বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:০৪ পি.এম
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে গিয়ে ফরিদ হারিয়ে যান। তিনি মানবপাচারের শিকার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরেছেন।
চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে দুই পা হারানোর পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। তার পরিবার ধরেই নিয়েছিল যে ফরিদ হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ২৫ বছর পর তিনি দেশে ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার আশকোনা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ফরিদকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তার জন্য অপেক্ষা হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়ায় বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে দেখা করার।
ফরিদের ছোট ভাই সৈয়দ আলম বলেন, 'আমরা ধরে নিয়েছিলাম ফরিদ আর বেঁচে নেই।
কিন্তু এত বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কক্সবাজারে আমাদের বৃদ্ধ মা বড় ছেলের অপেক্ষায় আছেন। আমরা গরিব মানুষ। জানি না কী হবে। তবে আমরা আমাদের ভাইকে নিয়ে থাকব।'
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যায় ফরিদ। পরবর্তীতে তারা পাকিস্তানে পৌঁছান। সেখানে জীবিকার সন্ধানে কাজ করার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ফরিদ। পরে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে একজন মানবপাচারকারী তাকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর পাকিস্তান থেকে ইরান হয়ে তুরস্কে পৌঁছান ফরিদ। কিন্তু ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হয়নি। তুরস্কের সমুদ্রতীরে পানি বিক্রি করে প্রায় ১৪ বছর কাটিয়েছেন তিনি। অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে বসবাসের সময় দেশটির পুলিশ তাকে তিনবার আটক করে ক্যাম্পে রাখে। সবশেষ গ্রেপ্তারের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে ৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি নিজের ও বাবা-মায়ের নাম এবং 'উখিয়া, কক্সবাজার' এই তথ্যটুকু ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারছিলেন না।
বিমানবন্দরের এভসেক সিকিউরিটি তাকে পাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করে। এরপর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান পান।
পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর গত ১৯ আগস্ট বিকেলে ভিডিও কলে ফরিদের সঙ্গে তার ছোট ভাই সৈয়দ আলমের কথা বলানো হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভাইয়ের কণ্ঠ শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে ফরিদের হাতে ছয়টি আঙুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দ আলম। ছোটবেলার এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফরিদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদের বাবা আয়ুব আলী এখনও পাকিস্তানে রয়েছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, 'গত আট বছর বিমানবন্দরে আমরা ৪১ হাজার প্রবাসীকে সহায়তা দিতে পেরেছি। এর মধ্যে ফরিদের মতো ১৬৪ জন প্রবাসীকে তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে কাউকে খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন কাজ। তবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাকের সমন্বিত উদ্যোগে এমন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'শুধু পরিবারের কাছে ফেরানো নয়, ফরিদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে আরো কিছু করতে চাই, যাতে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।'
ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ টি এম মাহবুবুল করিম বলেন, 'মোহাম্মদ ফরিদের ঘটনা যে কাউকে স্পর্শ করবে। আমরা তার পাশে থাকব।'
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ফরিদের মতো জটিল ও মানবিক ঘটনায় ব্র্যাক পাশে থাকায় একটি মানবিক পুনর্মিলনের সাক্ষী হওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এ কে এম রাসেল বলেন, 'আমি দুই বছর ধরে বিমানবন্দরে কাজ করছি। আজকের এই পুনর্মিলন দেখে এবং এই প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।'
দীর্ঘ ২৫ বছরের অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে আপন ঠিকানায় ফিরেছেন ফরিদ। এখন তার সামনে একটাই পথ—উখিয়ার নাছির পাড়ায় ফিরে মায়ের মুখোমুখি হওয়া। যে মা এত বছর ধরে বড় ছেলের ফেরার আশায় দিন গুনেছেন, এবার সেই অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এই হামলাটি বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, স্থানীয় সময় ভোরে পরিচালিত হয়। এতে বেশ কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজধানীর একাংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদন অনুসারে, কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলার একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের ওপরের অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শুক্রবারকে কিয়েভের জন্য আনুষ্ঠানিক শোক দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেয়র ক্লিটসকো উল্লেখ করেন, কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি ছাড়াও আরও দুটি জেলায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এসব এলাকায় বেশ কিছু অনাবাসিক স্থাপনা, গুদামঘর, একটি স্কুল এবং একটি শিশু হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পর কিয়েভে প্রায় ৯০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, তাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত কাজ শুরু করে ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আকাশপথে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে ড্রোন তৈরির কারখানা, সামরিক ডিপো এবং লজিস্টিক হাব লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মস্কোর রণকৌশল ও সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার বছর পূর্ণ হলেও এখনো সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন তুলে নিলেন সংস্থাটির একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। হাঙ্গেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান শান্দোর চ্যানি এক চিঠির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব, পেশাগত সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক মান নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
চিঠিতে চ্যানি জানান, ফিফা সভাপতির প্রতি তার পূর্ববর্তী আস্থা বর্তমানে আর নেই। কেভিন লামুরকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করাকে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ‘শেষ ধাক্কা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লামুরকে গত সোমবার ফিফা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে তিনি বিশ্বকাপের স্বত্ব ও প্রতিযোগিতাগুলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার ব্যাপারে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছিলেন।
চ্যানির এই অবস্থানের মাধ্যমে ফিফায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফিফার আট ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে চ্যানিসহ পাঁচজন এখন ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন, কনকাকাফের প্রধান ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি, এএফসির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ার ডেবি হিউইট ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিনগেজ, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সভাপতি প্যাট্রিস মোটসেপে এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের ল্যামবার্ট মালটক এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছেন।
ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের একজন হিসেবে চ্যানি অভিযোগ করেন যে ইনফান্তিনো তাকে বারবার অবজ্ঞা করেছেন।
চিঠিতে চ্যানি উল্লেখ করেন, ইনফান্তিনোর ফিফাকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতার প্রতি তার যে বিশ্বাস ছিল, তা বিভিন্ন কারণে দুর্বল হয়েছে। বিশেষ করে কেভিন লামুরের বরখাস্তের ঘটনায় তার আস্থার শেষ ভিত্তিটুকুও নষ্ট হয়ে গেছে।
চ্যানি চলতি বছরের বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর নেওয়া কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বাইরের পক্ষের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা প্রাসঙ্গিক কিনা।
তাহলে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফিফার অভ্যন্তরীণ বিরোধ বর্তমানে আরও প্রকাশ্য রূপ লাভ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ মো. রেজাউল করিম (৩৫) নামে এক সহকারী শিক্ষককে আটক করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
আটক করা ব্যক্তির নাম মো. রেজাউল করিম এবং তিনি চাতুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি সৈয়দপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে রেজাউল করিমকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা করা হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য একটি স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে ইসরাইলের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, কোনো ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আরব লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ মাত্রায় অধিকার লঙ্ঘনের নতুন অধ্যায়।
তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করবে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন ও এর প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি।
সংগঠনটির ভাষ্য, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মৃত্যুদণ্ড এবং বন্দিদের অমানবিক বা নির্বিচার আচরণ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্ট বিধান দিয়েছে।
আরব লীগের অভিযোগ, মার্চে ইসরাইলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত আইন এবং এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ। এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষা দমন করা এবং ইসরাইলি কারাগারগুলোকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কেন্দ্রে পরিণত করা।
গত মার্চে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ সম্প্রসারণ করে একটি আইন পাস হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখন সতর্ক করে বলেছিল, আইনটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে।
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের অনেককে কোনো বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আটকাদেশের মাধ্যমে বন্দি রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের আটককে নির্বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ