ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুধু বিচারপতি বাড়ালেই কমবে না মামলাজট: অ্যাটর্নি জেনারেল


শুধু বিচারপতি বাড়ালেই কমবে না মামলাজট: অ্যাটর্নি জেনারেল

শুধু বিচারপতি বা বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে উচ্চ আদালতের মামলাজট সমাধান করা সম্ভব নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেছেন যে, বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় আবেগের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। মামলাজট সমাধানে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর কার্যকারিতা ও মামলা নিষ্পত্তির হার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার জন্য গঠিত একটি বেঞ্চ ৩০ থেকে ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রায় ২৪টি মৃত্যুদণ্ডাদেশসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেছে। তবে, একই ধরনের এখতিয়ারসম্পন্ন অন্যান্য বেঞ্চগুলো একই সময়ে সমপরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি করতে পারছে কি না, তা পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে, আর নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পেতে হবে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, মামলার চাপ বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন অনুসারে বেঞ্চ বা বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে, শুধুমাত্র বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে মামলার স্তূপ কমানো সম্ভব নয়। কোন বেঞ্চ কতসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করছে এবং কোথায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে।

এদিকে, গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার সমাধান আবেগের বশবর্তী হয়ে না করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য আইন ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এজলাসে জায়গার স্বল্পতা এবং আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধিকে এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গতকালও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ সময় দুইজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনিসুল হকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার চার্জশিট গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


আনিসুল হকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার চার্জশিট গ্রহণ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালত সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছে। চার্জশিটে অপর আসামিরা হলেন— আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।

আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর এই চার্জশিট গ্রহণ করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলাটির তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

দুদক জানায়, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

তদন্তে আনিসুল হক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি ৩৩ বছর আগে প্রয়াত চিন্ময়ানন্দের ‘হলোবট’ এর কাছে আশীর্বাদ চাইলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


মোদি ৩৩ বছর আগে প্রয়াত চিন্ময়ানন্দের ‘হলোবট’ এর কাছে আশীর্বাদ চাইলেন

৩৩ বছর আগে প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দ। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে কথোপকথন করেছেন। এই কথোপকথনের পেছনে রয়েছে ‘হলোবট’। কিন্তু এটি আসলে কী?

চিন্ময় মিশন স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার বা ‘হলোবট’ তৈরি করেছে। মোদির সঙ্গে সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, এ আমার সৌভাগ্য। এখন যে কাজগুলো করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদ চাইছি।’ স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোবট প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করে। ১৯৯৩ সালে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে প্রযুক্তিটি।

সেই বছর শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মোদি গুজরাটের ভদোদরায় গিয়ে স্বামী চিন্ময়ানন্দকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই প্রসঙ্গ টেনে চিন্ময়ানন্দের হলোবট বলে, ‘সেই সময়ে আমি জানিয়েছিলাম, বয়সের কারণে এত বড় দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য অন্য হিন্দু যুবকদের এগিয়ে আসা উচিত।’

এরপর হলোবট মোদির উদ্দেশে বলে ওঠে, ‘১৯৯৩-এ যে ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, আজ তিনিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী।’ সঙ্গে সতর্ক করে হলোবট বলে, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, মনে রাখবেন, শিখরে থাকা মানুষ একা হন।’ শ্রীখণ্ড খাওয়ার পরামর্শও দেয় চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার। শেষে বলে ওঠে, ‘গোটা ভারত আপনার সঙ্গে রয়েছে নরেন্দ্র।’

এই অভিজ্ঞতার জন্য মোদি চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘হলোবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন অতীতে ফিরে গেছি।’

হলোবট হলো হলোগ্রাম প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি কোনো ব্যক্তির ত্রিমাত্রিক অবয়ব। গোটা ব্যাপারটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, দেখলে মনে হয় তিনি যেন সামনেই বসে আছেন। ভয়েস রেকর্ডিং আগে থেকেই থাকে। ভিডিও এবং অঙ্গভঙ্গির সমন্বয়ে অবয়বটিকে কথা বলতে বা নড়াচড়াও করতে দেখা যায়। আর প্রশ্নের উত্তর দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পলাতক শক্তির অপতৎপরতা মেনে নেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


পলাতক শক্তির অপতৎপরতা মেনে নেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, পতিত শক্তি বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, তাদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত বা মেনে নেয়া হবে না।

তিনি রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চায় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত চেয়েছে।’

পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, পাহাড়ের অপ্রীতিকর ঘটনায় সেনাবাহিনী অত্যন্ত সতর্ক ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেখানে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কে কোন পদে আসীন রয়েছে, তা বিবেচনা করা হবে না–আইন সবার জন্য সমান।

সম্প্রতি শেষ হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও সার্বিক প্রচেষ্টায় সারা দেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা পালিত হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস বন্ধ, যাত্রীরা দুর্ভোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস বন্ধ, যাত্রীরা দুর্ভোগে

কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটের বাস চলাচল পরিবহন মালিকদের বিরোধের কারণে থমকে গেছে। বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই প্রান্তের টার্মিনালে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তৈরি হয়েছে। কেউ সন্তান ও ব্যাগপত্র নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, কেউ জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার পথ খুঁজছেন, আবার কারও সামনে পরদিনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সাধারণ যাত্রীদের এই পরিস্থিতির জন্য বাস মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাশুল গুনতে হচ্ছে। বিকল্প যানবাহনের সংকটের মধ্যে অনেকেই বাড়তি ভাড়া গুনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা থেকে এবং বিকেল ৫টা থেকে কিশোরগঞ্জ থেকে এ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় মহাখালী ও কিশোরগঞ্জের গাইটাল আন্তজেলা বাস টার্মিনালে এসে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। বাস বন্ধের খবর না জেনে টার্মিনালে পৌঁছে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে বিকল্প যানবাহন খুঁজতে গিয়ে বাড়তি ভাড়া ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন তাঁরা।

ঢাকা ও কিশোরগঞ্জ থেকে অনন্যা পরিবহনের নতুন চারটি বাস এ রুটে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে দুই অঞ্চলের পরিবহন মালিকদের মধ্যে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। তবে আলোচনা শেষ করে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আগেই ঢাকা থেকে দুটি নতুন বাস রাস্তায় নামানো হয়। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কিশোরগঞ্জের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

কিশোরগঞ্জের পরিবহন মালিক নেতাদের অভিযোগ, নতুন বাস যুক্ত করার বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই একতরফাভাবে বাস নামানো হয়েছে। এতে রুটের প্রচলিত নিয়ম ও শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অনন্যা পরিবহন, অনন্যা ক্লাসিক, উজানভাটি ও জলসিঁড়ি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

মালিকদের বিরোধের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়লেও তাৎক্ষণিক বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অন্য যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী।

গৃহিণী রোকেয়া বেগম, যিনি সন্তান ও ভারী ব্যাগপত্র নিয়ে মহাখালীগামী বাসের অপেক্ষায় ছিলেন, বলেন, "ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টার্মিনালে বসে আছেন। কখন বাস চলবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।" অন্যদিকে বিকল্প যানবাহনের চালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাইছেন। তিনি আরও বলেন, "না পারছি ফিরতে, না পারছি বিকল্প উপায়ে যেতে।" তাঁর মতো অনেক যাত্রীই গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায় না পেয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী জুয়েল মিয়ার জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, "আগে থেকে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু কোনো পূর্ববার্তা না থাকায় টার্মিনালে এসে বিপাকে পড়তে হয়েছে।" পরিবহন মালিকদের নিজেদের বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে বারবার এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটটি দুই অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এ রুটে যাতায়াত করেন। ফলে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু যাত্রাপথেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি, অনেকের জরুরি কাজ, কর্মঘণ্টা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবহন মালিকদের মধ্যে নতুন বাস যুক্ত করা নিয়ে মতবিরোধ থাকলে তা আলোচনার টেবিলেই নিষ্পত্তি করা উচিত। এ বিরোধের কারণে যাত্রীদের জিম্মি করে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশেষ করে আগাম ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প পরিকল্পনা করার সুযোগও পাননি। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা দ্রুত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন বাস যুক্ত করার বিষয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছে দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা জরুরি। একই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

যাত্রীদের মতে, পরিবহন খাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের প্রশ্ন, মালিকদের মতবিরোধের দায় কেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পথে বের হওয়া সাধারণ মানুষ বহন করবেন? দ্রুত সমাধান না হলে এ রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাইটাল বাস টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রী ঊর্মিলা, ফৌজিয়া, দীপ্ত ও শাহীনুর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সড়কে পরিবহনসেবা সবচেয়ে নিম্নমানের বলে তাঁদের মনে হয়। তাঁদের অভিযোগ, যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ নেন। কিন্তু যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব কিংবা সেবার মান উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতেই বেশি মনোযোগী থাকেন। তাঁদের মতে, কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা গেলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, মহাখালী এলাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছে। পুরোনো বাস সরবরাহ এবং কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও জটিল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মহাখালীর পরিবহন মালিকেরা তাঁদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে পুরোনো বাস সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। অথচ কিশোরগঞ্জের অন্যান্য পরিবহনে নতুন বাস চলাচল করছে। তাঁরা পুরোনো বাস নিতে রাজি না হওয়ায় মহাখালীতে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, "কথায় কথায় কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের পরিবহন পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। এ বিরোধের সমাধানের দাবিতেই আমরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%