ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরে প্রেমিকের বাসায় ডেকে নিয়ে তরুণীর মৃত্যু, প্রেমিক আটক


গাজীপুরে প্রেমিকের বাসায় ডেকে নিয়ে তরুণীর মৃত্যু, প্রেমিক আটক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক তরুণী (১৮) প্রেমিকের বাসায় গিয়ে কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সফিপুর এলাকায়। নিহত তরুণীর বাবা সোমবার (৫ অক্টোবর) কালিয়াকৈর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

মৃত তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকায়। আটক শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সফিপুর আহমদ নগর এলাকার রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শান্তর সঙ্গে তিন বছর ধরে তার বড় ভাইয়ের শ্যালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে তরুণী নিজ বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন। পরে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় প্রেমিক শান্তর সঙ্গে তার দেখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শান্ত ওই তরুণীকে ভাড়া বাসায় নিয়ে দিনভর কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় তরুণী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রেমিক শান্ত নিজেই তরুণীর পরিবারকে মোবাইল ফোনে তার মৃত্যুর খবর জানান। এরপর রাতেই শান্ত তরুণীর মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি ভালুকায় নিয়ে যান। মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা শান্তকে আটক করে। পরে তরুণীর মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনাক্ত হয় ধর্ষণের পর রক্তক্ষণের কারণে তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর এলাকাবাসী শান্তকে পিটুনি দিয়ে ভালুকা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরে ওই যুবককে তাদের হেফাজতে নেয়।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে দেয়াল ধসে পোশাকশ্রমিক আছিয়া আক্তারের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা, আতঙ্ক ছড়িয়েছে খুলনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা, আতঙ্ক ছড়িয়েছে খুলনায়

খুলনায় ছেলে জয় ঢালীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার মাত্র দেড় মাস পর, দুর্বৃত্তরা আক্তার ঢালী (৬০) নামক বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এই ঘটনা ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের ঢালী বাড়িতে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্তার ঢালী নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শোনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

এর আগে, গত ১৫ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে একদল যুবক। ওই ঘটনায় জয় ঢালীর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল।

এদিকে, ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) হত্যার মাত্র একমাস ২০দিন পর বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুর্জনীমহল গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ায় গুলির আঘাত রয়েছে। একটি মূল গুলির আঘাতের পাশাপাশি শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কোথায় তার গুলি লেগেছে তা নিশ্চিত করে তিনি বলতে পারেননি।

ওসি আরও বলেন, কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, প্রাথমিকভাবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের উদঘাটন করার চেষ্টা চলছে। হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার আইন দিয়ে নাগরিকের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না: ফুয়াদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


সাইবার আইন দিয়ে নাগরিকের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না: ফুয়াদ

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, সাইবার হয়রানি এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন। তবে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের জন্য সাইবার অপরাধ দমনের নামে কোনো আইন প্রণয়ন করা যাবে না, এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে এবি পার্টি লইয়ার্সের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত "প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা" শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উল্লেখ করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাজীপুরে একজন শিক্ষার্থীকে একটি কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’-সংক্রান্ত বক্তব্যের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও তার বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত নন। সালমান মুক্তাদিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তার স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "সালমানকে সাইজ করার টুল হাতে নেই, তাই এসব সাইবার আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে," এমন ধারণা যেন মানুষের মধ্যে তৈরি না হয়।

ফুয়াদ প্রশ্ন করেন, সাধারণ নাগরিকরা বিএনপির সমালোচনা করতে পারবেন কি না? সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না? পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে? এই কথাও বললে কি পুলিশের মানহানি হবে?

তিনি আরও বলেন, এমন কোনো আইন করা যাবে না, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাও সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকারও যেন একই পথে না হাঁটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে যেসব ইতিবাচক বিষয় ছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে কেন আবার কাটাছেঁড়া করা হচ্ছে, তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

তিনি বলেন, গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলার লোক ছিল না। তারা চান, সরকার সফল হোক। তবে তারা মনে করেন, "আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, সেই সক্ষমতা আপনাদের নেই।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এই প্রস্তাবনায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাগত বক্তব্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে প্রশ্ন হলো, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে কি নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তুলব?

তিনি বলেন, “একজন Cyber Criminal এবং একজন সরকারের সমালোচক এক ব্যক্তি নন। Cyber Criminal-এর বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রয়োজন, কিন্তু রাজনৈতিক ভিন্নমতকে Cyber Crime বানানো যাবে না।

সাম্প্রতিক Cyber Protection (Amendment) Act, 2026, CPA2-এর খসড়া নিয়ে TIB, ICNLসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জনগণের মতামতের জন্য মাত্র ১০ দিন সময় যথেষ্ট নয়। আইন চূড়ান্ত করার আগে আরও সময় দিয়ে অর্থবহ জনপরামর্শ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “misinformation”, “rumour” এবং বিশেষ করে “derogatory to the State”-এর মতো অস্পষ্ট শব্দের ভিত্তিতে অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কোনো ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দ্রুত বিচারিক পর্যালোচনা, লিখিত কারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ICCPR-এর রাষ্ট্রপক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশ ও তথ্যের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো বিধিনিষেধ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। বিশ্বের আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত critical infrastructure, data protection, risk management এবং cyber resilience-এর ওপর গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই এগোতে হবে।

সরকারের প্রতি ৫ দফা আহ্বান

অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, কাল তারা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। আবার আজ যারা বিরোধী দলে আছেন, কাল তারা সরকারে যেতে পারেন। তাই এমন আইন প্রয়োজন, যা কোনো সরকারের হাতে বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে না।

এ জন্য সরকারের প্রতি তিনি পাঁচটি আহ্বান জানান—

১. আইন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করতে হবে।

২. ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’—এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

৩. কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ করা যাবে না।

৫. নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, তারা এমন Cyber Security Law চান, যা অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে, কিন্তু নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে সীমাহীন ক্ষমতা দেবে না। তারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা চান, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিনিময়ে নয়।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে অপরাধ দমন এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণ, গুজব” ও “মিসইনফরমেশন”, অনলাইন মানহানি, অপমান ও বুলিংকে অপরাধের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনের ভাষা অতিরিক্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশেষ করে আদালতের পূর্বানুমোদন ছাড়া কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লকের সুযোগ, “reason to believe”-এর মতো subjective মানদণ্ড এবং মতপ্রকাশ-সম্পর্কিত অপরাধে গ্রেফতারের ক্ষমতা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের source confidentiality এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষার বিষয়টিও আইনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া বলেন, গুজব, মিসইনফরমেশন, অপমান, হেয় করা বা বুলিংয়ের মতো অস্পষ্ট শব্দের ভিত্তিতে যেন বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা, সাংবাদিকতা বা জনস্বার্থের বক্তব্য অপরাধে পরিণত না হয়।

ব্যাংক হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ransomware, অনলাইন প্রতারণা কিংবা শিশুদের যৌন শোষণের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কিন্তু সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা, নীতির সমালোচনা করা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা কিংবা জনস্বার্থে তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে শুধু সেই কারণে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র সাইবার অপরাধীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী হবে; নাগরিকের কণ্ঠের বিরুদ্ধে নয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবু হানিফা, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন ও ব্যারিস্টার ইর্তিকা উদ্দিন।

সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক: প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তা, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, ছাত্রপক্ষের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফওজিয়া ফারিহা করবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শেখ মাহমুদুল হাসান আসিফ এবং সদস্য নুসরাত রহমান খানসহ এবি পার্টি লইয়ার্সের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ১০ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশনসহ যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


বরিশালে ১০ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশনসহ যুবক গ্রেপ্তার

বরিশালের উজিরপুরে অভিযান চালিয়ে ১০ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশনসহ মো. আতিকুর রহমান খোকন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে** উজিরপুর থানাধীন ইচলাদি টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশে সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সাকুরা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের যাত্রী মো. আতিকুর রহমান খোকনের কাছ থেকে ১০ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার মো. আতিকুর রহমান খোকন (৩৭) ঢাকার ডেমরা থানার বালুধীৎপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত জাকির হোসেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় উজিরপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৫৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

অভিযানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ

স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ।ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে এমন ভুয়া অভিযোগ তুলছেন স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্র । ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হওয়ার ঘটনার কথা বলে অযৌক্তিক দাবি স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের । নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামত সেখানে কম ব্যয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কম ব্যয় করাও তার অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বরিশাল বিভাগ কর্মকর্তা যেন এখন এক ‘সফল কর্মকর্তার নাম ’। ভুক্তভোগী লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ি। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকা পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু সেই ঘটনা এখন আর নেই। এখন ড্রেজার চলে কিন্তু গভীরতা বাড়ে এ এক অলৌকিক রহস্য।

সরকার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে কাজ হচ্ছে কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর দক্ষতায় নদীগুলো ড্রেজিং হচ্ছে সঠিকভাবে। সরকারের সফলতা বাড়ছে। জাহাজ আটকা পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিলো যাহা এখন ঘটে না।এটিও তাদের অপরাধ স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের কাছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে যাহা অনৈতিকভাবে কোন ঠিকাদার কে কাজ না করে বিল উত্তোলন করতে দেয়া হয় না। এটিও স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের কাছে অপরাধ।জ্বালানির টাকা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী চুরি করতে দেয় না অনেক অসাধু কর্মচারিদের মাথাব্যথার কারন এটি । বিগত দিনে জ্বালানি তৈল চুরি করতে পেরেছে তারাই তার সততার বিরুদ্ধে কথা বলছে গোপনে।

এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ড্রেজিং প্রকল্পে অনিয়ম আগে ছিলো বতর্মানে নেই। প্রধান প্রকৌশলীসহ বর্তমানে যারা রয়েছে তারা ভালো কাজ করতেছে। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে সেটিও ঠিক হয়ে যাবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলীসহ মামুন উর রশিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যে অর্জন তা প্রশংসনীয়।ড্রেজিং প্রকল্পটি আগের তুলনায় এখন অনেক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। প্রযুক্তিগত তদারকি ছাড়াই নদী খনন কখনোই এত সফলতা আসেনি। ড্রেজিং মনিটরিং সিস্টেম চালু করে এই সফলতা এসেছে।

এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র এই নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ নিয়ে তাই সফলতার গল্প তৈরি হচ্ছে সব মহলে। আর স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের একটি অসাধু চক্রের মন গড়া তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশ করে চলছে।

বিআইডব্লিউটিএর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী সিন্ডিকেট তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছড়াচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে একজন প্রকৌশলী হিসেবে মামুন উর রশিদের মত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা এমন একজন কর্মকর্তা পেয়েছি। তাঁর বিরল দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি আজ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও বলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা গোপনে অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ সত্য হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সংবাদমাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যেসব প্রকল্প বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে একজন সদস্য প্রকৌশলীর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু ছিল, সেটিও সংবাদ প্রকাশের আগে খতিয়ে দেখা আবশ্যক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে কর্মরত আছেন মো. মামুন উর রশিদের বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হল:

১. ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল এই পদে যোগদান করেন। সম্প্রতি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র নদী খনন (ড্রেজিং) প্রকল্পে অনিয়ম, কারিগরি তদারকির অভাব এবং অদক্ষতার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২. তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকাশিত এসব সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয়েছে।

৩. কথিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, খননকৃত বালু বা পলিমাটি নিয়ম মেনে নদীর পাড় থেকে দূরে না ফেলে মাঝনদীতে ফেলার কারণে তা পুনরায় নদী ভরাট করে ফেলছে, যার ফলে সরকারের ড্রেজিং প্রকল্পের প্রকৃত সুফল মিলছে না। কিন্তু অনুসন্ধানে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

৪. দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি সহকর্মীদের অন্তরঙ্গ বিশ্বাস ও গভীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।


৫. দক্ষতা, চৌকস ও অভিজ্ঞতার এক উজ্জ্বল নাম। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করে তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বলেন,কর্মজীবনে সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনিয়ম বা অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।
তিনি প্রকাশিত সংবাদগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,”সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করা অবশ্যই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহলের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হোক। কিন্তু মিথ্যা,বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে তাতে শুধু একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পরিশেষে তিনি বলেন, সময়ই সব কিছুর নির্ণায়ক,এবং সত্য কখনো চাপা থাকে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%