০২:৪২ এম
সাতক্ষীরা সদর থানার হাজতের ভেতরের গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পর, ওসি মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, ডিউটি অফিসার পিংকি রায় এবং সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে, ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযোগ ওঠে যে, থানার ভেতরে ওসির অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী হাজতের সামনে গিয়ে গ্রেফতার নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এমন সময় তাদের একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। উক্ত ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হাজতের ভেতর থেকে বক্তব্য প্রদান করছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, 'আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে এসেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।' তিনি এ সময় 'শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে'সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। সদর থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানান, ১৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থানায় ছিলেন। সেই সময়ে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একজন ব্যক্তি থানায় প্রবেশ করে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন।
এই ঘটনার পুরোটাই থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সোমবার ওসি মাসুদুর রহমানকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিউটি অফিসার পিংকি রায় এবং সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসির দ্বারা ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা না করে আর্থিক কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে কাউন্টার মামলা দেওয়ার প্রবণতা ছিল। এই ধরনের ভূমিকার কারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা উৎসাহ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সদর থানার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল বলে অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল ওসি মাসুদুর রহমানের স্থায়ী অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
অন্যদিকে, হবিগঞ্জে একজন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটির নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। সদর থানার ওসির পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়নি। তিনি বলেন, গ্রেফতার একজন আওয়ামী লীগ নেতার হাজতের ভেতর থেকে ভিডিও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুধু বদলি যথেষ্ট নয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে ভিডিও ধারণের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানিয়েছেন, থানার হাজতে ভিডিও ধারণের ব্যাপারটি তাদের জানা নেই। অন্যদিকে, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ হিসেবে করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি মাসুদুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন