০৩:৪১ এম
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনকে ছাড়িয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকা পড়েছেন। আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কের কারণে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। খবর- এপি।
এদিকে, ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের নিকটে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলস্বরূপ, দেশের বিভিন্ন বড় শহরে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কা, তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ
কলম্বিয়ার অন্যতম বৃহৎ শহর ক্যালিওও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালির কর্তৃপক্ষ এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’
এদিকে, রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা যায়। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয় এবং রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে ছুটে পালান।
ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ম্যাক্রোঁর কঠোর পদক্ষেপ, অবৈধ সমাবেশ নিষিদ্ধ
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, অনেক মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরেই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে তার প্রশাসন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এর আগে, গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন