প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আদালতে এই রিমান্ডের আবেদন করেন।
এদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুন মাসে মরিয়মের সঙ্গে জিএম নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের (ভবন নম্বর ৫, ফ্ল্যাট ২০৩) বাসিন্দা ছিলেন। একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন কারণে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারকে এই নির্যাতনের বিষয়ে মোবাইল ফোনে অবহিত করেছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় পৌঁছান এবং সেখানে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম শাবল দিয়ে দরজা ভাঙেন।
নিহতের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট এবং সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়গুলি উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়েছিল এবং নজরুল ও মাকছুদার ক্রমাগত নির্যাতন ও আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন