প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম আসাদুল আলম শেখ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুষদের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে আসাদুলকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আটকের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, হল সংসদের নেতারা ও জাকসুর নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আসাদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী ও জাকসু নেতাদের সূত্রে জানা যায়, আসাদুলের কক্ষে কয়েক মাস ধরে এক বহিরাগত অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে গিয়ে ওই ব্যক্তিসহ আসাদুলকে আটক করেন। পরে হল প্রশাসন ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আসাদুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা করে।
এসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানান তারা। আসাদুলের মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আওয়াল শাওন, জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জাকসু নেতারা জানিয়েছেন।
এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক হোসনে আরার সঙ্গেও আসাদুলের যোগাযোগ ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুল আমেরিকা থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোর্টালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচারণামূলক সংবাদ প্রকাশ করতেন আসাদুল।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, আসাদুলের রুমে যাকে পাওয়া গিয়েছে, সে আমাদের ছাত্র না, বহিরাগত এবং অগোচরে হলে এসেছিল অনুমতি না নিয়ে। তার থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। আর, আসাদুলকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, আসাদুল নিজে স্বীকার করেছে যে চার-পাঁচ মাস ধরে তার বহিরাগত এক কাজিন তার রুমে অবস্থান করছে, যেটা বেআইনি। এছাড়া, আসাদুলের বিরুদ্ধে আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল এবং এখনো গোপনে সে এই নেটওয়ার্ক রক্ষা করে যাচ্ছে। হল সংসদ ও জাকসুর নেতাদের তথ্য সে (আসাদ) দেশে ও দেশের বাইরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাঠিয়েছে। তাকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। তার নামে মামলা হবে এবং প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হবে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ দায়ের করেছে এবং মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন