ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ, ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল বন্ধ


দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ, ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল বন্ধ

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েক ডজন স্কুল মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতানে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে, পন্টিয়ানাকের মেয়র শহরের ওপর ভেসে আসা ধোঁয়ার কারণে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

সুরাবায়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পন্টিয়ানাকের সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক হাজার।

বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে পাঠ নেবে বলে সোমবার মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন। তবে কতটি স্কুল এ সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে, তা উনি জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছি। বিশেষ করে রাত ও সকালে। কারণ ধোঁয়ার আস্তরণ ইতোমধ্যে পন্টিয়ানাক শহর ঢেকে ফেলেছে।’

জাভা দ্বীপে দমকলকর্মীরা নবম দিনের মতো একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। গত সোমবার শুরু হওয়া দাবানলে ইতোমধ্যে ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

শনিবার থেকে দর্শনার্থীকদের জন্য বন্ধ থাকা ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানের এই আগুন ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বড় দাবানলের মধ্যে একটি। দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার দমকলকর্মী এসব আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছেন।

আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।

চলতি বছরে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাদ্য মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।

পূর্ব জাভার ব্রোমো উদ্যানে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বা ২ হাজার ২০০ একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এটি ১ হাজার ২০০টির বেশি ফুটবল মাঠের সমান এবং পুরো উদ্যানের প্রায় ২ শতাংশ এলাকা।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে আগুন নেভানো যায় এবং এলাকায় পানি ছিটানো যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজ সকল এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এরপর পানি ছিটিয়ে নিশ্চিত করা হবে, যাতে আগুন আবার না ছড়ায়।’

আগুন নিয়ন্ত্রণে ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সহায়তায় তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক কাজ করছে।

দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত

নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো সোমবার বলেছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ইন্দোনেশিয়া ৪৩টি হেলিকপ্টার এবং সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান দায়িত্বে নিয়োগ করেছে।

এ প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর জন্য আকাশে মেঘ থাকা প্রয়োজন।

এল নিনোর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। বিএমকেজি উল্লেখ করেছে, জুলাই মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক ২৬.২ ডিগ্রির চেয়ে বেশি।

১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুজনিত ঘটনা, যার কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে স্পষ্ট বার্তা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে। সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণা টিটিসি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন ও প্রবাসীদের দিকনির্দেশনায় গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


নেত্রকোণা টিটিসি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন ও প্রবাসীদের দিকনির্দেশনায় গুরুত্ব

নেত্রকোণা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক টিটিসিতে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ৩২০ জন প্রশিক্ষণার্থীর সামগ্রিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তিনি জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ক্যাড অপারেশন, কম্পিউটার অপারেশন, ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স এবং টেইলরিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিংসহ বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথোপকথন করেন এবং তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

এছাড়াও বিদেশে গমনেচ্ছু ১০০ জন কর্মীর জন্য আয়োজিত প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নানা চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে তিনি তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রবাসে অবস্থানকালে যেকোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোণা টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঋত্বিক চৌধুরী এবং টিটিসির ইন্সট্রাক্টর সাইদুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের জোটে কেন যোগ দেয়নি মিসর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের জোটে কেন যোগ দেয়নি মিসর

মিসর সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কারণ, তা হলো, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন। আঙ্কারার টানা দুই বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং মিসরকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও, কায়রো শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।

সৌদি আরবের মক্কায় গোপনীয়তার সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর মতো যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায়, শক্তিশালী সামরিক শক্তির অধিকারী মিসরকে এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম মূল অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা এবং আফ্রিকায় কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকে আঙ্কারা ও রিয়াদের সঙ্গে কায়রোর নীতিগত মিল থাকলেও, চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশটি চুক্তিতে সই করা থেকে পিছিয়ে যায়।

মিসরের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কারণে অবদান রেখেছে। প্রথমত, ইসরায়েলের প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কায়রোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তিতে যোগ দিলে, মিসর ইসরায়েলের তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় মিসর নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এছাড়া, আবুধাবির কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি, আমিরাতের সঙ্গে মিসরের আলাদা প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে। এই কারণে সৌদি-তুরস্ক অক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ে আমিরাতকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি নিতে চাননি কায়রো। তাছাড়া, ভারতের সঙ্গে উদীয়মান বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক ব্লকে পুরোপুরি আবদ্ধ না হওয়ার নীতিও এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

তবে, তুরস্ক কায়রোর এই অবস্থানকে সাময়িক হিসেবে দেখছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কারিগরি ও কূটনৈতিক কিছু বিষয় মীমাংসা হলে ভবিষ্যতে মিসরও এই নিরাপত্তা জোটের অংশ হতে পারে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই না করলেও, আঞ্চলিক অনেক বিষয়ে দেশটি ইতিমধ্যে এই জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়: ডিসি ফরিদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়: ডিসি ফরিদা

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের প্রকৃত ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তিনি মনে করেন, নারী এগিয়ে গেলে পরিবার, সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘এসপিআরই’ প্রকল্পের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকার জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উন্নয়ন কোনো একক বা স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। মানুষের জীবনে প্রকৃত ও টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রয়োজন। আর এই ধরনের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে, তাদের সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। এজন্য প্রান্তিক নারীদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা, প্রযুক্তি (আইসিটি), কারিগরি শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক প্রান্তিক নারীদের সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগকে সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আইনি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবাগুলো যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আয়মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নারীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ ও তহবিল, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং স্থানীয় ও অনলাইন বাজারে নারীদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণনের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আরও দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের মতামত ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইইডির মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকা জেলা প্রশাসন প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগণের কল্যাণ এবং নারী ক্ষমতায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে তিনি সমাজের প্রতিটি নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগণের উন্নয়নে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৯০৮টি মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৯০৮টি মামলা

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ১ হাজার ৯০৮টি মামলা করেছে।

গতকাল (সোমবার) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই মামলা করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে রয়েছে ১০টি বাস, ১টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১৪টি সিএনজি এবং ৩৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৬টি মামলা।

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে পাওয়া গেছে ১২টি বাস, ১৫টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি এবং ৭৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫টি মামলা।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে রয়েছে ১১টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ডভ্যান, ৫৮টি সিএনজি এবং ১৩৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৭৭টি মামলা।

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৭টি বাস, ২৯টি ট্রাক, ১৫টি কাভার্ডভ্যান, ২৭টি সিএনজি এবং ৫৪টি মোটরসাইকেলসহ ২১৬টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে দেখা গেছে ২৪টি বাস, ৪টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি এবং ৭৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯২টি মামলা।

ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে মোট ৪০টি বাস, ২৮টি ট্রাক, ৪৩টি কাভার্ডভ্যান, ৪৮টি সিএনজি, ১৮০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৫৩টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৮টি বাস, ৯টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি এবং ৮৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩৮টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে পাওয়া গেছে ৩৪টি বাস, ২টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩১টি সিএনজি এবং ৭০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২১৯টি মামলা।

অভিযানকালে মোট ৬৯৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৬৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%