ জন ছাত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের এক সহপাঠীর বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ছাত্রীরা বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছে।" বিয়েটি বাল্যবিয়ে কি না এবং ছাত্রীর বয়স আইনি সীমার নিচে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে মেয়েটি তাদের স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে।
আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "না, আমরা কোনো পদক্ষেপ নিইনি।" তবে এই বিয়েতে বিদ্যালয়ের কোনো সহযোগিতা বা সম্মতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান যে দুজন ছাত্রী স্কুলে এসে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক রওশনারা খাতুনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিয়ে হচ্ছে আমরা শুনেছি।" অথচ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে জানানোর কথা থাকলেও তারা তা জানাননি। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা কাউকে ইনফরমেশন করিনি।"
এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার মধ্যেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তার,
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্না চক্রবর্তী, থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার মুখে পড়েন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, "যেহেতু শিক্ষা অফিসার আমাদের ডেকেছেন এবং ইউএনও মহোদয় বিষয়টি অবহিত হয়েছেন, এই কারণে আমাদের কিছু বলার নেই। ওনারা যে পদক্ষেপ নেন আমরা তা মেনে নেব।"
উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, "শিক্ষকদের নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আমরা বসেছি। ইউএনও মহোদয় লিখিত জবাব দিতে বলেছেন, তাঁরা লিখিত জবাব দেবেন।"
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বাল্যবিয়েতে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য না জানানো আইনগত অপরাধ ও চরম দায়িত্বহীনতা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশে গড়ে তোলা একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য থেকে উৎপন্ন তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। এমনকি অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বমি করেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির পাশে পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্ম থেকে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় দুর্গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। পাঠদান চলাকালে দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও আশপাশের বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার জানান, "ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।"
এক অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, "আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।"
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, "পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, "বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।"
তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজলু খান বলেন, "আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদানের স্বার্থে পোল্ট্রি ফার্মটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ