সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আজ ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত সফরে রওনা হয়েছেন।
তিনি স্ত্রী এবং পুত্রসহ বেলা ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১০৩ ফ্লাইটে যাত্রা করেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ব্যক্তিগত সফর শেষে দেশে ফিরে আসবেন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এই রিমান্ডের আবেদন করেন।
এদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুন মাসে মরিয়মের সঙ্গে জিএম নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের (ভবন নম্বর ৫, ফ্ল্যাট ২০৩) বাসিন্দা ছিলেন। একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন কারণে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারকে এই নির্যাতনের বিষয়ে মোবাইল ফোনে অবহিত করেছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় পৌঁছান এবং সেখানে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম শাবল দিয়ে দরজা ভাঙেন।
নিহতের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট এবং সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়গুলি উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়েছিল এবং নজরুল ও মাকছুদার ক্রমাগত নির্যাতন ও আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটির গঠনশৈলীতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি। একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি মাটির শরীরে বসানো হচ্ছে। মোট দেড় লক্ষাধিক কাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। প্রতিটি কাঠি নিখুঁত মাপে বসানো হচ্ছে। শিল্পীর দক্ষ হাতে গড়া হচ্ছে এই মূর্তি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটি এই বিশেষ আয়োজন করেছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মাটির অবয়বে তৈরি দিয়াশলাই কাঠির দুর্গা মূর্তি দেখার জন্য ভিড় করেছেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা কাকাই লাল সাহা জানান, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে মূর্তিতে রঙের কাজ শুরু হবে।
প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৩ সালে কলকাতায় গিয়ে তিনি এ ধরনের কাজ দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিমা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। চারজন শিল্পী দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করছেন। মাঝে মাঝে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
নবদ্বীপ সরকার আরও জানান, শুধু সাতক্ষীরায় নয়, কুষ্টিয়াসহ চারটি স্থানে দুর্গা প্রতিমা গড়ার দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। দিয়াশলাই কাঠির মাথায় থাকা বারুদের তেজস্ক্রিয়তা নষ্ট করতে বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্রহ্মবাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ অমিত কুমার ঘোষ জানান, প্রতিমা গড়ার কাজে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি দিয়াশলাই কাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা লাগছে। শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবারের পূজার আয়োজনে তাদের ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
অমিত কুমার আরও জানান, এ অঞ্চলে দুর্গা পূজার ইতিহাস ২০০ বছরেরও বেশি, যা শুরু করেছিলেন জমিদার পশুপতি মিত্র।
ব্রহ্মরাজপুরে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির এই আয়োজন নতুন নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নিয়েছে পূজা উদযাপন কমিটি। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিমাটির দাহ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব কুমার দত্ত, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুর রহমান এবং ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রতিমা শিল্পী ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এর ট্রায়ালও করা হয়েছে।
শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ নয়, পূজা ঘিরে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রামের মানুষ, পূজা কমিটি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপদ পরিবেশে চলছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, গত বছর জেলায় ৫৮৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ৫৯০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনাথ বলেন, এবার মা আসছেন ঘোড়ায় এবং যাবেন নৌকায়। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর মর্ত্যে আগমনের শুভ সূচনা হবে। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব শেষ হবে।
এছাড়া, মন্দির ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ২২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০-এর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা’ সম্পর্কিত অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি কেন বিলুপ্ত হবে না, তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিট দায়ের করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস। রিটকারীরা দাবি করেছেন, এ ধরনের কমিটি এখতিয়ারবর্হিভূত।
তাদের বক্তব্য, গত ৪ আগস্ট একটি গণমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
‘যাচাইহীন’ সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০-এর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সকল তথ্য-অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করার এবং পরবর্তীতে নেওয়া সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য একটি আবেদন করা হয়। কিন্তু সেটি নিষ্পত্তি না করায় তারা রিট দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে ২০৩ বোতল ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার মাঝপাড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলার নওধার মাঝপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মোসাব্বের ছেলে আব্দুল হক (৫০) এবং তার স্ত্রী রুজি বেগম (৩৬)। এ ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ নওধার মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার ঘরের খাটের নিচে এবং বাড়ির পুকুর পাড়ে বাঁশের নিচের গর্ত থেকে একাধিক বস্তাভর্তি ২০৩ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি আবারও রমরমা মাদক বাণিজ্য শুরু করেন। নিজ বসতবাড়িতে কৌশলে মদের বড় চালান মজুদ করে বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ ও হোম ডেলিভারির মাধ্যমে মাদক বিক্রি করতেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল হক একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ