শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৬ এম
স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রার বাসটি ঢাকা থেকে বরিশালের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে বাসটি ছাড়ে। এই দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা হবে।
দেশের প্রথম ক্যানসার রোগতত্ত্ব ও প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল এই শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করছে। ‘গোলাপি মানব’ হিসেবে পরিচিত ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক।
২৩ ও ২৪ অক্টোবর ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা পথে এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো রাজধানীকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রমকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্যে নির্ধারিত ২১টি স্থানে পথসভা আয়োজন করা হবে। সেইসাথে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজ বাংলায় লেখা লিফলেট বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল টাউন হল-সংলগ্ন এলাকায় একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শনিবার সকাল ৯টায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আরেকটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। এরপর শোভাযাত্রার বাসটি ঢাকার দিকে রওনা হবে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের উদ্যোগে অক্টোবর মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ গায়িকা ও গীতিকার রে ২০২৬ সালের মার্কারি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘দিস মিউজিক মে কনটেইন হোপ’-এর জন্য তিনি এই সম্মান লাভ করেন। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের সংগীতশিল্পীদের সেরা অ্যালবামকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পুরস্কার সংগীতজগতে একটি বিশেষ মর্যাদা ধারণ করে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলের ইউটিলিটা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে রের নাম ঘোষণা করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পল ম্যাককার্টনি, ডেভ, অলিভিয়া ডিন, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড দ্য মেশিন, জেডসহ আরও অনেক সংগীতশিল্পী।
‘দিস মিউজিক মে কনটেইন হোপ’ অ্যালবামটিতে জ্যাজ, অর্কেস্ট্রার সংগীত, ফাঙ্ক ও পপধারার বিভিন্ন উপাদান একত্রিত করেছেন রে। প্রায় ৭৩ মিনিটের এই অ্যালবামে বিভিন্ন ধরনের সংগীতের সমন্বয় রয়েছে। বিচারকেরা অ্যালবামটির ব্যাপ্তি, সৃজনশীলতা ও অনুপ্রেরণামূলক দিকের প্রশংসা করেছেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর রে সংগীতের গুরুত্ব এবং আশার বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "মানুষের জীবনে আশা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, আর সংগীত সেই আশার অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে পারে।"
১৯৯২ সালে চালু হওয়া মার্কারি পুরস্কার প্রতিবছর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্য থেকে সেরাটিকে চিহ্নিত করে। বিজয়ী শিল্পী একটি ট্রফি ও ২৫ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের পুরস্কার লাভ করেন। রের এই অর্জন তাঁর সংগীতজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে যুক্ত হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনও কোনো তথ্য প্রদান করেনি। তবে, বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় রায়ের কপি চাওয়া হয়েছে, যা পেলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
এর আগে, ১৫ অক্টোবর, মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মামলা ও আদালতের রায়ের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
পরে, ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় শামা ওবায়েদ বলেন, নিহতের পরিবারকে অনুদান দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারানো ১১ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অনেকেই আটকা পড়েছেন। তাদের ভিসার মেয়াদ যাতে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়া, যারা আর সেসব দেশে যেতে পারছেন না, তাদের দেশে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত চলমান মামলায় নতুন তথ্য আদালতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীর একজন বান্ধবী সাক্ষ্য প্রদান করে জানান, ঘটনার পর তাঁর বান্ধবী বলেছিলেন, ওই অভিজ্ঞতায় তিনি ‘ভীষণ, ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানিতে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেন ওই নারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে লন্ডনের হ্যামারস্মিথ অ্যাপোলোতে রাসেল ব্র্যান্ডের একটি কৌতুক অনুষ্ঠানে অভিযোগকারীর সঙ্গে তিনি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তাঁদের ব্র্যান্ডের সাজঘরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সাক্ষী আদালতকে জানান, পরে অভিযোগকারী তাঁকে বলেছিলেন, ব্র্যান্ডের লন্ডনের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে যৌন সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের শিকার হন। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন। ঘটনার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বলেও বান্ধবী আদালতে উল্লেখ করেন।
আদালতে অভিযোগকারীর মা-বাবার বক্তব্যও উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর মেয়ে প্রায় দুই মাস তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তিনি এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান। অভিযোগকারীর সাবেক প্রেমিকও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় তাঁকে খুব বিচলিত দেখাত।
রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ছয় নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে মোট সাতটি অভিযোগে বিচার চলছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন এবং একটি অশালীন আচরণের অভিযোগ। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যকার ঘটনাগুলো নিয়ে করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্র্যান্ড। তিনি সব অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার শুনানি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার সাত দিন পরেও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিততা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, ফ্রিজে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এর পর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কারণ গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল।
১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টের মালিক এবং মামলার প্রধান আসামি মো. তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক রয়েছেন। রিসোর্টের অন্য মালিক নেওয়াজ মোরশেদসহ অন্যান্য ব্যক্তিরাও আত্মগোপনে চলে গেছেন। বর্তমানে সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশ তাঁকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে। তবে রিমান্ড শুনানি এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে নিচতলার একটি ফ্রিজে শর্টসার্কিট হয়। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে।
ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, রিসোর্টের গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ছিল। তীব্র বাতাস এবং কাঠের অবকাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সেখানে ছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আসছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আরো সময় লাগবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ