সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৪ পি.এম
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা, সদর উপজেলা ও সরাইলে টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। পাইপলাইনের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের ডিজিএম মো. শফিকুল হক জানান, বিশ্বরোড এলাকায় পাঁচটি সিএনজি পাম্প এবং বিসিক এলাকার জন্য পৃথক গ্যাসলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পৃথক লাইন স্থাপন হলে শিল্পকারখানা ও সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ বলছে, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চোলাইমদ, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মো. গাজিউর রহমান। পুলিশ জানায়, চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকা থেকে শামসুল হককে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৪ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়।
বোয়ালিয়া থানা পুলিশ মীরের চক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে আবিদ হোসেন ও দেবাশীষ সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে ৬০ পিস ইয়াবা এবং নগদ ৮ হাজার ৭৬০ টাকা জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ মাঝিগ্রামে অভিযান চালিয়ে মেছের খান ওরফে বাবু, সাবিরুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সাবিরুলের কাছ থেকে ১৫ পিস এবং রব্বানীর কাছ থেকে ৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই দিন মতিহার থানার মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি হরিজন পল্লি এলাকা থেকে অভয় কুমার সরকার ওরফে বিজয়কে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া আরএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী টিম শাহমখদুম থানার গাংপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর, তাননিন হোসেন, রাব্বি, রনি ও রকি ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ৫৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৫৭০ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দের কথা জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে সোমবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বজনহীন এক মানসিক প্রতিবন্ধী রোগীর চিকিৎসায় মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল। গুরুতর হাড় ভাঙার সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৯ বছর বয়সী আব্দুর রহিমের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে গুরুতর ফ্র্যাকচার নিয়ে আব্দুর রহিম রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওপেন রিডাকশন অ্যান্ড ইন্টারনাল ফিক্সেশন (ORIF) অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর পাশে দেখাশোনার জন্য কোনো স্বজন বা পরিবারের সদস্য ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতেও তাঁর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ডা. আশীষ ও জুনিয়র অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ডা. সুবীরের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও হাসপাতালের কর্মীদের পরিচর্যায় রোগী বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন।
রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা বলেন, “মানবিকতা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই উদ্যোগ তারই প্রমাণ।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান বলেন, “রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
স্বজনহীন রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে নতুন ভবনের তৃতীয় তলায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, "আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনাস্থলে প্রচুর ধোঁয়া থাকায় নিয়ন্ত্রণের কাজ এখনও চলছে। সদর ফায়ার স্টেশন থেকেও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, "ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই তথ্যটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি চিঠির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠির সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা সংযুক্ত ছিল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু পরীক্ষার্থী প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে। এই কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ নির্দেশনা
১. আবেদনপত্রে আবশ্যিকভাবে প্রার্থীর সদ্য তোলা (আবেদন দাখিলের একমাস পূর্বে) রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার পূর্বে চাকরি প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই করা।
৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্ট ঘড়ি যুক্ত ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি), ব্যাগ, বই-পুস্তকসহ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি নিশ্চিত করা।
৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা এবং কোনো অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আকৃতির লেখা পরীক্ষা করা।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখা এবং পরে ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সঙ্গে এই ছবি মিলিয়ে দেখা।
৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগদানের সময় ছবি পরীক্ষা করে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা।
১০. পরীক্ষা শুরুর আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট ও মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা এবং ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, মামলা দায়ের, নিয়মিত মামলা দায়ের করা।
১২. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন- বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার জন্য এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে বিষয়টি অবলোকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ