ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি ভাষার গুরুত্ব: জাতীয় শিক্ষানীতিতে বাস্তবায়নের রূপরেখা


তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি ভাষার গুরুত্ব: জাতীয় শিক্ষানীতিতে বাস্তবায়নের রূপরেখা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে দেশে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠানো দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এই রেমিট্যান্সের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি তেলসমৃদ্ধ দেশ— Saudi Arabia, United Arab Emirates, Oman, Qatar, Kuwait এবং Bahrain— একাই মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫% থেকে ৪৭% সরবরাহ করে। এসব অবদানের সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ভাষাগত সমস্যার কারণে নানা ধরনের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আরবি ভাষা শেখার বাধ্যতামূলক বিষয় হিসাবে এখনও দেখা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো দেশের কর্মসংস্থানের জন্য যেখানে ভাষা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে অধিকাংশ কর্মী বিদেশ যাওয়ার আগে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরবি শেখার সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না। প্রবাসগামী কর্মীদের জন্য মাত্র তিন দিনের একটি বাধ্যতামূলক ‘প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন’ (PDO) চলমান রয়েছে, যেখানে একটি ছোট বইয়ের মাধ্যমে কিছু সাধারণ শব্দ শেখানো হয়। কিন্তু এত স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ বাস্তব জীবনের যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার

অন্যদিকে, দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে (TTC) জাপানি বা কোরিয়ান ভাষার কোর্স থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক আরবি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া অধিকাংশ কর্মী অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ শ্রমিক হিসেবে নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা বা কৃষি খাতে কাজ করছেন। এসব কর্মস্থলে সহকর্মীদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের হওয়ায় বাংলা কিংবা অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় ভাষায় কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে স্থানীয় আরবি ভাষাভাষীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম পড়ে। আবার যারা কিছুটা প্রমিত আরবি (ফুসহা) শিখে যান, তারাও মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মিল না পাওয়ায় কার্যকরভাবে ভাষাটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

ভাষা শেখার প্রতি অনাগ্রহ ও সচেতনতার অভাবও এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। অধিকাংশ অভিবাসী কর্মী দ্রুত বিদেশে যাওয়াকেই অগ্রাধিকার দেন; ভাষা শেখার পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করার মানসিকতা বা সামর্থ্য তাদের অনেকের থাকে না। এর ফলে, ফিলিপাইন, ভারত বা শ্রীলঙ্কার কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভাষা দক্ষতায় পিছিয়ে পড়েন, এবং তুলনামূলক কম বেতনের কাজে নিয়োজিত হতে বাধ্য হন। এই ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৫২% বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মক্ষেত্র, চিকিৎসাসেবা এবং দৈনন্দিন জীবনে তীব্র যোগাযোগ সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের জীবনমান ও কর্মদক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মূল দ্বন্দ্ব হলো: বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ জনশক্তি পাঠালেও আরবি ভাষা না জানার কারণে তারা "অদক্ষ শ্রমিক" হিসেবে কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে, ভাষা শেখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ করার চেয়ে যেকোনো উপায়ে দ্রুত কর্মী বিদেশে পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভাষা না জানার কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে।

আরও পড়ুন: শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে ১৮ লাখ ডলার লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব

মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস (প্রায় ৫০%)। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান আধুনিক অর্থনীতিতে (যেমন: সৌদি ভিশন ২০৩০) উচ্চ বেতনের পেশাদার কর্মী পাঠাতে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে কেবল "জনশক্তি রপ্তানির বাজার" এবং "আর্থিক সাহায্যের উৎস" হিসেবে দেখে এসেছে, সমমর্যাদার রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়। আরবি ভাষায় দক্ষ কূটনৈতিক ও থিংক-ট্যাঙ্কের অভাবে বাংলাদেশ আরব বিশ্বের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে না, যা বহুমাত্রিক কূটনীতিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ওআইসি (OIC) এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (IDB) মতো সংস্থায় বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান প্রয়োজন। আরবি ভাষাকে তৃতীয় দাপ্তরিক বা কৌশলগত ভাষা হিসেবে গ্রহণ করলে আরব বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের সাথে সরাসরি ও গভীর লবিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ হলেও আরবি ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাবে মাঠপর্যায়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে পিছিয়ে পড়ে। ইংরেজি ও বাংলার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সামরিক বাহিনীকে আরব অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে পূর্ণ নেতৃত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে রাখছে।

আরও পড়ুন: কাজল: স্ত্রী অনুপ্রেরণায় ২১ বছর ধরে পাগলদের সেবায় মানবতার ফেরেশতা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি বড় অংশই পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার (MENA) আরবি ভাষাভাষী অঞ্চলে। সৌদি আরব বা ইউএই-এর মতো দেশের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ সামরিক মহড়া দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশীয় শক্তির (ভারত ও চীন) টানাপোড়েন সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আরব বিশ্বের সাথে যে মনস্তাত্ত্বিক ও ভাষাগত সেতুবন্ধন প্রয়োজন, তাকে দীর্ঘকাল ধরে একটি "সেকেন্ডারি অপশন" বা গৌণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মঞ্চে (যেমন জাতিসংঘ বা ওআইসি) রোহিঙ্গা সংকট বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে ১৭ কোটি মুসলিমের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে আরব বিশ্বের জোরালো সমর্থন প্রয়োজন। আরবি ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব: মধ্যপ্রাচ্যে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে (GCC) বাংলাদেশের লাখ লাখ অভিবাসী কর্মী কাজ করলেও তারা মূলত কম বেতনের অদক্ষ শ্রমে (Blue-collar jobs) নিয়োজিত। আরবি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে আয়ত্ত করলে বাংলাদেশ এই বিশাল জনশক্তিকে রিটেল, হসপিটালিটি, এভিয়েশন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো উচ্চ আয়ের পেশাদার খাতে (White-collar jobs) রূপান্তর করতে পারবে। এটি 'সৌদি ভিশন ২০৩০'-এর মতো মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক শ্রমবাজারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিলিপাইন বা ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে সমকক্ষ করে তুলবে।

আরও পড়ুন: লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪৭ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মূল ভিত্তি হলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্স (মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক)। তবে আরবি ভাষা না জানার কারণে বাংলাদেশি কর্মীরা অন্য দেশের তুলনায় ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কম বেতন পান এবং দালালের খপ্পরে পড়ে হুন্ডির মতো অবৈধ পথে টাকা পাঠান। কর্মীদের আরবি ভাষায় দক্ষ করা গেলে তাদের গড় আয় ও দরকষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একই সংখ্যক জনশক্তি থেকেই বৈধ চ্যানেলে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রেমিট্যান্স দেশে আনা সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক মূলত একমুখী—বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানি করে আর সেখান থেকে জ্বালানি তেল ও ঋণ আমদানি করে। আরবি ভাষার কৌশলগত ব্যবহার আরব বিশ্বের বড় বড় তহবিল (যেমন: সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড) এবং করপোরেট জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সেতু হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতিই কমাবে না, বরং বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সাধারণ 'দাতা-গ্রহীতা'র অবস্থান থেকে উন্নীত করে একটি শক্তিশালী 'অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য: বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষের আত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ইসলামের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, যার মূল ভিত্তি আরবি ভাষা। তবে এই সংযোগটি প্রধানত পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আরবি ভাষাকে কৌশলগত গুরুত্ব দিয়ে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চর্চা করলে মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানবিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস এবং দর্শনের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি ও জীবন্ত সংযোগ তৈরি হবে। এটি ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতিকে একটি বাস্তবমুখী, আন্তর্জাতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিতে রূপান্তর করবে।

বাংলাদেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার (আলিয়া ও কওমি) মাধ্যমে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করে। কিন্তু আধুনিক ও ফলপ্রসু যোগাযোগ দক্ষতার (Communicative Arabic) অভাবে এই শিক্ষার্থীরা দেশের মূলধারার অর্থনীতি বা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে না। মাদ্রাসার এই ঐতিহ্যিক আরবি শিক্ষাকে যদি পেশাদার ও আধুনিক যোগাযোগমুখী করা যায়, তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অনুবাদক, কূটনৈতিক উপদেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চপদে সরাসরি যুক্ত হতে পারবে। এটি মাদ্রাসা শিক্ষাকে একটি বিশাল মানবসম্পদে রূপান্তর করবে।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা তীব্র শারীরিক পরিশ্রম করার সত্ত্বেও কেবল ভাষা ও সংস্কৃতির দূরত্বের কারণে স্থানীয় সমাজে যথাযথ সামাজিক সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা পান না। আরবি ভাষায় সাবলীলতা আরবদের মনে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক আপনত্ব তৈরি করবে। এটি কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে প্রবাসীদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করবে। একই সাথে, দেশের ভেতরেও আরবি জানা ব্যক্তিদের একটি উচ্চ সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা সৃষ্টি হবে।

নীতি ও শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সনাতন আরবি ব্যাকরণ ও ধর্মীয় টেক্সট পড়ানোর শিক্ষকরা অনেক থাকলেও, আধুনিক ও ফলপ্রসূ যোগাযোগের ভাষা (Communicative and Functional Arabic) শেখানোর দক্ষ শিক্ষকের চরম সংকট রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আরবিতে সাবলীলভাবে কথা বলা, লেখা এবং পেশাদার অনুবাদে দক্ষ শিক্ষকের অভাব একটি বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিগণিত। ফলে শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর আরবি পড়লেও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষাটি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছে না।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় (বিশেষ করে মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে) আরবির যে পাঠ্যক্রম রয়েছে, তা মূলত তাত্ত্বিক, সাহিত্যিক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রযুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উপভাষাগুলোর (Dialects) কোনো প্রতিফলন এই পাঠ্যক্রমে নেই। এই আধুনিক ও প্রয়োগিক সিলেবাসের ঘাটতির কারণে ডিগ্রি অর্জন করার পরও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক করপোরেট ক্ষেত্র বা কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অযোগ্য আবিষ্কার করে।

বৈশ্বিক ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইংরেজিকে প্রথম এবং প্রধান আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি, উচ্চ বেতন ও নিশ্চিত চাকরির আকর্ষণে দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ বর্তমানে কোরিয়ান, জাপানি কিংবা জার্মান ভাষা শেখার দিকে ঝুঁকছে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে আরবি ভাষাকে কেবল একটি "ধর্মীয় অনুষঙ্গ" হিসেবে দেখার কারণে এটি আধুনিক তরুণদের কাছে ক্যারিয়ার গড়ার ভাষা হিসেবে আকর্ষণ হারাচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরবিকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভাষা হিসেবে ব্র্যান্ডিং করতে না পারাটাই এই প্রতিযোগিতায় আরবির পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ।

আরও পড়ুন: সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, জানালেন বাবা-মা

জাতীয় শিক্ষানীতি: কৌশলগত দূরদর্শিতার অভাব ও আরবির প্রান্তিককরণ

বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতিতে ইংরেজিকে একমাত্র আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ক্যারিয়ারের ভাষা হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও ভূ-রাজনীতিতে আরবির বিশাল কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও একে শিক্ষানীতিতে গোটা মাত্র একটি 'ঐচ্ছিক' বা 'ধর্মীয় বিষয়' হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন এনে আরবিকে একটি 'অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভাষা' (Commercial Language) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। ভাষাটিকে আধুনিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (Vocational Education) সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতার অভাব এখানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

মাদ্রাসা শিক্ষা বনাম সাধারণ শিক্ষার ভূমিকা: ভাষাগত বিভাজন ও সমন্বয়ের অভাব

বাংলাদেশে আরবির প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা সম্পূর্ণভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রিক, যেখানে ভাষাটিকে মূলত ধর্মীয় টেক্সট ও ঐতিহ্যগত ব্যাকরণ বোঝার মাধ্যম হিসেবে পড়ানো হয়—আধুনিক যোগাযোগের জন্য নয়। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষায় (স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) আরবির উপস্থিতি একেবারেই নামমাত্র, যার ফলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকেরা মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ আয়ের বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না। এই দুই ধারার মধ্যে তীব্র বিভাজনের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আরবি জানলেও আধুনিক দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, আর সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়েও ভাষা না জানার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জিততে এই দুই ধারার সমন্বয়ে একটি 'যোগাযোগমুখী আরবি' (Communicative Arabic) কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া তিনটি দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ । তবে বাংলাদেশে আরবির ব্যবহার মূলত পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মতো ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। অপরদিকে, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া আরবিকে কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে না রেখে একে ইসলামিক ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক হালাল বাণিজ্য এবং উচ্চশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে বাস্তবমুখী রূপ দিয়েছে। তারা ধর্মীয় সংযোগকে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে (Economic Force) রূপান্তর করেছে।

বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ অদক্ষ বা আধা-দক্ষ শ্রমিক পাঠায়, যারা ভাষা না জানার কারণে সর্বনিম্ন মজুরি পায়। এর বিপরীতে, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া আরবি ভাষার দক্ষতাকে মধ্যপ্রাচ্যের (GCC) সাথে উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে (Economic Diplomacy) ব্যবহার করে। মালয়েশিয়া তাদের ভাষাগত সেতুবন্ধন কাজে লাগিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌম তহবিল (যেমন: সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড) থেকে বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে আরবিকে ধর্মীয় ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় আরবি ভাষাকে একটি কৌশলগত 'আন্তর্জাতিক ভাষা' হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (Kemenhan) তাদের সামরিক বাহিনীর আন্তর্জাতিক মিশন, কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অপারেশনের জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরবি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করেছে। সাধারণ শিক্ষা ও সামরিক নীতিতে আরবির এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অন্তর্ভুক্তি তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।

সুপারিশমালা (Policy Recommendations)

বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আরবি ভাষাকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:

১. শিক্ষানীতির আধুনিকায়ন ও ব্র্যান্ডিং: আরবিকে কেবল ধর্মীয় বিষয় হিসেবে না দেখে একটি 'কৌশলগত অর্থনৈতিক ভাষা' হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ধারায় (স্কুল-কলেজে) আইটি ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি 'যোগাযোগমুখী আরবি' (Communicative Arabic) ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে চালু করা প্রয়োজন।

২. মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়: মাদ্রাসা শিক্ষার সনাতন পাঠ্যক্রমে মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক উপভাষার (Dialects) উপাদান যুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, সাধারণ ধারার দক্ষ পেশাদারদের (ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স) জন্য বিশেষায়িত ক্র্যাশ কোর্স চালু করতে হবে।

৩. বিদেশে যাত্রার পূর্বে বাধ্যতামূলক দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ: মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য ৩ দিনের নামমাত্র ওরিয়েন্টেশনের পরিবর্তে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (TTC) ন্যূনতম ৩ মাসের বাধ্যতামূলক ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালু করতে হবে।

৪. কূটনৈতিক উইং ও থিংক-ট্যাঙ্ক গঠন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবি ভাষায় উচ্চতর দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষায়িত কূটনৈতিক দল গঠন করতে হবে, যারা মধ্যপ্রাচ্যের নীতিনির্ধারক ও করপোরেট জায়ান্টদের সঙ্গে সরাসরি লবিং করার ক্ষমতা রাখবে।

উপসংহার: একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে তার ঐতিহ্যগত 'সস্তা শ্রম রপ্তানিকারক' দেশের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্সের উৎস নয় বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক বিশাল ক্ষেত্র। ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো ভাষাগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ আয়ের বাজার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানগুলো দখল করে নিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চোখ খোলার মতো উদাহরণ।

আরবি ভাষাকে বাংলাদেশের 'তৃতীয় কৌশলগত ভাষা' হিসেবে গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। যথাযথ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষানীতির দূরদর্শী সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ভাষার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ তার প্রবাসী আয়ের গুণিতক বৃদ্ধি করতে পারবে। একই সাথে বৈশ্বিক মঞ্চে দেশ এক নতুন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ
 
কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধীন ধলডাঙ্গা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মাস্টারপাড়া নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
 
কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধসহ যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি প্রতিটি বিওপি থেকে বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
 
জব্দকৃত গাঁজার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ এম


রাজশাহী পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন

রাজশাহীতে পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন দরপতনে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে হাজার হাজার চাষিকে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে। সংরক্ষণে পচন, ওজন কমে যাওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ—সব মিলিয়ে পেঁয়াজচাষিদের মধ্যে হতাশার ছায়া নেমে এসেছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, তবে কৃষকের মুখে হাসি নেই। দামে ধস নামায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা বা আগামজাতের পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টন। অন্যদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ টন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বত্রেই তাহেরপুরী ও নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। এর আগে রাজশাহীতে এত পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, যেখানে অন্যান্য বছর এই সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে জাতভেদে দাম নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ফলে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দাম পাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করে রাখার কারণে অনেক পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যাচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ পচেও নষ্ট হচ্ছে। বাজারে ওজন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন ভীষণ হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন মাত্র এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। সংসারের সবজি কিনতেও তাকে আরো এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। তিনি জানালেন, গত ২০ বছরে এমন দাম তিনি আর কখনও দেখেননি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহই দরপতনের প্রধান কারণ। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, এবার উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। তবে সংরক্ষণ সমস্যার কারণে কৃষকরা ঘরে রাখতে পারছেন না। ফলে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসছে। মোকামে যদি বেশি দামে বিক্রি করতে না পারি, তবে বেশি দামে কিনব কীভাবে? পবার কৃষক শুকুর মোহম্মদ বলেছেন, এবারের পেঁয়াজে বড় লোকসান খাবো। আগেরবার চাষ করে কিছু লাভ হয়েছিলো, তবে এবার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লোকসান হবে। বাজারে দামের এমন পরিস্থিতি কিভাবে সামলাবেন, তা বুঝতে পারছি না। চাষিরা জানিয়েছেন, নিজস্ব জমিতে প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ চাষে খরচ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। লিজ নেওয়া জমিতে এ খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, যেখানে জমির ভাড়াই বিঘাপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। চাষিরা বাজারদর পতনের জন্য আগের পেঁয়াজ আমদানিকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে যখন দেশীয় ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে উঠছিল, তখন আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এসে স্থানীয় উৎপাদন ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের জোগান বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। অনেক কৃষক পচনের আশঙ্কায় দ্রুত বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দরপতন হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে। আর কৃষকদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণসুবিধা বাড়ানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। তা ব্যতিত আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন অনেক কৃষক। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পরিচর্যা শাখার পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানিয়েছেন, পেঁয়াজ সারা বছর খাওয়া হলেও যদি সবাই একসঙ্গে বিক্রি করতে যায়, তবে বাজারদর কমে যায়। তাই ফসল কাটার পরপরই উৎপাদন খরচ উঠে আসার আশা করা উচিত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
"মাছির যন্ত্রণায় শ্বশুরবাড়ি আসা বন্ধ জামাইদের"

মুরগির খামারের মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, তদন্তে মিলল অভিযোগের সত্যতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ এম


মুরগির খামারের মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, তদন্তে মিলল অভিযোগের সত্যতা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামে বর্তমানে এক নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট বিরাজ করছে। প্রতিদিন জমে থাকা মুরগির বিষ্ঠার কারণে প্রবল দুর্গন্ধ ও অসহনীয় মাছির উপদ্রবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবারের জীবন। ঘরে খাবার রাখতে পারা যাচ্ছে না, স্বাভাবিকভাবে খাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমনকি নবজাতক শিশুকে মাছির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাঝেমধ্যে মশারির ভিতরে রাখতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো প্রতিকার না পাওয়ার ফলশ্রুতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঈশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ হলো, স্থানীয় খামারমালিক স্বপন পরিচালিত একটি লেয়ার মুরগির খামারে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে মুরগির বিষ্ঠা জমিয়ে রাখা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ কিংবা দুর্গন্ধনাশক পদার্থ ব্যবহারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, তাই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম দুর্গন্ধ। পাশাপাশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মাছির উপদ্রবও। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১২০টি পরিবারের ৬৪২ জন সদস্য রয়েছেন। গত তিন মাসের মধ্যে খামার থেকে উৎপন্ন পরিবেশ দূষণ ও মাছির আক্রমণ এমন সীমায় পৌঁছেছে যে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, খামারের ভেতরে মুরগির বিষ্ঠা স্তূপ করা আছে। চারপাশে অসংখ্য মাছি উড়ছে। খামারের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধের কারণে। বাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে খাবার টেবিল পর্যন্ত সর্বত্র মাছির রাজত্ব। গ্রামের বাসিন্দা রোহেনা বেগমের মুখে ফুটে উঠেছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির চিত্র। তিনি বলেন, “তরকারি রান্না করে রাখতে পারি না। খাবার পরিবেশন করলে মাছি এসে ভাতের প্লেট ও তরকারিতে বসে যায়। পরিবারের সদস্যদের সঠিকভাবে খাবার দিতে পারছি না। মাছির কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

রোহেনা জানান, আগে খামারটিতে সোনালি জাতের মুরগি পালন করা হতো। তখন কিছুটা দুর্গন্ধ থাকলেও বর্তমানে যে মাত্রার মাছির উপদ্রব দেখা দিয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি দ্রুত প্রতিকার না পেলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একইভাবে কয়েক দিন আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেওয়া গৃহিণী লিপি খাতুনও একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। নবজাতক শিশুকে নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “শিশুর শরীর ও মুখে মাছি এসে বসে থাকে। সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। ঘরে খাবার রাখলেই মাছি এসে ভরে যায়। নবজাতককে নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “মাছির অত্যাচারে আত্মীয়রা এখন বাড়িতে আসতে চান না। জামাইকে খেতে দিলে খাবারের ওপর মাছি বসে যায়। ঘেন্না আর অস্বস্তির জন্য এখন তিনিও বাড়িতে আসেন না।” তিনি অভিযোগ করেছেন, গ্রামের মানুষ স্বাভাবিক রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। অনেক সময় দেখা যায় খাবারের সঙ্গে মাছি মুখে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ও ভূমি কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের ফলেও অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খামারের বর্জ্য থেকে উৎপন্ন দুর্গন্ধ পুরো গ্রামে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি গবাদিপশুকেও স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খামারে দুর্গন্ধনাশক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে পরিবেশ দূষণ বেড়ে গিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন জানান, “গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করেছি। সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই খামারমালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে খামারমালিক স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় জনগণের আশঙ্কা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের দাবি, জরিমানার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। ঈশ্বরীপুরের মানুষ এখন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন-তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ার পরও তারা আর কতদিন দুর্গন্ধ ও মাছির সঙ্গে বসবাস করতে হবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেহাল চন্দনবাইশা-বগুরা সড়কে ভোগান্তি চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫০ এম


বেহাল চন্দনবাইশা-বগুরা সড়কে ভোগান্তি চরমে

 

বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের কারণে জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সারিয়াকন্দির চদনবাইশা-বগুড়া দীর্ঘ বাইপাস সড়কের বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। সড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী সহ সাধারণ জনগণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিএনজি চালিত থ্রি হুইলার, ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল এ পথে ছুটে চলে। সম্প্রতি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে এ রাস্তায় হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বর্ষার এই সময়ে গর্তে পানি জমে গিয়ে সড়কটি সত্যিকার অর্থে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় ঘুঘুমারী গ্রামের কুদরত-ই-খুদা চাঁন জানান, বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়কটির বেহাল অবস্থায় রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে চরের ৫ ইউনিয়নে জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া করা রোগীদের দুর্ভোগের কোন শেষ নেই। অটোরিকশা চালক হাসেম আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী তুলতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ির ঝাঁকুনির কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটে। মাঝে মাঝে গাড়ি থেকে যাত্রী পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামের সোহান শেখ অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গElmচট, ২০২৩ সালের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই সড়কের ভাঙন দেখা দিয়েছে। তখন কিছুটা মেরামত করা হলেও, কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কে এই অবস্থা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সড়কের করিতলা থেকে রৌহদহ পর্যন্ত সড়কে দিন-রাত বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। আর এই গর্তে দুর্ভোগের শেষ নেই। এই প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার বলেন, এ ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%