বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৭ পি.এম
নোয়াখালীর সেনবাগে পারিবারিক কলহের কারণে মোঃ হোরন মিয়া (৩৮) নামের এক ডেকোরেশন ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন ফোন ভিডিও কলে রেখে। খবর পাওয়ার পর সেনবাগ থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে তাঁর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়া’ থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত হোরন মিয়া উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের মধু মৌলভীর পুরাতন বাড়ির ওলি মিয়ার ছেলে। তিনি কানকিরহাট বাজারে মায়ের দোয়া নামক একটি ডেকোরেশনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। স্থানীয় যুবদলের একজন কর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিনটি মেয়েসন্তান রেখে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে হোরন মিয়া বাড়ি থেকে অভিমান করে বের হয়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ভিডিও কলে রেখে দোকানে থাকা কাপড় গলায় পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে সকালে দোকানের ভেতরে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হোরন মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে পুলিশ দ্বারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় অক্সিজেনের অভাবে অসুস্থ হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এই দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে বানারীপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলেন—বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন এবং অন্যজন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ। বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে দুই শ্রমিক সেন্টারিংয়ের কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে কাজ করার সময় অক্সিজেনের অভাবে সেফটি ট্যাংকের ভেতরেই তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যোক্ত চিকিৎসকেরা দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“তোমাদের মেধার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে দেশ সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই-যে দেশ যত উন্নত, সে দেশের শিক্ষার্থীরা তত বেশি মেধা ও মননে সমৃদ্ধ।”
বুধবার সকালে চাঁদপুর শহরের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ মিলনায়তনে ‘শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫’-এর মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “জীবনের প্রতিটি পদে তোমাদের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে এবং কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে হবে। আমরা জীবনের নানা বাঁকে পরীক্ষিত হয়ে আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেছি; তোমাদেরও সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে। আজকের অর্জিত সাফল্য তোমাদের আগামীর ভিত্তিপ্রস্তর। তোমরাই আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমরাই গড়ে তুলবে নতুন দিনের বাংলাদেশ।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদের সমন্বয়ক মোঃ কামরুল হাসান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদের সদর উপজেলা পরিচালক দেওয়ান মোঃ ছাইফুদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টা মো. হুমায়ুন কবির, রামপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক বজলুর রশিদ সোহেল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খলিল হেলাল, রাজরাজেশ্বর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, মাওলানা নোমান আহমেদ।
আলোচনা সভার শেষে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
উল্লেখ্য, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক এই বৃত্তি পরীক্ষায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে পুরস্কৃত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে চালু রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের ইচ্ছার কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চেসির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্য প্রকাশ করেন ছাত্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, চিকিৎসকেরা আর আশার কোনো খবর দিতে পারছেন না। অলৌকিক কিছু না ঘটলে চেসির ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। গত দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চেসির সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে চেসির মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে ভেতরে চাপ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
রবিউল আরো জানান, ভেন্টিলেটরের সাহায্যে চেসির শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা হচ্ছে। এই সহায়তার মাধ্যমে তার হৃদযন্ত্রসহ শরীরের অন্যান্য কার্যক্রম সচল রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাগমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চেসি ত্রিপুরা গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
চেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় লাইফ সাপোর্টে রেখে তার শারীরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন চাঁদপুরে উৎসবমুখর ও প্রীতিময় পরিবেশে সম্পন্ন হলো। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ কঠোর নজরদারিতে ছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) শহরের প্রধান প্রধান বিসর্জনস্থল ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
প্রতিমা বিসর্জন চলাকালে তিনি বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তা চাদরের তদারকি করেন। দেবী দুর্গার বিদায়লগ্নে ভক্তদের বিসর্জন প্রক্রিয়া যেন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরিদর্শনকালে বলেন, "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা চাঁদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা যেন আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য চাঁদপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বিসর্জন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই কড়া নজরদারি বজায় থাকবে।" জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন। পূজা উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীরা পুলিশের সার্বিক তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ