বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩৬ পি.এম
সরকারের দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্রিন রেসপন্স কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি সংস্থাটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে সংস্থাটির জাতীয় সদর দফতরে ‘বিডিআরসিএস ট্রি প্ল্যান্টেশন ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সংস্থার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএসের ভাইস-চেয়ারম্যান, ট্রেজারার, ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, সেক্রেটারি জেনারেল, পরিচালকবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, রেড ক্রিসেন্ট যুব প্রতিনিধি, আইএফআরসি এবং পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সরকারের চলমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিডিআরসিএস এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির গ্রিন রেসপন্স উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল সম্প্রদায় গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আসুন, আমরা সবাই একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসি।’
সংস্থাটি বলছে, বিডিআরসিএসের এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় সংস্থাটির ৬৮টি ইউনিটের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ, স্বেচ্ছাসেবক, আজীবন সদস্য এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হবে, যা দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।
বিডিআরসিএস আশা করছে, এ কর্মসূচি দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর পুশইন চেষ্টাকে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৭ জনকে পুশইন করার চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে বিজিবির দ্বারা বাধা দেওয়ার ফলে এবং বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে বিএসএফ পুশইন করতে সক্ষম হয়নি। বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, কোম্পানীগঞ্জের কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী ও পুরুষসহ ৭ জনকে পুশ-ইন এর প্রচেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানায় এবং বাধার সৃষ্টি করে। বিজিবির বাঁধার সম্মুখীন হয়ে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে হয়।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সীমান্তে নজরদারি এবং অধিকতর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মাদক মামলার এক আসামির, যিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন, মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার পর একদল লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়।
এ হামলায় অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রিয়াজ ফকির (২৬) জীবিত রয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াজ আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন জাকাত ফকিরের বাড়ির সামনে থেকে রিয়াজকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করা হয়েছিল এবং পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জাকাত ফকিরও একাধিক মাদক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত।
রিয়ার থানায় নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকির একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, "এর আগে একবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।"
ওসি আরও বলেন, রিয়াজ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেয় যে তিনি মারা গেছেন। সেই গুজবের কারণে বিকেলে একদল লোক থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার বোয়ালখালীতে পানিবন্দী অসহায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
আজ বৃহস্পতিবার, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার চরখিজিরপুর, পশ্চিম গোমদণ্ডীসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন তিনি।
এসময় এরশাদ উল্লাহ বলেন, গত ১০ বছরে এমন বৃষ্টি হয়নি। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ বৃষ্টির কারণে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, এই সরকার মানবিক সরকার, তাই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। এদিন প্রায় ২৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।
খাদ্য বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও কপিল উদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য পরিপাটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো আয়োজন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, সেখানে কোথাও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেরই এ বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় মন্তব্য করেছেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মতো ঘটনা। আজকের অনুষ্ঠানে ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুইদিন আগে পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার এই নির্দেশনার প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে আমি দেখছি। আগে দেখা যেত, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকতো, কিন্তু আজকে তা নেই। সত্যি এটি অসাধারণ ব্যাপার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গত ৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করা সমস্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের সময় বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বৃহৎ সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চে এবং চার পাশে দেয়ালে টানানো হয়েছিল পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন।
এই ব্যানার-ফেস্টুনে পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীকূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গাছ রোপণ ও গাছের পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শ ও নির্দেশনা বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের যে কথা বলেছেন, তা এই ধরনের ঘটনা তারই উন্মোচন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা মন্তব্য করেছেন, ‘অতীতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী তার ছবির প্রচারের প্রবণতা। ফলে, মূল অনুষ্ঠানের বিষয় বোঝা যেত না এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়াল হয়ে যেত।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশ সবার মনের কথার প্রতিফলন। এর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ