মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৩ পি.এম
নাটোরে সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৪ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নাটোরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সাক্ষরতার হারকে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা এসডিজি’র অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।
সভায় জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, "এসডিজি’র অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সাক্ষরতার হারকে শতভাগে উন্নীতকরণে আমরা কাজ করে যাবো। এ ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।"
সভায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো নাটোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রনি আহম্মেদ স্বাগত বক্তব্যে জানান, ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী নাটোরে সাক্ষরতার হার ছিল ৭১ শতাংশ। ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক শুমারী অনুযায়ী বর্তমানে তা ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ, ধাপে ধাপে জেলায় সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সহকারী পরিচালক আরও জানান, সাক্ষরতা বলতে বোঝায় লিখতে, পড়তে, হিসাব করতে পারার পাশাপাশি ব্যক্তির পেশা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা। নাটোরে শতভাগ সাক্ষরতার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমানে ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্ম দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ চলমান রয়েছে।
এই ছয় মাস মেয়াদী কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আগামী বছরের শুরুতে জেলার গুরুদাসপুরে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপরট্যুনিটি’ নামে একটি বৃহৎ সাক্ষরতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জান্নাতআরা ফেরদৌস, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে হাম পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৯ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে নতুন করে ১৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫৭ জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪৬ জনের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৯ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৯ জন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৫৭ সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬৫ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৬ জন রয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩৫, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪২ এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৭, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ এবং অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটি হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দুই বছর বয়সী ওই শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত ৬০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১৮ ও ৪ জনের। মৌলভীবাজারে ১৩ জন সন্দেহজনক ও একজন নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন। আর সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাম ও রুবেলা রোগে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৯ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ এখনো কমেনি। বরং একদিনে নতুন করে ১৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিমানের ভাষা -মাধুরী ব্যানার্জী। সেদিন বৃষ্টির অবস্থা ছিল অদ্ভুত। যেন আকাশও কারও প্রতি অভিমান করে সারাদিন ধরে কেঁদে চলেছিল।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে সহেলী রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তার হাতে ছিল ফোন। স্ক্রিনে একই নাম—অর্ণব।
শেষ কথাটি হয়েছিল সাত দিন আগে।
সাত দিন—মাত্র সাত দিন। কিন্তু সহেলীর কাছে মনে হচ্ছিল, সাতটি বছর কেটে গেছে।
অর্ণব রাগ করে বলেছিল,
“তুমি আমাকে একটুও বোঝো না।”
সহেলী সেদিন কোন উত্তর দেয়নি। সে শুধু ফোনটি কেটে দিয়েছিল।
এরপর থেকে দুজনেই নীরব ছিল।
অর্ণব ভাবছিল, সহেলী নিশ্চয়ই তাকে আর গুরুত্ব দেয় না।
অন্যদিকে, সহেলী ভাবছিল, অর্ণব যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসে, তবে কি সে একবারও ফোন করতে পারে না?
দুজনেরই কষ্ট ছিল। দুজনেরই অপেক্ষা ছিল। কিন্তু কেউ কারও কাছে হার মানতে চাইছিল না।
সেদিন সন্ধ্যায় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
মেঘলা দরজা খুলে সহেলী অবাক হয়ে গেল।
সামনে ছিল অর্ণব।
সে ভিজে একাকার ছিল। হাতে একটি ছোট্ট কাগজের প্যাকেট ছিল।
সহেলী কিছু বলল না।
অর্ণবও কিছু বলল না।
কিছু মুহূর্ত দুজনেই নীরব ছিল।
অবশেষে অর্ণব প্যাকেটটি এগিয়ে দিয়ে বলল,
“তোমার জন্য।”
সহেলী প্যাকেটটি খুলে দেখল—একটি ছোট্ট নীল ছাতা।
সহেলীর চোখে জল এসে গেল।
“ছাতা কেন?”
অর্ণব মৃদু হেসে বলল,
“তুমি বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসো, জানি। কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেলে আবার আমাকেই চিন্তা করতে হয়।”
সহেলী মুখ ফিরিয়ে নিল।
“চিন্তা করার দরকার নেই।”
“আছে।”
“কেন?”
অর্ণব একটু থেমে বলল,
“কারণ অভিমান করে দূরে থাকা যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে দূরে থাকা যায় না।”
সহেলী এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
চোখের জল মুছতে মুছতে বলল,
“তুমি এতদিন ফোন করোনি কেন?”
অর্ণব নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,
“অপেক্ষা করছিলাম।”
“কিসের?”
“তোমার।”
সহেলী হেসে ফেলল। সেই হাসির মধ্যে জমে থাকা সাত দিনের অভিমান গলে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“আমিও অপেক্ষা করছিলাম।”
অর্ণব অবাক হয়ে তাকাল।
“তাহলে ফোন করোনি কেন?”
সহেলী জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
“অভিমান হয়েছিল।”
“আমারও।”
“তাহলে দুজনেই কষ্ট পেলাম কেন?”
অর্ণব মৃদু হেসে বলল,
“কারণ আমরা দুজনেই ভেবেছিলাম—আগে কে কথা বলবে।”
সহেলী এবার বলল,
“ভালোবাসায় আগে-পরে বলে কিছু থাকে না।”
অর্ণব মাথা নাড়ল।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।
সহেলী নীল ছাতাটা খুলে বারান্দায় রাখল। এরপর অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলল,
“চলো, আজ একটু বৃষ্টিতে হাঁটি।”
অর্ণব হাসল।
দুজন পাশাপাশি বেরিয়ে গেল।
সেদিন তারা কোন পুরোনো অভিযোগের হিসেব করেনি। তারা শুধু বুঝেছিল—অভিমানেরও একটি ভাষা আছে। সে ভাষায় শব্দ কম, কিন্তু অপেক্ষা আর ভালোবাসা অনেক বেশি।
আর কখনও যদি দুজনের মধ্যে অভিমান আসে, তারা ঠিক করে নিল—
চুপ করে থাকবে না কেউ।
কারণ নীরবতার কাছে অনেক সুন্দর সম্পর্কও একদিন হেরে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়কের উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের মধ্যে সবাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা কলেজ থেকে বার্ষিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে নাম রয়েছে- যাওয়াত, ফেরদৌস, কৌশি, মিরাজ, মুরসালিন, ইমন মৃধা, আরিফ, শফিকুল ইসলাম, মালিহা মেহনাজ, রায়হান, সাজিয়া, তাসপিয়া, আরিফুল ইসলাম, সামিউল, রাজর্ষি, তাসনীম, হুমায়রা, মিলা, নিসা ও তানজিনা। এদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক ভ্রমণের জন্য গতকাল সোমবার রাতে সেন্টমাটিন পরিবহনের ৪টি বাস নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে যায়। এতে অন্তত ২০ ছাত্র আহত হয়। তাদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার বলেন, "খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করি। দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটিতে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে আহত হয় ২০ জন। ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এল নিনো আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট খরার প্রভাবে পানামা খাল দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা আরও কমানো হতে পারে। সোমবার এএফপিকে জলপথটির নতুন প্রশাসক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এল নিনোর প্রভাবে পানামায় খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চলতি বছরের এল নিনো গত চার দশকের রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমানোর সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন এই খালের ব্যবহার বেড়েছে। ইরানের অবরোধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবসায়ীরা পানামা খাল ব্যবহার করছেন।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পরিচালিত হয় আন্তঃমহাসাগরীয় পানামা খাল দিয়ে। ইতোমধ্যেই প্রতিদিন সর্বোচ্চ জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত মাসের ৩৬টি থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ৩২টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা দুটি জলাধারের পানি ব্যবহার করেই পানামা খাল পরিচালিত হয়। এল নিনোর প্রভাবে খরা শুরু হওয়ায় এসব জলাধারের পানির স্তর কমে গেছে।
যদি পর্যাপ্ত পানি না থাকে, তবে খালের শুরু ও শেষ প্রান্তে থাকা লক ব্যবস্থা দিয়ে জাহাজকে ওপরে তোলা ও নিচে নামানোর কাজ করা সম্ভব হবে না।
সোমবার পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া ইলিয়া এসপিনো দে মারোত্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি বা মার্চে আমাদের দৈনিক জাহাজ চলাচলের সীমা আরও কমাতে হতে পারে— সম্ভবত ২৪টিতে নামবে না, তবে ২৯টি বা এর কাছাকাছি হতে পারে।’
প্রতি জাহাজে ২০ কোটি লিটার পানি
প্রতিটি জাহাজকে খাল পার করাতে প্রায় ২০ কোটি লিটার পানি প্রয়োজন হয়। পরে সেই পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে এল নিনোর কারণে জলাধারগুলোর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩৮টি থেকে কমিয়ে ২২টিতে নামানো হয়েছিল।
তবে পানামা খাল কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী এসপিনো দে মারোত্তা বলেছেন, এবার পরিস্থিতি ২০২৩ সালের পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন না।
জাহাজের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ খালে চলাচলকারী জাহাজের সর্বোচ্চ ড্রাফট বা পানির নিচে জাহাজের গভীরতাও কমিয়েছে। এটি ১৫ দশমিক ২ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৬ মিটার করা হয়েছে।
ড্রাফট বলতে পানির উপরিভাগ থেকে জাহাজের তলদেশের সবচেয়ে নিচের অংশ পর্যন্ত উল্লম্ব দূরত্বকে বোঝায়। নিরাপদে ভাসতে ও তলদেশে আটকে না যেতে একটি জাহাজের কতটা পানির গভীরতা প্রয়োজন, তা বোঝাতে এই পরিমাপ ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে পানামা খালে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়তে পারে এবং পণ্য সরবরাহে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পানামা খালের প্রধান ব্যবহারকারী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও চীনের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে দ্রুততম রুট।
যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই খাল দিয়ে যায়।
ইরান যুদ্ধের কারণে পানামা খালে জাহাজ চলাচল আরও বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায়, জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খাল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ