০৫:০৩ পি.এম
নেশার টাকা জোগাড় করতে বাধা দেওয়ার কারণে এবং দাদির সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার বিরোধের মধ্যে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে নাতি মো. খলিল মোড়ল, যিনি ইরফান নামে পরিচিত, তাকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। তিনি খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত নুর জাহান, যিনি খানো বিবি নামেও পরিচিত, ছিলেন আসামির দাদি। তার সম্পত্তি নাতি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ইরফানের মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করতেন। এ বিষয়টি নিয়ে মা ও ছেলের পরিবারে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো এবং ঝগড়া লাগতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও এতে সফল হননি।
এর মাঝে ইরফান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন এবং এমনকি তার মা-ও ছেলের নেশার টাকা জোগাতে অর্থ দিতেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দাদি এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ইরফানের বাবা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন, কিন্তু পরে তার মা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করেন ইরফান। এসময় তার দাদি নুর জাহান তাকে বাধা দেন। এরপর ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠতে গেলেও দাদি তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে নুর জাহানের মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ মো. খলিল মোড়ল, যিনি ইরফান নামে পরিচিত,কে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত আসামি ইরফানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন