ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা, সেশন জট নিরসনের দাবি


রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা, সেশন জট নিরসনের দাবি

সেশনজট নিরসনসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তালা ঝুলিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা প্লেকার্ড উঁচিয়ে স্লোগানও দেন। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

অন্য দাবিগুলো হলো- দ্রুত রেজাল্ট প্রকাশ করা এবং একাডেমি ক্যালেন্ডার অনুসরণ নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: কবি নজরুল কলেজে পানির ফিল্টার নষ্ট, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে সেশনজট হচ্ছে। যথাসময়ে রেজাল্ট হয় না এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয় না। এর ফলে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। বহুবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মেহেদী হাসান পাপন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “২০২০ সালে অনার্স শুরু করেছি। ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জটের কারণে শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের শেষের দিকে। রেজাল্ট প্রকাশের পর পাঁচ মাস হয়ে গেলেও মাস্টার্সের ক্লাস, পরীক্ষা বা রুটিন দেয়া হয়নি।”

শিক্ষার্থী খালিদ হাসান জানান, বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। তবে এ দায় বিভাগ এড়াতে পারে না, কারণ তারা একাডেমিক জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি কাজি রবিউল আলম বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের নিচে। বিধি অনুসারে তারা পরীক্ষায় বসতে পারবে না। কিন্তু তারা পরীক্ষায় বসার দাবি তুলেছে। তাদের সহপাঠীরা তাদের ছাড়া পরীক্ষায় বসবে না বলে জানিয়েছে।” তবে সভাপতি এ সিদ্ধান্ত একা নিতে পারেন না। একাডেমিক কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কালীবাড়ি ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলে বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অর্পিত সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অপেশাদার আচরণের কারণে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি বা এসিল্যান্ড) বদলি করা হয়েছে। অভিযুক্ত এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদায় বদলি করেছে প্রশাসন।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বদলি করা হয়। এর আগে, অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে ভূমি অফিসের পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তিনি চড়াও হয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে সরকারের প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। সাংবাদিকদের দেখামাত্রই মোবাইল ফোন জমা রাখার নির্দেশ এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন দেন। এরপর তথ্য বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি চেয়ার থেকে উঠে আঙুল তুলে ধমকাতে থাকেন। একপর্যায়ে তেড়ে এসে বলেন, ‘এটা কি ফাজলামোর জায়গা’ এবং বুম ও ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। ক্যামেরায় হাত দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি ফের ধমক দিয়ে বললেন, ‘এটা কি রেকর্ডের জায়গা? যান চলে যান।’ এ কথা বলার পর তিনি গাড়িতে উঠে অফিস ত্যাগ করেন।

এ নিয়ে গত শুক্রবার (১৯ জুন) সময় সংবাদে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনে হাসানপাড়া মৌজার অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানা হিসেবে উপস্থাপন করে প্রায় তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নেয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অর্পিত সম্পত্তি অধিগ্রহণের দুর্নীতি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়টি রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের নজরে এলে তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুল ইসলাম গত রোববার (২১ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টিভির প্রতিবেদক পলাশসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের বক্তব্য শোনেন এবং তা রেকর্ড করেন। তবে এ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।

মজার বিষয় হলো, গত রোববার (২১ জুন) তদন্তের ঠিক পরদিন হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত সম্পত্তি চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য হাসানপাড়া মৌজায় ১/১ ও ২৩৭ বিআরএস খতিয়ানের সাবেক ৭৬ ও ১১২ হাল দাগে সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জমি ও স্থাপনা বাবদ ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা ৭০ পয়সা জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা থেকে ছাড় করা হয়। এই টাকা তুলে নেন পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং তার পরিবারের সদস্যরা।

অথচ অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণকৃত ওই জমিটি মূলত অর্পিত সম্পত্তি। এই জমির মালিকানা দাবি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন একই ইউনিয়নের আসাদুল্লাহ ফারুকী। তার দাবি প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার ক্ষতিপূরণের কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, ‘সম্পত্তিটি অর্পিত হলে কীভাবে এই টাকা পরিশোধ করা হলো?’

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ওই সম্পত্তিতে সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। অথচ ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পত্তিটিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

ভূমি অফিসের কোন প্রতিবেদনটি সঠিক, তা জানতে এর আগে গত ২ জুন এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল সময় সংবাদ। সেদিনও তিনি অশোভন আচরণ করেছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাকে ফোনে জানানো হলে তিনি খাস জমি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেন। সেদিন ইউএনও মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি ভূমি অফিসের দুই ধরনের প্রতিবেদনের বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। উল্টো ‘কেন কথা বলা যাবে না’ প্রশ্ন করলে তিনি এসিল্যান্ডের মতো আচরণের পুনরাবৃত্তির হুমকি দিযে প্রতিবেদককে চলে যেতে বলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


শেরপুরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের অব্যাহতিকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন বুধবার দুপুরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান-এর আয়োজনে এবং জেলা সিভিল সার্জন-এর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের প্রায় আড়াই লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস খাওয়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু দাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রোবায়েদ তাসনিম রুম্পা, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, সহ-সভাপতি শাহরিয়ার মিল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফসহ প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির অন্যান্য সম্পাদকবৃন্দ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান ভবেশচন্দ্র পাঠাগার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান ভবেশচন্দ্র পাঠাগার

 

হালকা সবুজ রঙের দেয়াল, যেখানে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি টানানো হয়েছে।

মেঝেতে কিছু টেবিল রয়েছে। পাশে পাঠকদের বসার জন্য আরামদায়ক চেয়ার। তিনটি কাঠের আলমারিতে সাজানো রয়েছে বই এবং টেবিলে রয়েছে ১০টি জাতীয় পত্রিকা।

চারপাশের দেয়ালে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, জসীমউদ্দিন, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান, স্বামী বিবেকানন্দ, এস এম সুলতান, মসলেম উদ্দিনসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি।

এভাবে সাজানো নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া ভবেশচন্দ্র গণপাঠ নিকেতন। জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ পাঠাগারটি গড়ে তোলা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। তার মানে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৩৮ বছর হতে চলেছে।

শেষ বিকেলে কিছু প্রবীণ পাঠক পাঠের নিবিষ্টতায় মগ্ন রয়েছেন।

তারা খবরের কাগজ পড়ছেন। সেলিম শেখ, যিনি এসব পাঠকের একজন, তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বেলায় এই জায়গা একটু শান্তি দেয়। এখানে নিরিবিলি বসে পেপার পড়ি। মাঝে মাঝে বইও পড়ি। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে বিকেলে, যখন আমার বয়সী অনেকে এখানে আসেন।’

তিনি পাঠাগারে সময় কাটানোর প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা এখানে একসঙ্গে সময় কাটাই। কখনও কখনও মনে হয়, আমি আবার আঠারো বছর বয়স ফিরে পেয়েছি।’ পাঠাগারটির নানা সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুরনো এই পাঠাগারটির এখনো সংস্কার হয়নি। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এখানে কোনো শৌচাগার নেই। এছাড়াও, যদি পাঠাগারটিতে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো হতো, তাহলে পাঠকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।’

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে পাঠাগারটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনশেড ঘরে কার্যক্রম চলছে। একটি মাত্র কক্ষে আলমারি, পাঠকদের জন্য চেয়ার-টেবিল রয়েছে। সঙ্গে একটি টেলিভিশনও আছে। ভেতরে যারা পাঠ করছেন, তাদের অধিকাংশই ষাটোর্ধ্ব। ছায়াঘেরে প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা পড়তে নিয়মিত এসেছেন তারা।

কিছু পাঠক জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের ভিড় এখানে জমে।

পাঠাগারটিতে শিশু কিশোরদের জন্য আলাদা বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। এখানে এসে বই পড়া ছাড়াও, সদস্যরা সাত থেকে ১০ দিনের জন্য বই বাড়িতে নিয়ে পড়তে পারেন। পাঠাগারের গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন তুহিন মোল্যা। তিনি বলেন, সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারের কার্যক্রম চলে। অধিকাংশ সময়ই তিনি সেখানে উপস্থিত থাকেন।

ভবেশচন্দ্র গণপাঠাগার নামকরণের ইতিহাস জানতে চাইলে পাঠাগারটির সাবেক লাইব্রেরিয়ান বিকাশ মল্লিক বলেন, এলাকায় শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা তখনকার মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ভবেশচন্দ্রের স্মরণে তার নামেই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পাঠাগারটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৫০। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রায় ১৩০০ বই। নিয়মিত ১০টি জাতীয় পত্রিকা রাখা হয়। প্রায় চার দশক ধরে বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নানা সেবামূলক কাজও পরিচালনা করছে এখানকার কমিটি।

বিকাশ বলেন, তখনকার সময়ে সদস্যরা মাসিক দুই টাকা চাঁদা দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতেন। এখানকার সুধী সমাজ এক হয়ে গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিলে জমি দান করেন স্থানীয় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সাহা। পাঠাগারটি সাজিয়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটির কমিটি।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিচুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাঠাগারমুখী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারা যেন মোবাইল ফোনের পর্দা থেকে সরে এসে পাঠাগারমুখী হয়, সে জন্য আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

বিকেলে বয়স্করা যে পত্রিকা পড়ার জন্য এখানে আসেন এবং একসঙ্গে তারা সময় কাটান, এই বিষয়টি নজরকাড়া। যা অন্য অনেক জায়গায় দেখা যায় না। তিনি এ সময় পাঠাগারটির পুরনো ভবনটির পূর্ণ নির্মাণের জন্য সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

"করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, জয়পুরহাটের আয়োজনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ. কে. এম সাদিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফসিয়া জাহান।

উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন ফলের স্টল ঘুরে দেখেন। স্টলগুলোতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত নানাবিধ পুষ্টিকর ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের প্রদর্শনী করা হয়। মেলা পরিদর্শনের সময় অতিথিরা ফল চাষের আধুনিক প্রযুক্তি এবং বারো মাস ফল সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা বলেন এবং সাধারণ মানুষকে বেশি করে ফলদ বৃক্ষ রোপণের আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মেলাটি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ফল চাষ ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%