প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে ভুয়া জন্মসনদ তৈরিতে জড়িত থাকার প্রমাণ। যদিও জালিয়াতির এই ঘটনায় দায়ী এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন।
বিভিন্ন সরকারি সেবায়, যেমন বিদেশ গমন এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য জন্মসনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সিসিকের অঞ্চল-০৬ থেকে ইস্যু করা ১১টি জন্মসনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায়, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম ও সহকারী নিবন্ধক নজরুল ইসলামকে দায়ী করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উক্ত দুই কর্মকর্তার প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সিসিক কর্তৃপক্ষ দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে, ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর 11টি জন্মনিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর সহকারী নিবন্ধককে বদলি করা হলেও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। কখনও সময় সংবাদে সিসিকের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে না গিয়েই শুধুমাত্র কাগজের ওপর ভিত্তি করে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য ও স্বাস্থ্য শাখার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম মিয়া জানান ভিন্ন কথা। তিনি উল্লেখ করেছেন, আনোয়ারুল হককে সাথে নিয়েই তারা সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির দুই সদস্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।
এতো জাল সনদ কিভাবে প্রদান করা হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, এই ঘটনায় কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি জালিয়াতির জন্য ‘অদৃশ্য কারণ’কে দায়ী করেছেন।
এর আগে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সিসিককে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। ওই চিঠিতে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে জন্মসনদ ইস্যুর ঘটনায় নিবন্ধন সহকারী ও মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সময় সংবাদকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, ‘তদন্তে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও একজনকে বদলি করে অন্যজনকে একই পদে বহাল রাখায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।’
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী বলেছেন, ‘জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া জন্মসনদ তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ হলো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও বৈধ জন্মসনদ পেতে তাদের দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ জাল তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া জন্মসনদ ইস্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সিসিকের নিবন্ধন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে ৩০০টি জন্মনিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগ জনমানুষের আস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন