ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন


৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পুরো পরিবারের নিহত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণের ফলাফল অনুযায়ী—মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী এবং বাসযাত্রীদের মধ্যে একসঙ্গে পুরো পরিবার অথবা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা যায়, গত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

মোটরবাইক দুর্ঘটনায়: মোটরবাইক আরোহী হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। অর্থাৎ, ১৯৩টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং ১৫৯টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অটোরিকশা দুর্ঘটনায়: অটোরিকশা যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ১১৮টি, ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯২টি, ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৫৩টি, ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৮টি এবং ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। মোট ৫২৫টি দুর্ঘটনায় ১,৭২৮ জন নিহত হয়েছেন।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায়: মাইক্রোবাস আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৬টি, ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৯টি, ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ২৮টি, ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪টি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১টি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায়: প্রাইভেটকার আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩১টি, ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ২৪টি এবং ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায়: অ্যাম্বুলেন্স আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৫টি, ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯টি, ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৭টি এবং ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩টি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন প্রতিমন্ত্রী টুকু

বাস দুর্ঘটনায়: বাসযাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯টি এবং ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৬টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়েছেন।

পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনায়: পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১টি।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ

১. পরিবারের সবাই একসঙ্গে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি;

আরও পড়ুন: নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

২. মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল;

৩. অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা;

৪. মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অদক্ষতা এবং বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো;

৫. মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো;

আরও পড়ুন: সমবায় আন্দোলনকে যুগোপযোগী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

৬. ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।

সুপারিশ

১. মোটরবাইক আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করা;

২. ট্রাফিক আইন মেনে মোটরযান চালানো;

আরও পড়ুন: তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় না রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান: অর্থমন্ত্রী

৩. সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ করা;

৪. গ্রামীণ সড়ক মহাসড়কে সরাসরি সংযুক্ত না করে নিরাপদ রোড ডিজাইন তৈরি করা;

৫. সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল নজরদারি করা;

৬. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা;

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

৭. সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান, ৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


মধুপুরে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান, ৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মোট ৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চুনিয়া ও আউশনারা ইউনিয়নের মোটেরবাজার এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকা অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করেন এসআই রফিকুল ইসলাম। এ সময় এএসআই মোস্তাইন, এএসআই আরিফসহ সঙ্গীয় ফোর্স চুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। অভিযানে চুনিয়া সরকারপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি অভিযানে এসআই কামরুল ইসলাম ও এএসআই পিন্টু তালুকদারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স আউশনারা ইউনিয়নের মোটেরবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২ কেজি গাঁজাসহ আনছার আলী (৪০) ও জয়নাল আবেদীন (২৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এবং দুটি মামলার দুই জন আসামী পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি অভিযানের ঘটনায় মধুপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মধুপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বখ্যাত শেফ গর্ডন রামসের ৬০তম জন্মদিন আজ উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


বিশ্বখ্যাত শেফ গর্ডন রামসের ৬০তম জন্মদিন আজ উদযাপন

রান্নার জগতে গর্ডন রামসের নাম শুনলেই মনে পড়ে কঠোর সমালোচনা, তীক্ষ্ণ মন্তব্য এবং অসাধারণ খাবারের কথা। যদিও টেলিভিশনের পর্দায় তিনি রাগী স্বভাবের জন্য পরিচিত, তবে রান্নার দক্ষতা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় সাফল্যের কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি অর্জন করেছেন। আজ ৮ নভেম্বর, ৬০ বছরে পা রাখলেন এই তারকা রাঁধুনি।

১৯৬৬ সালের ৮ নভেম্বর স্কটল্যান্ডের জনস্টোনে গর্ডন জেমস রামসের জন্ম। ছোটবেলায় তার আগ্রহ ফুটবলে ছিল এবং পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু হাঁটুর চোটের কারণে তাকে সেই পথ থেকে সরে আসতে হয়। এরপর তিনি হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে রান্নার জগতে মনোযোগী হন।

কর্মজীবনের শুরুতে ইউরোপের কয়েকজন খ্যাতিমান শেফের অধীনে কাজ করেন রামসে। ১৯৯৩ সালে লন্ডনের রেস্তোরাঁ অবারজিনে প্রধান শেফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রেস্তোরাঁটি মিশেলিনের দুটি তারকা অর্জন করে। ১৯৯৮ সালে লন্ডনে নিজের নামে রেস্তোরাঁ চালু করেন এবং পরে সেটি মিশেলিনের তিন তারকা অর্জন করে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসার পাশাপাশি টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন রামসে। ‘হেলস কিচেন’, ‘মাস্টারশেফ’, ‘মাস্টারশেফ জুনিয়র’ এবং ‘কিচেন নাইটমেয়ারস’-এর মতো অনুষ্ঠান তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। রান্নার ভুল নিয়ে প্রতিযোগীদের সঙ্গে তার কঠোর আচরণ ও সরাসরি মন্তব্য দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তার ওপর নির্মিত ছয় পর্বের তথ্যচিত্র ‘বিইং গর্ডন রামসে’। এই তথ্যচিত্রে তার ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন এবং লন্ডনের ২২ বিশপসগেট ভবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি বিবিসির তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘রাইজ অব দ্য রকস্টার শেফ’-এও তাকে দেখা গেছে। এতে তার সঙ্গে শেফ মার্কো পিয়ের হোয়াইট ও হেস্টন ব্লুমেনথালের পেশাগত সম্পর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

রান্না, রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং টেলিভিশন—এই তিন ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন গর্ডন রামসে। তিনি ছয় সন্তানের বাবা এবং স্ত্রী তানার সঙ্গে ১৯৯৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদ ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান: প্রিন্স উইলিয়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


মসজিদ ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান: প্রিন্স উইলিয়াম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম (বর্তমান প্রিন্স অব ওয়েলস) রাজকীয় দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। তবে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে মুসলিমবিদ্বেষ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তার অবস্থান, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের বিষয়ে তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও বহুত্ববাদী চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

উইলিয়ামের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে না দেখা, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের সামাজিক ঐক্য।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে দাঁড়িয়ে ইসলামের পক্ষে বক্তব্য

প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায় ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল। ওই দিন তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ পরিদর্শন করেন। একই বছরের ১৫ মার্চ সেখানে এবং লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন। হামলাটি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

হামলার পর নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, বেঁচে যাওয়া মুসল্লি এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি জানাতে উইলিয়াম সেখানে যান। তার বক্তব্যের শুরুতেই ছিল আরবি অভিবাদন—আসসালামু আলাইকুম।

তিনি বলেন, মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান; এটি সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি আশ্রয়স্থল। সন্ত্রাসী হামলাকারী এমন একটি স্থানে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যে স্থান মানুষের ঐক্য ও পরোপকারের প্রতীক। কিন্তু সে সফল হয়নি।

উইলিয়ামের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের প্রকৃত চেহারা দেখিয়েছে—শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ধর্ম হিসেবে।

তিনি আরো বলেন, কোনো একটি সম্প্রদায় যখন বিদ্বেষ ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন হিজাব পরা কিংবা আজান প্রচারের মতো সাধারণ ধর্মীয় আচরণও ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আশ্বাস তৈরি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলা বরং সমাজের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে মুসলিম বন্ধুদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ইসলামকে সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষের মুসলিম পরিবারগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংকটকালে পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

এখানে তার বক্তব্যের একটি বিশেষ দিক লক্ষণীয়। তিনি মুসলমানদের শুধু সন্ত্রাসী হামলার শিকার একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক সংহতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, চরমপন্থার সব রূপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। তার মতে, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা প্রমাণ করেছে, ঘৃণার বৈশ্বিক মতাদর্শ মানুষকে বিভক্ত করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও মানবিকতার শক্তি জয়ী হতে পারে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরকারি ওয়েবসাইটে তার এই বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি এবং জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের টাগেসপিগেলও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।

পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফর: মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ

প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস ক্যাথরিন ২০১৯ সালের ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সফর ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সমসাময়িক পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ।

১৮ অক্টোবর তারা লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন করেন। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত এই মসজিদ উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন।

মসজিদে তাদের স্বাগত জানান ঐতিহাসিক ও লেখক ফকির সৈয়দ আয়াজউদ্দিন এবং মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল খাবির আজাদ। তারা রাজদম্পতিকে মসজিদের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন।

মসজিদে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও আন্তধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় মসজিদের ইমাম পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং সেগুলোর ইংরেজি অর্থ ব্যাখ্যা করেন।

মসজিদের স্থাপত্যের বিশালত্ব ও পরিবেশের প্রশান্তি দেখে রাজদম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাদের এই সফরে মুসলিম ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

উইলিয়ামের বাবা চার্লস ২০০৬ সালে এবং মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা ১৯৯৬ সালে একই মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। মসজিদের খতিবের সঙ্গে আলাপে উইলিয়াম তাদের পরিবারের সঙ্গে মসজিদটির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

বায়তুল আকসা মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম

প্রিন্স উইলিয়াম ২০১৮ সালের ২৮ জুন ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য সফরের শেষ দিনে তার এই পরিদর্শন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যের ১৯৪৮ সালের পর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্থান পরিদর্শনের ঘটনা ছিল এটি।

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে স্বাগত জানান জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াক্‌ফ বিভাগের পরিচালক শেখ আজ্জাম আল-খতিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জর্ডান পরিচালিত ধর্মীয় ট্রাস্টের কর্মকর্তারা। ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দলও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।

প্রিন্স উইলিয়াম আল-আকসা মসজিদ ও এর প্রাঙ্গণে অবস্থিত সোনালি গম্বুজের কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক পরিদর্শন করেন। মুসলমানদের কাছে আল-হারাম আল-শরিফ নামে পরিচিত এই প্রাঙ্গণ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

প্রিন্স উইলিয়ামের ২০১৮ সালের সফর তাই কেবল একটি রাজকীয় পরিদর্শন ছিল না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর হিসেবেও বিবেচিত হয়েছিল।

মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা

উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে আড়াল করে কেবল নাগরিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।

তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচরণ, হিজাব এবং আজানের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ কোনো সমাজের জন্য স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে তাদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পরিবর্তে সেই পরিচয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এটি ইউরোপীয় সমাজে মুসলিম অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে হিজাব, মসজিদ, ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রকাশ্যে ধর্মীয় পরিচয় ধারণের অধিকার নিয়ে যখন বিভিন্ন দেশে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন উইলিয়ামের বক্তব্য ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

তবে তার বক্তব্য থেকে ব্রিটেনের প্রতিটি অভিবাসন, ধর্মীয় পোশাক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতির প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন অনুমান করা যাবে না। তিনি মূলত আক্রান্ত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কথা বলেছেন।

ইসলামবিদ্বেষ ও চরমপন্থার মধ্যে পার্থক্য

উইলিয়ামের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মুসলমানদের সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতাকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ক্রাইস্টচার্চের ভাষণে তিনি সন্ত্রাসী হামলাকে একটি বিকৃত মতাদর্শের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চার্লসটনের গির্জায় হামলা, পিটসবার্গের সিনাগগে হত্যাকাণ্ড, লন্ডনের ফিনসবারি পার্কে হামলা এবং শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

অর্থাৎ তার বিবেচনায় সহিংস চরমপন্থা কোনো একটি ধর্মের একক সমস্যা নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতার পেছনে ঘৃণা ও উগ্র মতাদর্শ কাজ করে।

এই অবস্থান ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গোটা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা হলে সামাজিক বিভাজন বাড়ে এবং চরমপন্থীরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।

উইলিয়াম তাই ঘৃণার মোকাবিলায় ভালোবাসা, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বৃহত্তর ধর্মীয় সহাবস্থাননীতি

উইলিয়ামের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাংবিধানিক ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়। ব্রিটিশ রাজা একই সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গভর্নর। কিন্তু আধুনিক বহুধর্মীয় ব্রিটেনে রাজপরিবারের দায়িত্ব শুধু খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষা নয়; বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রাজপরিবারের সদস্যদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ, মসজিদ পরিদর্শন এবং ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।

উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ সফর ও পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার বাবার দীর্ঘদিনের আন্তধর্মীয় সংলাপের কর্মসূচিকে সরাসরি উইলিয়ামের নিজস্ব দার্শনিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান

প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলামবিষয়ক প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মুসলমানদের প্রতি সম্মান, ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তা, সামাজিক সহাবস্থান এবং ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশেষ করে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে তার বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে তিনি শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি শোক প্রকাশ করেননি; বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানবিকতা, পারিবারিক সংহতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের শান্তি ও বোঝাপড়ার চেহারা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফরে তার অংশগ্রহণ মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তার প্রকাশ্য অবস্থান মূলত মানবিকতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তার এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মর্যাদা স্বীকার করার ওপর।

উইলিয়ামের বক্তব্যের মূল শিক্ষা হচ্ছে, ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সংহতির মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে তার প্রকাশ্য অবস্থান থেকে অন্তত এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিনারদের জন্য খুলছে সিলেটের উইকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


স্পিনারদের জন্য খুলছে সিলেটের উইকেট

সিলেটে টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের শুরুটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল। প্রথম ঘণ্টায় টাইগাররা উইন্ডিজের একটি উইকেটও নিতে পারেনি। তবে সেশনের শেষ ঘণ্টায় দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ মধ্যাহ্নবিরতিতে খানিকটা স্বস্তি নিয়ে যায়।

সিলেটে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১২৮ রান করেছে। বর্তমানে সফরকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ৯৮ রানের লিড রয়েছে।

চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটটি পায় তাইজুল ইসলামের মাধ্যমে। উইন্ডিজের দলীয় ৮৫ রানের মাথায় জশুয়া ডি সিলভকে এলবিডব্লিউ করে তিনি।

প্রথম উইকেট পাওয়ার পর ১০ রানের মাথায় ব্রেন্ডন কিংয়ের উইকেটও পেতে পারতেন তাইজুল। কিন্তু শর্ট কাভারে ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়।

তবে কিংয়ের উইকেট পেতে বাংলাদেশকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। উইন্ডিজের দলীয় ১১৯ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ স্লিপে শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন কিংকে।

বর্তমানে ৩০ রান করে অপরাজিত আছেন কেভম হজ।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রান করে। এর জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে ৩০ রানের লিড নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%