বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৪ পি.এম
নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম আসাদুল আলম শেখ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুষদের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে আসাদুলকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আটকের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, হল সংসদের নেতারা ও জাকসুর নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আসাদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী ও জাকসু নেতাদের সূত্রে জানা যায়, আসাদুলের কক্ষে কয়েক মাস ধরে এক বহিরাগত অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে গিয়ে ওই ব্যক্তিসহ আসাদুলকে আটক করেন। পরে হল প্রশাসন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আসাদুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা করে।
এসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানান তারা। আসাদুলের মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আওয়াল শাওন, জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জাকসু নেতারা জানিয়েছেন।
এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক হোসনে আরার সঙ্গেও আসাদুলের যোগাযোগ ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুল আমেরিকা থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোর্টালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচারণামূলক সংবাদ প্রকাশ করতেন আসাদুল।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, আসাদুলের রুমে যাকে পাওয়া গিয়েছে, সে আমাদের ছাত্র না, বহিরাগত এবং অগোচরে হলে এসেছিল অনুমতি না নিয়ে। তার থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। আর, আসাদুলকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, আসাদুল নিজে স্বীকার করেছে যে চার-পাঁচ মাস ধরে তার বহিরাগত এক কাজিন তার রুমে অবস্থান করছে, যেটা বেআইনি। এছাড়া, আসাদুলের বিরুদ্ধে আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল এবং এখনো গোপনে সে এই নেটওয়ার্ক রক্ষা করে যাচ্ছে। হল সংসদ ও জাকসুর নেতাদের তথ্য সে (আসাদ) দেশে ও দেশের বাইরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাঠিয়েছে। তাকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। তার নামে মামলা হবে এবং প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হবে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ দায়ের করেছে এবং মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরের ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে মশকনিধন এবং জনসচেতনতামূলক বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে।
বুধবার পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায়, ওয়ার্ড দুটির বিভিন্ন এলাকায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া, নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও পরিত্যক্ত স্থানে জমে থাকা পানিতে লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং মশকনিধন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম।
চসিক জানায়, নগরীতে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু ওষুধ প্রয়োগ নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এই তথ্যটি বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়ের করা পৃথক দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
দুদকের তদন্তে হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং তার ভাই শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারুন অর রশীদের স্থাবর সম্পদের মূল্য ১২ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা। সব মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা।
আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। ফলে, দুদক তার সম্পদের তুলনায় ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
তদন্তে হারুনের দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে ৫ কাঠার প্লট, প্রায় ৮২ একর জমি, বনানীতে ১০.৩৬ শতাংশ জমি ও ভবন, উত্তরা সেক্টর-৩-এ আটতলা বাড়ি এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে জমির তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, শাহারিয়ারের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৮ টাকা। সব মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকা।
২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ছিল ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় বাদে সঞ্চয়ের সক্ষমতা ছিল ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা। ফলে, দুদক ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, হারুন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং এসব সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন ও স্থানান্তর করে মানিলন্ডারিং করেছেন। তার ভাই শাহারিয়ারেরও এসব সম্পদ অর্জন ও গোপন করতে সহযোগিতা করার কথা তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দণ্ডবিধির ১০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নাটোরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১২ টার দিকে একটি র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি সম্পন্ন হওয়ার পর শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবেক এমপি সুফিয়া হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য প্রদান করেন নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র এমদাদুল হক আল মামুন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুপালী বেগম এবং নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মহুয়া পারভীন লিপি প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গভীর রাতের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে আলকারাজকে বিদায় করে শেল্টনের চমক
৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের মহাকাব্যিক এক লড়াই। শেষ পর্যন্ত হাসলেন বেন শেল্টন।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে ২৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় অর্জন করেছেন।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় আজ রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে শেষ হওয়া এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে শেল্টন ৬-৭ (৫), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) গেমে আলকারাজকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে পৌঁছান। ম্যাচ পয়েন্টে ১৪৬ মাইল গতির দুর্দান্ত একটি এইস মারার মাধ্যমে তিনি জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরা ছিল। পঞ্চম সেটের সপ্তম গেমে দুজনের পয়েন্ট ছিল সমান ১৪০-১৪০। শেল্টনের সার্ভে তখন আলকারাজ চাপ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শেল্টন কখনো লাফিয়ে উঠে, কখনো পিছিয়ে গিয়ে স্প্যানিশ তারকাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে সেই চাপ সামলে নেন।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ছিল খুব সামান্য। শেল্টন মোট ১৬৯ পয়েন্ট জিতেছেন, অন্যদিকে আলকারাজের পয়েন্ট ১৬৪। প্রথম সার্ভে পয়েন্ট জয়ের শতাংশেও শেল্টন কিছুটা এগিয়ে ছিলেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের কারণে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। আলকারাজ ৫৩টি আনফোর্সড এরর ও ৭টি ডাবল ফল্ট করেছেন।
শেল্টনের আনফোর্সড এরর ছিল ৩৫টি।
এই ম্যাচের আগে শেল্টন কখনো বিশ্ব টেনিস র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তিন খেলোয়াড়কে হারাতে পারেননি। আলকারাজের বিপক্ষে তার আগের তিন ম্যাচেও জয় ছিল না। অবশেষে ১৭ বারের চেষ্টায় শেল্টন শীর্ষ তিনে থাকা একজন খেলোয়াড়কে হারানোর স্বাদ পেলেন।
ইউএস ওপেন দিয়েই চার মাস পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরেছিলেন আলকারাজ। সাতবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই তারকাকে এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো। শেষ সেটের একপর্যায়ে তাকে ক্লান্ত ও হতাশ দেখাচ্ছিল।
ম্যাচ শেষে শেল্টন বলেছেন, ‘এটাই (আলকারাজের ক্লান্তি) আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, এটাই আমাকে এই জয় এনে দিয়েছে।’ তিনি গভীর রাত পর্যন্ত গ্যালারিতে থেকে ‘ইউএসএ, ইউএসএ’ বলে সমর্থন জানানোর জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সেমিফাইনালে শেল্টনের প্রতিপক্ষ আরেক আমেরিকান ফ্রান্সেস টিয়াফো। এর ফলে এবারের ইউএস ওপেনে নিশ্চিতভাবেই একজন আমেরিকান খেলোয়াড় ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ