মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২১ এম
বর্তমানে সারা বিশ্ব জুড়ে জাহাজ নির্মাণের একটি বিশাল প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো দেশগুলো এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করছে। নতুন বাণিজ্যিক পথের সৃষ্টি, জাহাজের আধুনিকীকরণ, পরিবেশের কঠোর নিয়ম এবং ধনী শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভর করে তারা এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূল, সস্তা শ্রম এবং জাহাজ নির্মাণের সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, এই বিশাল সুযোগটি বাংলাদেশ পুরোপুরি হাতছাড়া করছে।
বাংলাদেশের সক্ষমতা যে বিশ্বমানের জাহাজ তৈরি করার, তা প্রায় ২০ বছর আগে প্রমাণিত হয়েছে। বিদেশি মুদ্রা অর্জনের একটি দুর্দান্ত সুযোগ দেশের সামনে এসেছিল। দুঃখজনকভাবে, পুরো শিল্পটি দেনা এবং বাজে ব্যবস্থাপনার জালে আটকে পড়েছে। দুর্নীতি এবং দুর্বল নজরদারির কারণে ব্যবসার প্রকৃত ক্ষতি এবং আর্থিক অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববাজারের মন্দার প্রভাব কি এই শিল্পের ক্ষতির কারণ ছিল, নাকি লোভ, অযৌক্তিক ঋণ প্রদান এবং ঋণখেলাপিরাই মূল কারণ? আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কিছু ভূমিকা ছিল, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে খারাপ ঋণ এবং পাওনা আদায়ের দুর্বল নিয়ম। এই বিষয়গুলো পুরো খাতকে ধ্বংস করেছে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণের জোয়ার
বিশ্ববাজারের দিকে নজর দিলে বোঝা যায় বাংলাদেশ কত বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জাহাজ তৈরির কারখানাগুলোতে ২০ কোটি ৩২ লাখ কমপেনসেটেড গ্রস টন (সিজিটি) ক্ষমতার জাহাজের অর্ডার জমা ছিল। এটি ২০২৬ সালের মে মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২১ কোটি ৪ লাখ সিজিটির খুব কাছাকাছি।
এই বৈশ্বিক অর্ডারের ৬৪ শতাংশ চীনের দখলে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে ১৯ শতাংশ এবং জাপানের দখলে ছয় শতাংশ। গত এক বছরে নতুন যে অর্ডার এসেছে, তার ৭৪ শতাংশই চীন দখল করেছে।
সমুদ্রবাণিজ্যের নতুন দ্বার
জাহাজ নির্মাণের এই প্রবাহের পেছনে কয়েকটি কারণ বিদ্যমান। প্রথমত, শিপিং কোম্পানিগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচুর লাভ করেছে। তাদের হাতে নতুন জাহাজ কেনার জন্য প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাহাজগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে, যা নতুন জাহাজের চাহিদা বাড়াচ্ছে।
তৃতীয়ত, পরিবেশ রক্ষার বৈশ্বিক নিয়ম পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এখন পরিবেশবান্ধব এবং কম জ্বালানি পোড়ানো জাহাজের জন্য চাপ দিচ্ছে। ফলে মালিকদের নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব জাহাজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। চতুর্থত, বিশ্বের বিদ্যমান জাহাজের বহর বেশ পুরনো হয়ে গেছে। পুরনো জাহাজের পরিবর্তে নতুন জাহাজ আনা এখন সময়ের দাবি।
এই প্রবাহের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। শিপইয়ার্ডগুলো যেভাবে দ্রুত ব্যবসা বাড়াচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হঠাৎ থমকে গেলে জাহাজের অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিতে পারে। তবুও, নির্ভরযোগ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজারে বিশাল সুযোগ রয়ে গেছে। বাংলাদেশের উচিত ছিল সেই নির্ভরযোগ্য নির্মাতাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
বাংলাদেশের শুরুর দিকের সম্ভাবনা
বাংলায় কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরির ঐতিহ্য শত শত বছরের পুরোনো। তবে ইস্পাতের আধুনিক জাহাজ তৈরি করতে উন্নত নকশা, আন্তর্জাতিক মানের ওয়েল্ডিং, সুরক্ষাসংক্রান্ত সঠিক অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ চলতি মূলধন প্রয়োজন।
২০০০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশের শিপইয়ার্ডগুলো দেখিয়ে দিয়েছিল যে তারা এই মান বজায় রাখতে সক্ষম। আনন্দ শিপইয়ার্ড ২০০৮ সালে ডেনমার্কে একটি পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানি করেছিল। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সুনাম অর্জন করেছিল। তারা প্রায় ১৫০টির মতো জাহাজ তৈরি করে, এর মধ্যে ১২টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করে।
এই অর্জনগুলো আমাদের কারিগরি দক্ষতার পরিচয় দেয়। তবে এই রপ্তানি সুবিধা বেশিদিন টেকেনি। ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি করে বাংলাদেশ এক ডলারও আয় করতে পারেনি।
শিল্পের পতনের পেছনে ব্যাংকিং সংকট
সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে ব্যাংক খাতে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙা খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩১ কোটি টাকাই খেলাপি। শতকরা হিসাবে এই খেলাপির হার ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ।
ইস্পাত, যন্ত্রপাতি এবং ইলেকট্রনিক্স কেনার জন্য জাহাজ নির্মাণ খাতে শুরুতেই বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয়। বিদেশের ইয়ার্ডগুলো দীর্ঘমেয়াদি শিল্পঋণ, রপ্তানি গ্যারান্টি এবং ক্রেতাদের কিস্তিতে দেওয়া টাকার ওপর নির্ভর করে চলে। আর বাংলাদেশের শিপইয়ার্ডগুলো নির্ভর করেছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর।
বাইরের ধাক্কাগুলো এসে লাগল খুব জোরেশোরে। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার কারণে অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেল। বকেয়া ঋণের সুদের বোঝা হু-হু করে বাড়তে থাকল। তবে শুধু দুর্ভাগ্য দিয়ে সন্দেহজনক ঋণগ্রহণ বা ঋণের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার অপরাধ ঢাকা যায় না।
ব্যবসায়ের স্বাভাবিক ক্ষতি এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়ার মধ্যে আমাদের পার্থক্য করতে হবে। একই সঙ্গে প্রমাণিত অপরাধ এবং অপ্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
আনন্দ শিপইয়ার্ড: ১৩০০ কোটি টাকার ঋণ বিতর্ক
শিল্পপতিদের অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যাংকের খারাপ নিয়মকানুনের বলি কীভাবে একটি খাত হতে পারে, আনন্দ শিপইয়ার্ড তার বড় উদাহরণ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল অঙ্কের ঋণ দিয়েছিল।
জামানত কিংবা প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে ব্যাংক কর্মকর্তারা কীভাবে এই ঋণ দিলেন? নিয়ম ভাঙা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই হবে। তবে দুদকের তদন্ত মানেই আদালতের রায় নয়। আনন্দের কারিগরি সক্ষমতা কিন্তু এখনো হারায়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা তুরস্কের এক ক্রেতার কাছে ৫ হাজার ৫০০ ডেডওয়েট টনের একটি জাহাজ হস্তান্তর করেছে। কারিগরি দক্ষতার কোনো অভাব ছিল না, অভাব ছিল আর্থিক শৃঙ্খলার।
ওয়েস্টার্ন মেরিন: দেনার দায়ে চাপা পড়া শিল্পসম্ভাবনা
ওয়েস্টার্ন মেরিনের গল্পটিও বেশ করুণ। ৯৩৮ দশমিক ৭২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ২০২৩ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করে ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০২৪ সালের শেষের দিকে কোম্পানিটির মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকার অনাদায়ী সুদ। সব মিলিয়ে তাদের মোট দায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা ওয়েস্টার্ন মেরিনের ওপর সরাসরি এসে পড়েছিল। ২০০৮ সালে এক জার্মান ক্রেতা তাদের ১২টি বরফ-প্রতিরোধী জাহাজের মধ্যে আটটির অর্ডার বাতিল করে দেয়। ডেনমার্কের ক্রেতারাও অন্যান্য অর্ডার বাতিল করে। অর্ধেক তৈরি হওয়া অবিক্রীত জাহাজগুলো ইয়ার্ডের আর্থিক অবস্থা ধ্বংস করে দেয়।
তা সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ফেলেছিল এবং আর্থিক ঝুঁকি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ঋণের বোঝা পাহাড়সম হলেও পরিচালকরা টাকা চুরি করেছেন, এমনটি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ওয়েস্টার্ন মেরিন এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সঠিক সংস্কার করা গেলে এই প্রতিষ্ঠানটিকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব।
এফএমসি ডকইয়ার্ড: অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ
এফএমসি ডকইয়ার্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোয় এফএমসি ডকইয়ার্ডের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। বড় ঋণখেলাপিদের তালিকায় তাদের নাম উঠে আসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে এত টাকার ঋণের পাহাড় গড়ার সুযোগ দিল?
টাকা পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষকে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে, টাকা উদ্ধার করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।
লোভ, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ না দেওয়ার সংস্কৃতি
বাংলাদেশে ঋণ শোধ না দেওয়ার একটি খারাপ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ধনী ঋণগ্রহীতারা খেলাপি হয়েও পার পেয়ে যান। ফলে ঋণ শোধ করার কোনো আগ্রহ তাদের থাকে না। তারা রাজনৈতিক প্রভাব, আদালতের আইনি বিলম্ব এবং ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার ওপর নির্ভর করে চলেন।
এতে চরম নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়। সাধারণ আমানতকারী এবং করদাতাদের টাকায় ঝুঁকি নেন বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা। অনাদায়ী ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর হাত খালি হয়ে যায়। অন্যান্য শিল্পগুলো ঋণের অভাবে ভোগে, দক্ষ শ্রমিকরা চাকরি হারায়, এবং পুরো একটি খাতের অর্জিত অভিজ্ঞতা বাতাসে মিলিয়ে যায়।
বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে কি না, তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক অনুসন্ধান এবং আদালতের রায়। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া জামানত, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দুর্নীতিবাজ ঋণদাতাদের মুখোশ খুলে দেওয়া সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে পড়ল
বাংলাদেশে জাহাজশিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। চীনের মতো আমাদের এখানে ইস্পাত, ইঞ্জিন বা জাহাজের যন্ত্রাংশ তৈরির নিজস্ব কারখানা নেই। আমাদের শিপইয়ার্ডগুলোকে প্রায় সবকিছুই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা কম এবং ইয়ার্ডগুলো আকারে ছোট। এখানে বিশাল আকারের কনটেইনার জাহাজ বা এলএনজিবাহী জাহাজ বানানো সম্ভব নয়। আমাদের উচিত টাগবোট, ফেরি, ছোট পণ্যবাহী জাহাজ এবং উপকূলীয় নৌযানের মতো ছোট আকারের জাহাজে জোর দেওয়া।
এই শিল্প কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনর্গঠনের একটি বিশেষ সুযোগ দেয়। সমস্যায় থাকা ইয়ার্ডগুলো দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা পাবে। তবে জালিয়াতি বা ইচ্ছাকৃতভাবে যারা খেলাপি হয়েছে, তারা এই সুবিধা পাবে না।
এই নিয়মের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সরকারের উচিত প্রতিটি ইয়ার্ডের অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। বাজারের ধাক্কায় বিপদে পড়া সৎ ইয়ার্ডগুলোর ঋণ পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করা উচিত। আর যারা টাকা চুরি করে খেলাপি হয়েছে, আইনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়ন, রপ্তানি গ্যারান্টি এবং সঠিক নজরদারি। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ঋণ আদায়ের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
যে সুযোগ আর হারানো চলবে না
বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণের চলমান প্রবাহ আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, নিজেদের ভুলের খেসারত আমরা কতখানি দিচ্ছি। অন্য দেশগুলো যখন বিশাল সব অর্ডার পাচ্ছে, বাংলাদেশ তখন ঋণের মামলা এবং খেলাপি টাকার জালে আটকে আছে।
ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আর্থিক অপরাধকে আমাদের আলাদা চোখে দেখতে হবে। তবে জাহাজ নির্মাণের মতো শিল্প থেকে দেশের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সঠিক হবে না। তবে কৌশলগত গুরুত্বের অজুহাত দেখিয়ে বারবার ঋণ মাফ করার কোনো মানে হয় না।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন খাঁটি উদ্যোক্তা, যারা সত্যিই জাহাজ বানাবে, কোনো ধারাবাহিক ঋণখেলাপি নয়। ভালো জাহাজ বানানোর মতো দক্ষ শ্রমিক, প্রকৌশলী এবং ইয়ার্ড আমাদের এখনো আছে। আমাদের শুধু অভাব সততার সঙ্গে অর্থায়ন, ভালো ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর আইনি জবাবদিহিতার।
অতীতের অনিয়ম নিয়ে অযথা তর্ক না করে আমাদের আবার জাহাজ বানানো শুরু করতে হবে। বাংলাদেশ যদি সত্যিই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে যে আর্থিক ভুলগুলো একে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, সেগুলোর সমাধান করতে হবে।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাউথ এশিয়া জার্নালের প্রকাশক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বাস ও লরির মধ্যে সংঘর্ষের ফলে নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কুমিরা রয়েল গেইট এলাকায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি নেত্রকোনায় বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লরিকে হেফাজতে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপেক্ষার সময় শেষ হয়েছে। গতকাল রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন হ্যারি কেইন, অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস, এবং লামিনে ইয়ামালসহ অন্যান্যরা।
চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের তালিকা—
ছেলেদের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী : হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী : অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)
ছেলেদের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় : লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় : ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ : পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ : লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলরক্ষক : কাতা কোল (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলরক্ষক : উনাই সিমোন (স্পেন)
সক্রেটিস পুরস্কার : বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)
মেয়েদের সেরা ক্লাব : বার্সেলোনা
ছেলেদের সেরা ক্লাব : পিএসজি
ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার : হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার : শার্লিন কোবরাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানোর অভিযোগে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই যাত্রীর পাঠানো বার্তায় বিমান ছিনতাই এবং নির্দিষ্ট আসনের সারিতে আঘাত করার হুমকির বিষয়টি উঠে এসেছে। এই ঘটনার কারণে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি বিমান মাঝআকাশ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
অভিযুক্তের নাম দান্তে মিলনে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি নিজের মুঠোফোনে লিখেছিলেন, তিনি বিমানটি ছিনতাই করবেন এবং একটি নির্দিষ্ট আসনের সারিতে আঘাত করবেন। তবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি কীভাবে বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল কিংবা কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল।
ঘটনার পর মিলনেকে লাস ভেগাসের ক্লার্ক কাউন্টি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হুমকি দেওয়া বা এ-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরে ১০ হাজার ডলারের মুচলেকায় তিনি মুক্তি পান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে। লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউ জার্সির নেওয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ১৬৮১ নম্বর ফ্লাইটে ১৫০ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। বিমানটি বোয়িং ৭৩৭ মডেলের ছিল।
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এক বিমানবালা মিলনেকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা লিখতে দেখেন। নিরাপত্তা বিধি মেনে তিনি সরাসরি ওই যাত্রীর মুখোমুখি না হয়ে দ্রুত পাইলটকে খবর দেন। এরপর পাইলট ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন এবং লাস ভেগাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে। পাইলট জানান, বিমানবালা ওই যাত্রীর বার্তা দেখে ছিনতাইয়ের হুমকির কথা জানান। এরপর তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে ফিরে আসেন।
নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটকানো হয়েছে কি না, পাইলট জানান, তাকে বেঁধে রাখা হয়নি। কারণ, ক্রুরা যে তার বার্তা দেখেছেন, তা তিনি জানতেন না।
বিমানের গতিপথের তথ্য অনুযায়ী, এটি এক ঘণ্টারও কম সময় আকাশে ছিল। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানটি নিরাপদে লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে লাস ভেগাস মহানগর পুলিশের সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। তারা কোনো বাধা ছাড়াই মিলনেকে আটক করেন।
পরে সব যাত্রীকে বিমান থেকে নামানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিতে বিস্তারিত তল্লাশি চালায়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
তবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের কারণে পাইলট ও ক্রুদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে যায়। ফলে বাকি ১৪৯ যাত্রীকে লাস ভেগাসে রাত কাটাতে হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী তাদের নেওয়ার্কের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল।
নেভাডা অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে হুমকি দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক বিমানে যাত্রীদের অসদাচরণের এক হাজার ৪০০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যখন কোনো ব্যক্তি চরম হঠকারিতা, অহংকার এবং বারবার সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার হৃদয়ে এমন এক অবস্থা তৈরি হয় যেখানে কোনো ভালো কথা, উপদেশ বা হেদায়েত আর কাজ করে না। কোরআনের ভাষায় বলা হয়েছে, ‘এদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে।’ কোনো পাত্রের মুখ বন্ধ করে সিল বা মোহর মেরে দিলে যেমন তাতে আর নতুন কিছু ঢোকানো যায় না, তেমনি অন্তরে মোহর পড়ার পর সেখানে আর কোনো ঈমান, অনুশোচনা বা সত্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। ব্যক্তি তখন ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
পবিত্র কোরআনের আয়াতের আলোকে যেসব কাজ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষের অন্তরে মোহর পড়ে, সেগুলো জানা ঈমান রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে এমন ৯ শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে অন্তরে মোহর পড়ার বিষয়টি সম্পর্কিত।
১. কুফর বা অবিশ্বাস : আল্লাহ তাআলা বলেন, এসব জনপদের কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই তাদের কাছে তাদের রাসুলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা আগে থেকেই যা অস্বীকার করেছিল, তার প্রতি ঈমান আনতে প্রস্তুত ছিল না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত : ১০১)
২. মুনাফিকি বা কপটতা : মুনাফিকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা পেছনে থেকে যাওয়া লোকদের সঙ্গে থাকতে সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে; ফলে তারা বুঝতে পারে না।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৮৭)
৩. পাপাচারে ডুবে থাকা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা পৃথিবীর পূর্ববর্তী অধিবাসীদের পর তাদের উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কি এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি যে আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের কারণে তাদেরও বিপদে আক্রান্ত করতে পারি এবং তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিতে পারি? ফলে তারা শুনতে পায় না।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত : ১০০)
৪. অজ্ঞতা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এভাবেই আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন, যারা জানে না।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত : ৫৯)
অজ্ঞতা দুই ধরনের হতে পারে—সত্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। সত্য জানার পরও সে অনুযায়ী আমল না করা।
৫. আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এ কারণে যে তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে বেশি পছন্দ করেছে। আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না। তারাই সেই লোক, যাদের অন্তর, কান ও চোখের ওপর আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন; আর তারাই উদাসীন।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ১০৭-১০৮)
৬. প্রবৃত্তির অনুসরণ করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারাই হলো সেসব লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং যারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৬)
অর্থাৎ যারা সত্যকে গ্রহণ করার পরিবর্তে নিজেদের কুপ্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, তাদের অন্তর সত্য উপলব্ধি করা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
৭. অহংকার ও ঔদ্ধত্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের কাছে আগত কোনো দলিল-প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের এ কাজ আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৩৫)
অহংকারের একটি বড় লক্ষণ হলো সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও অহংকারবশত তা প্রত্যাখ্যান করা এবং অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করা।
৮. আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের শিক্ষাকে অস্বীকার করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তাদের পরে আমি বহু রাসুলকে তাঁদের জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা আগে থেকেই যা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাতে বিশ্বাস করার ছিল না। এভাবেই আমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দিই।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৭৪)
৯. ঈমান আনার পর কুফরি করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এ কারণে যে তারা ঈমান এনেছিল, তারপর কুফরি করেছিল। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে; তাই তারা বুঝতে পারে না।’ (সুরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত : ৩)
অর্থাৎ ঈমান গ্রহণের পর তা প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের অন্তরে মোহর পড়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ