০৫:০৩ পি.এম
যুদ্ধের প্রারম্ভের সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন- ‘প্রস্তর যুগে পাঠাবো। সবকিছু মুছে ফেলবো’।
বর্তমানে, সেই যুদ্ধ সাড়ে পাঁচ মাস অতিক্রম করেছে। এই সময়কাল চলাকালীন ইরানের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বহু সংখ্যক ইরানি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবুও তেহরান পিছু হটেনি।
বরং, ইরান এখন ট্রাম্পের জন্য এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আতঙ্ক এমনভাবে ট্রাম্পের মনে প্রভাব ফেলেছে যে, তিনি কোনোভাবেই নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন
একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়- তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময়ের ঘটনা। সেই সময়ে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কের কারণে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোপনে বিমান বদল করেছিলেন। এই সময় তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বিমান থেকে সরিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে পাঠানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের উল্লেখ করে বিবিসি জানিয়েছে, গত মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের পর ট্রাম্পকে প্রথমে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু এরপর গোপনীয় একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাটারিং ট্রাককে বিমানের দরজা পর্যন্ত উঁচু করে রাখা হয়েছিল। ওই ট্রাকের আড়াল ব্যবহার করে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই বিমানটি আসলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বোয়িং ৭৫৭-এর পরিবর্তিত সংস্করণ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও ওই সময়ে জানতেন না যে, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে থাকা বিমানে নেই।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর
বিমানে হামলার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হুমকি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করেছিল, যার ফলে ইরান ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
তবে, হোয়াইট হাউস এ সময়ে গোপনে বিমান বদলের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ওই সময়ে ট্রাম্প নিজেও ইরানকে তার জীবনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ন্যাটো সম্মেলনের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘নাম্বার ওয়ান টার্গেট’।
এর এক দিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা শুরু করেছিল। ফলে, ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তালেবান: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া
প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। ট্রাম্প তুরস্কে পৌঁছেছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। তবে সেখান থেকে ফেরার সময়ে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেছিলেন, পুরোনো বিমানটিতে তিনি ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির জন্য’ ফিরতে চান।
৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতেও দেখা যায়। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানে ওঠার পর আলাদাভাবে তাকে গোপনে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিমানের যে পাশে ট্রাম্প প্রকাশ্যে উঠেছিলেন, তার বিপরীত পাশে একটি ক্যাটারিং ট্রাককে বিমানের দরজার উচ্চতা পর্যন্ত তুলে রাখা হয়েছিল। ওই ট্রাকের আড়ালেই তাকে সি-৩২এ বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আলাদাভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করে ওই সি-৩২এ বিমানে ওঠেন। উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টিকে স্বাভাবিক বিমানযাত্রা হিসেবে তুলে ধরা।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে
সাংবাদিকদের জানানো হয়নি প্রেসিডেন্ট বিমানে নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকরা পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ওঠেন। তাদের বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও জানতেন না যে, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে একই বিমানে নেই।
এর মাঝে, ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ আলাদাভাবে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায়। পরে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবতরণের পর, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ট্রাম্পকে নামতে দেখা যায়।
তবে, সি-৩২এ থেকে ট্রাম্পকে আবার কীভাবে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এরপর, ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন এবং সেটিতে করে ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য কী
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াং গোপন বিমান বদলের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানকে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের সুরক্ষার জন্য অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় সজ্জিত একটি ‘স্টেট-অব-দ্য-আর্ট’ বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প কিংবা তাকে বহনকারী বিমানে হামলার একটি নির্দিষ্ট হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল, বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসও এর আগে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমানটি নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে দেশে ফেরানোর সময় সিক্রেট সার্ভিস তাকে অন্য একটি বিমানে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিল।
এই সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিককে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। পরে মার্কিন বিচার বিভাগ বিবিসিকে জানায়, গোপন তথ্য বেআইনিভাবে ফাঁস হওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন