বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৫২ এম
টিকটক মাধ্যমে পরিচয়ের পর, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের টানে টাঙ্গাইলের এক শিক্ষকের স্ত্রী চাঁদপুরে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হন ওই নারী। এই ঘটনায় অটোচালককে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর বাগাদি ইউনিয়নের ইচলি রোডের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন অটোচালক মোরশেদ আলম দুলাল। অভিযোগ রয়েছে, টিকটকে পরিচয়ের পর প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই নারীকে চাঁদপুরে নিয়ে আসলে আরও অভিযোগ উঠে যে, তাঁর গলার প্রায় এক লাখ টাকার স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন দুলাল। এটির সাথে সাথে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এর আগে তিনি টিকটক ও ফেসবুকে একাধিক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে চাঁদপুরে এনে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন।
এদিকে, স্ত্রী নিখোঁজ হলে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাগাদি এলাকা থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে টাঙ্গাইল থেকে ওই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা এসে নারীকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতেই নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, অভিযুক্ত যুবককে তাঁর বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে টাঙ্গাইলে এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে আবার আটক করে টাঙ্গাইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউ সহ একাধিক বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন।
বিরোধীরা এবং কাকরচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন পরিস্থিতি ভালো দিকে এগোচ্ছে না। ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পড়েছেন চরম বেকায়দায়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসার কারণে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। নিট কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তারা আন্দোলন করছেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং আন্দোলন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পরেও বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।
লখনউতে একটি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে যেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের আটক করে। বিজেপি নেতা পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনে।
এদিকে, দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে গড়িয়েছে। ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদে পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত নির্দেশনা দেয় যে পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা হোক। আদালত বলছে, জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলার দায়িত্ব পুলিশের ছিল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুর হাট এবং পুরানবাজারের বিভিন্ন পাইকারী পলিথিন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা। এসময় অভিযানে ২৭০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয় এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২১.০৭.২০২৬ খ্রি. তারিখে জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর অধীনে ০৫ টি মামলায় ০৫ জনকে মোট ১,৩০,০০০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত প্রায় ২৭০ কেজি পলিথিন পরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের জিন্মায় প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং বিতর্কিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং গণগ্রেফতার সত্ত্বেও আন্দোলনের ময়দান ছাড়তে রাজি নয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাদের মূল দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই চলমান থাকবে।
বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের চিত্রের মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্ট অভিমুখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মিছিল, যেখানে এ সময় পুরো নয়াদিল্লিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিল্লির রাস্তায় বসানো ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হতে চাইলেও পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী আইনপ্রণেতা তরুণদের সমর্থনে রাস্তায় নামেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্না শুরু করলে পুলিশ তাদের আটক করে সরিয়ে নেয়।
সোনা বিষ্ট নামের একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, "সরকার যদি মনে করে জেন-জি-এর ওপর এই নির্যাতন চালিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দেব না।"
এখন পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথে আছড়ে পড়া এই আন্দোলনের পেছনে বেশ কিছু বিশেষ দাবি রয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ।
এছাড়াও, তারা সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর কেন্দ্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। একই সাথে, পরীক্ষা পিছানোর কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই আন্দোলনের অবকাঠামো একটি অদ্ভুত ও ব্যঙ্গাত্মক ইতিহাস রয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে 'তেলাপোকা' এবং 'সমাজের পরজীবী' বলে মন্তব্য করলে দেশে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। ওই অপমানজনক মন্তব্যকে হাতিয়ার বানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও সাবেক আম আদমী পার্টির কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে গঠন করেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'।
এই প্ল্যাটফর্মটি অতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ফলোয়ার অর্জন করেছে, যা দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল বিজেপির অনুসারীদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। এ আন্দোলনের প্রতি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও সংহতি প্রকাশ করছেন।
বর্তমানে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শতাধিক আন্দোলনকারী অবস্থান করে রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর পুলিশের এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করছে। ককরোচ পার্টির পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিভ্রান্তিকর বা মৌখিক আশ্বাস তারা গ্রহণ করবেন না।
দাবির পক্ষে দৃশ্যমান এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তারা দিল্লির রাজপথ ত্যাগ করবেন না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি বন্দরগুলো ব্যবহার না করার জন্য ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, এর পর বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং সেই খবর পাওয়া গেছে।
শিপ ট্র্যাকিংয়ের ডেটা অনুযায়ী, লোহিত সাগর দিয়ে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। উল্লেখযোগ্য, এই ট্যাংকারগুলোর মধ্যে দুটির নতুন গন্তব্য হিসেবে সুয়েজ খালের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, অন্য দুটি ট্যাংকার লোহিত সাগরের উন্মুক্ত জলপথকে তাদের গন্তব্য হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
আমাদের কাছে থাকা শিপিং ডেটা বলছে, জেদ্দার বন্দরকে সম্ভাব্য পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করার পর একটি কার ক্যারিয়ারও অর্থাৎ গাড়ি পরিবহনকারী জাহাজ দৃশ্যত এডেন উপসাগরে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি, এর আগে, চীন ও ভারতের জন্য তেল বহনকারী তিনটি ট্যাংকারও লোহিত সাগর এড়িয়ে ইয়েমেনের উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সুয়েজ খালের দিকে রওনা হয়েছিল।
২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘নৌ-অবরোধ’ অথবা সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা প্রদান করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের ঘোষণার পর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ, সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথে নির্ভরশীল। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ