মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
একটি সোয়েটার কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে চাঁদা না দেওয়ার কারণে। রাজধানীর নিকটবর্তী আশুলিয়ার এই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি শ্রমিকসহ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এন ডি কারখানার চেয়ারম্যান আহাদুজ্জমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে আশুলিয়া থানাধীন মধ্য গাজিরচট রশিদ মার্কেট এলাকায় জমি কিনে সেখানে বিল্ডিং সেড নির্মাণ করে এনডি সোয়েটার ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় ছাত্রদল সভাপতি পরিচয়ে মো: সানোয়ারসহ কবির হোসেন শিশির, মোঃ মোখেলেছ, মোঃ জালাল, তোফাজ্জল হোসেন, সোহেল খন্দকার ও রকিসহ কয়েকজন তার অফিসে গিয়ে প্রথমে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা এক কোটি টাকা দাবি করে। তাদের দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় গত ২২ অক্টোবর সকালে ৪০/৫০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য মাথায় হেলমেট পরে কারখানায় হামলা চালায়।
তারা রামদা, লোহার রড, সাবল, হাতুড়ি, হামার, হকিস্টিক, লাঠি সোঁটা নিয়ে ফ্যাক্টরীর উত্তর পাশের বিল্ডিং সেডের ওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। শ্রমিকদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সোয়েটারের সুতা, বিভিন্ন এক্সোসরিজসহ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। পরে ৯৯৯ এ কল করার পর পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্বৃত্তদের বের করে দেয়। তবে পরের দিন তারা পুনরায় হামলার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় গেলে পুলিশ মামলা জিডি গ্রহণ করে। পরে ওসি আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন।
আহাদুজ্জামান আরও জানান, দুর্বৃত্তদের হুমকি ও পুলিশের কর্মকাণ্ডের কারণে ১১শ’ শ্রমিকসহ তিনি নিজের জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় আছেন। তবে আশুলিয়া থানার ওসি মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে এস এ পরিবহনের একটি শাখা থেকে পুলিশের একজন সদস্যকে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যের নাম কৃষাণ বড়ুয়া। তিনি কুমিল্লা জেলায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কৃষাণ বড়ুয়া নামের একজনকে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কর্মস্থল কুমিল্লায় অবস্থিত। তবে তার সম্পূর্ণ নাম ও ঠিকানা জানার জন্য সিটি এসবি কুমিল্লায় একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব আসলে তার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। আজই তাকে একটি প্রতারণা মামলায় আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নগরীর নূর আহমদ রোডের কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান এস এ পরিবহনের কাজির দেউড়ি শাখা থেকে তাকে আটক করা হয়। এস এ পরিবহনের কর্মকর্তারা তাকে আটক রেখে থানায় খবর দিলে কোতোয়ালি থানার একটি টিম গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদ্ধতিগত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর ক্যাম্পাসের সেমিনার কক্ষে ‘সিস্টেমিক রিস্ক অ্যান্ড রিস্টোরিং ডিপোজিটর্স ট্রাস্ট ফর স্ট্যাবিলাইজেশন অব দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালাটি বিআইবিএমের সম্মেলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় বিআইবিএম।
বিআইবিএমের অধ্যাপক ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে সেশন লিডার হিসেবে আলোচনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সাবেক মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।
বিশেষ সেশন লিডার হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন ঝুঁকি ও দুর্বলতা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়ভাবে মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন।
কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা জোরদারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি) সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার জন্য ২২২৭ কোটি ডলারের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ২ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপি বা প্রায় ২২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ তথ্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়। খবর রয়টার্স।
অনুমোদিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে অতি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, নজরদারি ও আঘাত হানার সরঞ্জাম এবং দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
ভারতের সেনাবাহিনীর জন্য উচ্চ গতিশীলতার যান (হাই মোবিলিটি ভেহিকল), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গোলাগুলির উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং হালকা বহুমুখী হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সেনাদের চলাচল, রসদ পরিবহন, গোলাবর্ষণ এবং শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হবে।
এছাড়া সেনাবাহিনীর জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। কামিকাজে ড্রোন হলো একটি আত্মঘাতী ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়।
নৌবাহিনীর জন্য জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজকে সুরক্ষা দিতে অ্যাকটিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আধুনিক নৌযান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, বিমানবাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রাডার কেনার প্রস্তাবও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার দেশের সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রীয় সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর।
বিসিআইসি আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার আমদানিতে ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ আরও সহজ হবে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিসিআইসির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে চারটি চালু রয়েছে। তবে গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটের কারণে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল) বন্ধ রয়েছে।
এসব কারখানা পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন চালু করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল পাওয়া গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।"
দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিআইসি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদন হয়েছে। একই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ইউরিয়া দিয়ে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান ছিল যথাক্রমে প্রায় ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এ পরিসংখ্যান থেকে বিশেষ করে ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্ধ টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালু করা গেলে এ দুই ধরনের সারের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে কারখানাগুলোর প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের সারের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, "দেশের সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।"
বিসিআইসি সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রধান শর্ত হলো প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। এ বিষয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ফসফরিক অ্যাসিডের ঘাটতি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় টিএসপি কমপ্লেক্সের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্ল্যান্টের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। ডিএপি কারখানার উৎপাদনও ফসফরিক অ্যাসিডের স্বল্পতার কারণে বন্ধ রয়েছে।
বিসিআইসি আগামী নভেম্বরের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি। কারখানাগুলো চালু রাখার ক্ষেত্রে গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র কারখানা চালু করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য এসব ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। পর্যাপ্ত গ্যাস এবং নির্ধারিত চাপ না থাকলে ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য ফসফরিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন। এ কারণে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বিসিআইসি।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়তে পারে।
বিসিআইসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই নয়, বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে পুরোনো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং কারখানাগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও আমদানিকৃত সারের ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়।
কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষি খাতে উৎপাদন উপকরণের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া কিংবা আমদানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে স্থানীয় উৎপাদন দেশের কৃষি খাতকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। একই সঙ্গে সার আমদানিতে ব্যয় কমানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে এ সুফল কতটা অর্জিত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ, কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।
বিসিআইসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। এ জন্য বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি কারখানা চালুর উদ্যোগ এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ