ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিসমিল্লাহ পাঠের সাতটি অনন্য উপকারিতা


বিসমিল্লাহ পাঠের সাতটি অনন্য উপকারিতা

বিসমিল্লাহ ইসলামি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুমিন মাত্রই বিসমিল্লাহর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। প্রত্যেক ভালো কাজে অবচেতন মনে মুমিনের মুখে বিসমিল্লাহ উচ্চারিত হয়। বিসমিল্লাহ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। কাজে আত্মনিবেদিত হতে প্রেরণা জোগায়। আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ায়। জীবনকে আলোকিত করে তোলে। বিসমিল্লাহর রয়েছে অফুরন্ত বরকত। রয়েছে অনন্য উপকারিতা। আজ আমরা সাতটি উপকারিতা নিয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। কোরআনের অনুসরণ : কোরআনুল কারিম। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি শ্রেষ্ঠ উপহার। এর প্রতিটি সুরায় রয়েছে নূর, রয়েছে হিদায়াত। আলোয় আলোয় ভরা পবিত্র এই কিতাবের প্রতিটি সুরার শুরুতে রয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তওবা ব্যতীত বাকি ১১৩টি সুরার সূচনাই বিসমিল্লাহর মাধ্যমে। এ থেকেই বিসমিল্লাহর অনন্য উপকারী ও সুউচ্চ মর্যাদার কথা ফুটে ওঠে দিবালোকের ন্যায়। বরকতহীনতা থেকে মুক্তি : বিসমিল্লাহ বরকতের মাধ্যম। কোনো ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে তাতে বরকতের স্পর্শ পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিলে কাজটি বরকতহীন হয়ে পড়ে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহকে স্মরণ (বিসমিল্লাহ) করে শুরু না করা হয়, তাহলে তা লেজকাটা বা বরকতহীন হয়ে যায়।’ (আল জামেউস সগীর : ৬২৬৬)। আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা : বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ প্রতি মুহূর্তে তার জীবনের গতিবিধি একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। আর প্রতিটি কাজে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতাই বান্দার সফলতা বয়ে আনে। নবীদের পবিত্র অভ্যাসের অনুকরণ : বিসমিল্লাহর আমল শুধু উম্মতে মুহাম্মাদির পবিত্র বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং পূর্ববর্তী নবীদের পবিত্র জীবনাদর্শেও বিসমিল্লাহর অপরিহার্য উপস্থিতি লক্ষণীয়। পবিত্র কোরআন মাজিদে সে বিবরণ পাওয়া যায়। হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণকালে বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে-নূহ (তাদের সবাইকে) বলল, তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা হুদ : ৪১)। হজরত সুলায়মান (আ.)-এর আমল বা চিঠিপত্রও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছিল, যা আমাদের জন্য আদর্শ। ইরশাদ হয়েছে, (সাবা সম্প্রদায়ের) রানি (বিলকিস বিনতে শারাহীল) (তার দরবারের লোকদের) বলল, হে জাতির নেতৃবর্গ! আমার সামনে একটি মর্যাদাসম্পন্ন চিঠি ফেলা হয়েছে। তা এসেছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে। তা শুরু করা হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের’ মাধ্যমে (আল্লাহর নামে, যিনি রহমান ও রাহিম।)। (সুরা নামল : ২৯-৩০)। সর্বব্যাপী আল্লাহর রহমত : ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এ পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নাম রয়েছে, যার ফলে বান্দা আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করে। আল্লাহর রহমত ও দয়া আমাদের সবারই আকাক্সিক্ষত। আমরা প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আল্লাহর দয়া ছাড়া আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই প্রতিনিয়ত বিসমিল্লাহর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশ্রয় গ্রহণ করার বিকল্প নেই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ : ওজুর শুরুতে আমরা বিসমিল্লাহ বলি। নামাজ শুরুর প্রাক্কালে আমরা বিসমিল্লাহ বলি। পানাহারের আগেও আমরা বিসমিল্লাহ বলে থাকি। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনার পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও আদায় করা হয়। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিজের অন্তরে বিনয় নম্রতা তৈরি হয়। আর আল্লাহর শোকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে। নিয়ামত বৃদ্ধি পায়। ইরশাদ হয়েছে, স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সুরা ইবরাহিম : ৭)। সুসংবাদ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা : আমরা সবাই নিরাপত্তা চাই। এই নিরাপত্তা লাভের অনন্য মাধ্যম বিসমিল্লাহ। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে : বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কারও কোনো ক্ষমতা নেই।) তখন তাকে বলা হয়, তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ। সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূরে সরে যায় এবং অন্য এক শয়তান বলে, তুমি ওই ব্যক্তিকে কী করতে পারবে যাকে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে! (সুনানে আবু দাউদ- ৫০৯৫)। লেখক : খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ টঙ্গী, গাজীপুর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বাদীর প্রবাসী ছেলে যে স্ত্রীর সঙ্গে এসআই মোস্তাফিজার রহমান অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, সেই অভিযোগে বগুড়ার ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করার কথা জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন ধুনট উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের এক নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর একই গ্রামের মাহমুদুল সরকার চুক্তি অনুসারে তার কাজের ব্যবস্থা করেননি। এই অভিযোগটির তদন্তভার দেয়া হয় এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে।

তদন্তের জন্য তিনি একাধিকবার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ সময় অভিযোগকারীর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তের সময় এসআই মোস্তাফিজার রহমান ও ওই নারীর মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরে রোববার (১২ জুলাই) এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী এ বিষয়ে বলেন, ‘এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ পাওয়ার পর তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, এসআই মোস্তাফিজার রহমান এর আগে বগুড়া সদর থানায় কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেও তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। পরে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাকে ধুনট থানায় বদলি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মোস্তাফিজার রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ফ্রান্স, চারে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ফ্রান্স, চারে আর্জেন্টিনা

 

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসর এখন শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। মাঠের লড়াই এখন একদম শেষের দিগন্তে। ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার পরাশক্তি— আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে প্রথম সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স এবং স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড।

সেমিফাইনালে উঠা প্রতিটি দলেরই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যথেষ্ট শক্তি, সামর্থ্য ও মনোবল আছে। তবে মাঠের শক্তিমত্তা, দলের বর্তমান ফর্ম এবং অতীত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ফুটবল বিশ্লেষক এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’ তাদের সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে সেমিফাইনাল ও শিরোপা জয়ের একটি গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেছে।

অপ্টা সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুসারে, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি হবে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং হাড্ডাহাড্ডি। অবাক করার বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নয়, বরং ইংল্যান্ডকেই কিছুটা এগিয়ে রাখছে সুপার কম্পিউটার।

হিসাব অনুযায়ী, থ্রি লায়ন্সদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫০.৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৪৯.০৪ শতাংশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায়, হ্যারি কেইনদের সরাসরি জেতার সম্ভাবনা ৩৮.৯ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৩৪.১০ শতাংশ। তবে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি অমীমাংসিত বা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৭ শতাংশ। এর মানে, ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

অন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্স এবং স্পেনের লড়াইয়ে ফরাসিদের সার্বিকভাবে একটি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে সুপার কম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা যেখানে ৫৭.৭০ শতাংশ, সেখানে স্পেনের সম্ভাবনা ৪২.৩০ শতাংশ।

সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে সোনালী ট্রফিটি কার কাছে যাবে? অপ্টা চার দলের ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। মজার বিষয় হলো, ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ট্রফি ধরে রাখার দৌড়ে চার নম্বরে রেখেছে সুপার কম্পিউটার। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অপ্টা সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে শীর্ষ চার দল হলো যথাক্রমে ফ্রান্স (৩৪.০৫%), স্পেন (২১.৯৪%), ইংল্যান্ড (২১.৯৪%) এবং আর্জেন্টিনা (২০.৫৫%)।

বিভিন্ন ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে অপ্টা এই দলগুলোকে শিরোপা জেতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রেখেছে ফ্রান্সকে এবং সবার শেষে রেখেছে আর্জেন্টিনাকে। তবে ফুটবল একটি অনিশ্চয়তার খেলা। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে পরিসংখ্যান অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হয়ে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অপ্টার এই গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়ে উঠে কিনা, নাকি সুপার কম্পিউটারকে ভুল প্রমাণ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পা রাখবে আলবিসেলেস্তেরা।

তাহলে, সেই অনুযায়ী দলগুলোর সম্ভাবনা কত শতাংশ? ফ্রান্স: ৩৪.০৫% (শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার), স্পেন: ২৩.৪৫%, ইংল্যান্ড: ২১.৯৪%, আর্জেন্টিনা: ২০.৫৫%।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে ভুয়া জন্মসনদ ইস্যুতে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


সিলেটে ভুয়া জন্মসনদ ইস্যুতে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে ভুয়া জন্মসনদ তৈরিতে জড়িত থাকার প্রমাণ। যদিও জালিয়াতির এই ঘটনায় দায়ী এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন।

বিভিন্ন সরকারি সেবায়, যেমন বিদেশ গমন এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য জন্মসনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সিসিকের অঞ্চল-০৬ থেকে ইস্যু করা ১১টি জন্মসনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায়, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম ও সহকারী নিবন্ধক নজরুল ইসলামকে দায়ী করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উক্ত দুই কর্মকর্তার প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সিসিক কর্তৃপক্ষ দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে, ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর 11টি জন্মনিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর সহকারী নিবন্ধককে বদলি করা হলেও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। কখনও সময় সংবাদে সিসিকের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে না গিয়েই শুধুমাত্র কাগজের ওপর ভিত্তি করে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য ও স্বাস্থ্য শাখার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম মিয়া জানান ভিন্ন কথা। তিনি উল্লেখ করেছেন, আনোয়ারুল হককে সাথে নিয়েই তারা সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির দুই সদস্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

এতো জাল সনদ কিভাবে প্রদান করা হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, এই ঘটনায় কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি জালিয়াতির জন্য ‘অদৃশ্য কারণ’কে দায়ী করেছেন।

এর আগে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সিসিককে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। ওই চিঠিতে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে জন্মসনদ ইস্যুর ঘটনায় নিবন্ধন সহকারী ও মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সময় সংবাদকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, ‘তদন্তে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও একজনকে বদলি করে অন্যজনকে একই পদে বহাল রাখায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী বলেছেন, ‘জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া জন্মসনদ তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ হলো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও বৈধ জন্মসনদ পেতে তাদের দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ জাল তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া জন্মসনদ ইস্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিসিকের নিবন্ধন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে ৩০০টি জন্মনিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগ জনমানুষের আস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুর নামে ৩৬ কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দিলেন চীনা তরুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


বন্ধুর নামে ৩৬ কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দিলেন চীনা তরুণ

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই, চীন একটি তরুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন, যিনি নিজের প্রায় ২ কোটি ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পত্তি শৈশবের এক বন্ধুর নামে উইল করে দিয়েছেন।

সাংহাইয়ের বাসিন্দা লি (ছদ্মনাম) সম্প্রতি একটি নোটারাইজড উইল করেছেন। এই উইলের মাধ্যমে, তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট এবং কয়েক মিলিয়ন ইউয়ানের সঞ্চয়, শৈশবের বন্ধুর নামে রেখে দিয়েছেন।

লির বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর, দুজনেই নতুন করে জীবনের শুরু করেন। তারা যে ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি ছেলেকে দিয়েছিলেন, সেটিই এখন লির প্রধান সম্পদ। যদিও ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে তার খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি, ফলে তাদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

লির চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ রয়েছে, এবং তিনি আশঙ্কা করছেন, যদি কোনো দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়, তাহলে বাবা-মায়ের বর্তমান স্বামী-স্ত্রী (যাদের তিনি নিজের জীবনের অংশ বলে মনে করেন না) ভবিষ্যতে তার সম্পত্তির সুবিধাভোগী হতে পারেন। সেই কারণে, তিনি শৈশবের বিশ্বস্ত বন্ধুকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন।

চীনের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি উইল ছাড়া মারা যান, তাহলে তার স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মা প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অধিকার পান। ফলে, লির বাবা-মা সম্পত্তির মালিক হলে ভবিষ্যতে তাদের বর্তমান জীবনসঙ্গীরাও ওই সম্পদের ওপর অধিকার পেতে পারেন।

তবে, দেশটির আইন একজন নাগরিককে উইলের মাধ্যমে আইনগত উত্তরাধিকারীদের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের নামে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার সুযোগও প্রদান করেছে।

লি সাংহাইয়ের চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে গিয়ে তার উইল নিবন্ধন করেন। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা হুয়াং হাইবো জানান, উইল কার্যকর হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে লির বন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে তিনি ওই সম্পত্তির অধিকার হারাবেন।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে চার লাখের বেশি উইল নিবন্ধিত হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনে উইল করার প্রবণতা বাড়ছে এবং উইলকারীদের গড় বয়স ৭৭ বছর থেকে কমে ৬৭ বছরে নেমে এসেছে।

হুয়াং হাইবো বলেন, আশির, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া তরুণদের মধ্যেও এখন উইল করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উইল এখন আর শুধু বয়স্কদের বিষয় নয়, এটি ধীরে ধীরে সাধারণ আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে।

ঝেজিয়াং প্রদেশের এক নোটারি কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে অনেক তরুণ বিয়ের আগে নিজের নামে থাকা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে উইল করছেন। এ ছাড়া অবিবাহিত ও নিঃসন্তানদের মধ্যেও এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লির সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ বলছেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব থাকলেও, তারাই ছেলেকে বিপুল সম্পত্তি দিয়েছেন, তাই তাদের উত্তরাধিকারী হওয়াই স্বাভাবিক। আবার অনেকের মতে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া তাড়াহুড়ো হয়ে যায়, ভবিষ্যতে তার মত পরিবর্তনও হতে পারে। অন্যদিকে, অনেকেই শৈশবের বন্ধুর প্রতি লির আস্থা ও বন্ধুত্বের মূল্যায়নের প্রশংসা করেছেন। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%