০৬:৪০ পি.এম
মিয়ানমারের অজগরটি অবশেষে টেকনাফ জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মরিচ ক্ষেতে দেওয়া জালে আটকে পড়েছিল এই অজগরটি। বনবিভাগ জানিয়েছে, অজগরটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট, ওজন ২০ কেজি এবং বয়স ৫-৬ বছর হতে পারে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফস্থ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সেন্টমার্টিন দ্বীপের লোকালয়ের মরিচ ক্ষেতের জালে আটকে পড়া একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেটি সেন্টমার্টিন থেকে স্পীডবোটযোগে টেকনাফে আনা হয়। এরপর সেটি টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেন্টমার্টিনে কোনও পাহাড় নেই এবং সেন্টমার্টিনের পাশের এলাকা হচ্ছে মিয়ানমার। তবে বলা হচ্ছে, অজগরটি মিয়ানমার থেকে এসেছে। সাধারণত দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে নানা ধরনের কাঠের টুকরো এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সেন্টমার্টিন উপকূলে ভেসে আসে। এ কারণে অজগরটি হয়তো কোনও কাঠের টুকরোতে পেঁচিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছে।
আব্দুর রশিদ আরও জানান, তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না এটি কোনো প্রজাপতির। অতীতে টেকনাফের পাহাড়গুলোতেও এরকম অজগর রয়েছে। এরচেয়ে বড় অজগরও টেকনাফের বনাঞ্চলে আছে। সুতরাং, অজগরটি শুক্রবার সন্ধ্যায় নিরাপদে গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
সাবেক সচিব ও সমুদ্র গবেষক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর জানান, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পড়ার এক গৃহস্থের বাড়িতে একটি অজগর জালে আটকা পড়ে। দ্বীপটির জীববৈচিত্র্যের তালিকায় কোনোকালেই পাইথনের উপস্থিতি নেই। দ্বীপটির সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে এটি উপযুক্ত নয় এবং খাদ্যশৃঙ্খলের জন্য হুমকি। অজগরটি আসার দু’টি সম্ভবনা আছে; হয়তো আরাকানের গহীন জঙ্গল থেকে বন্যার পানিতে ভেসে বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে এবং পরে সাগরের স্রোতের সাহায্যে সেন্টমার্টিনে এসে আশ্রয় নিয়েছে বা কেউ হয়তোবা সাপটিকে এনে এখানে ছেড়ে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ অংশের বাসিন্দা মুসা আলী শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ির আঙিনায় মরিচ ক্ষেতের জালের মধ্যে অজগরটিকে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। এত বড় অজগর আটকা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন