০৪:০৮ পি.এম
ভিডিওতে কিছু ছবি দেখিয়ে জানানো হয়েছে, রেলওয়ের আয় বেড়ে গেলেও সেবার মান একইরকম অবনতির দিকে রয়েছে। লোকোমোটিভ সংকটের কারণে ট্রেনগুলো দেরিতে ছাড়ছে। আন্তঃনগর রেলপথের ট্রেনগুলোতে দেখা যায়, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের বিশাল অভিযোগ রয়েছে, আসনগুলো নোংরা থাকে এবং অনেক সময় বাতি থাকে না।
বিশ্বজিৎ পাল বাবুর প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের 'ট' বগিতে প্রায় প্রতিটি আসনের কাভার ছেঁড়া। নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা যথেষ্ট বেশি, তবে সেবার মান খুবই খারাপ।
যাত্রীদের অভিযোগ থাকে, টিকিট কেটেও তারা এসির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অধিকাংশ সময় এসি নষ্ট থাকে এবং বৃষ্টি হলে এসি বগিতে পানি পড়ে যায়, যাতে যাত্রীরা বসা দূরের কথা, দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন না।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালী জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জনতার উপস্থিতি, আলোচনায় কবির শিকদার
এই অবস্থা শুধু উপকূল এক্সপ্রেসের নয়, অন্যান্য ট্রেনেও সেবার মান তলানিতে। লোকোমোটিভ এবং ইঞ্জিন সংকটের কারণে অধিকাংশ ট্রেন দেরিতে চলছে। জামালপুর-চট্টগ্রাম পথের বিজয় এক্সপ্রেস গত সপ্তাহে ১২ ঘন্টা দেরিতে চলাচল করে। ট্রেনগুলোর জানালাও নষ্ট, আসনগুলো ভাঙা এবং নোংরা থাকে, রাতে বাতি না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
গত অর্থ বছরে বাংলাদেশের রেলওয়ের আয় ২৫৬ কোটি টাকা বেড়েছে। তবে যাত্রী খাতের আয় বেড়ে গেলেও ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক আনিসুর রহমানের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত অর্থবছরে আয় বাড়ার পেছনে নানা উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ২,৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, আগের বছরের তুলনায় যা ২২১ কোটি টাকা অধিক। যদিও মালামাল পরিবহনে আয় কমেছে।
বর্তমানে সরকার বিভিন্ন ট্রেন ও স্টেশনের সেবা বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে রেলের অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হওয়া সম্ভব হতে পারে।েন বিভিন্ন স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে পানি সেচ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
ভৈরব স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ হকারদের কারণে যাত্রীদের দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছে না। বৃষ্টির সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে র্যাম্প না থাকায় যাত্রীদের সিড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হয়। সম্প্রতি এক ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ দিকে, ভৈরব রেলসেতুর কাছে ছিনতাই ও ঢিল ছোড়ার ঘটনা বেড়েছে যা যাত্রীদের আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি হতাশাজনক। উপকূল এক্সপ্রেসের বেশ কিছু বগির এসি প্রায়ই নষ্ট থাকে এবং ব্রিটিশ আইন পরিবর্তনের বিষয়টির ওপর সরকারের ভাবনা রয়েছে।
রেলওয়ের একজন সূত্র জানায়, বর্তমান ২৯০টি লোকোমোটিভের মধ্যে অর্ধেকের অধিক মেয়াদোত্তীর্ণ। সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলের আয় বাড়লেও সেবার মানের উন্নতি না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ ও র্যালির মাধ্যমে উদযাপন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন