বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১১ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে ১৫ বছরের জন্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদনকে কেন্দ্র করে বাসদ (মার্কসবাদী) তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। দলটির মতে, এই টার্মিনালটি জাতীয় অর্থনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা উচিত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা এসব মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। তবে, খসড়া চুক্তির শর্তাবলী সম্পর্কে দেশের জনগণকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
মাসুদ রানা বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। একইভাবে এনসিটিও ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দেশব্যাপী সমালোচনা ও আন্দোলনের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে বাধ্য হতে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার বিদেশি অপারেটরের নাম প্রকাশ না করলেও দলটির ধারণা, আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেই এ কনসেশন চুক্তি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিনা টেন্ডারে যে প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার কেন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি তুলে দিতে আগ্রহী—এ প্রশ্নও তোলা হয়েছে বিবৃতিতে।
বাসদ (মার্কসবাদী) জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত নয়; এটি দেশের ভূকৌশলগত, রাজনৈতিক, সামরিক ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ও জড়িত। তাদের দাবি, দেশীয় অর্থে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে।
দলটি দাবি করেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টার্মিনালটি থেকে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিদেশি অপারেটর আসলে বন্দরের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
মাসুদ রানা বলেন, এনসিটির মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও লাভজনক একটি টার্মিনালের পরিচালনা কেন বিদেশি অপারেটরের হাতে দিতে হবে, এটি বোধগম্য নয়। তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বন্দর শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এনসিটি পরিচালনার প্রকল্পে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) ‘ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার’ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাসদ (মার্কসবাদী)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএফসি প্রকল্পটির সার্বিক যাচাই-বাছাই, চুক্তির কাঠামো ও চুক্তিপত্র তৈরি এবং নির্বাচিত অপারেটরের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনালের কনসেশন চুক্তি তৈরিতেও সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে। তাদের পরামর্শে বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আইএফসির ভূমিকা নিয়ে দলটির রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংক ও আইএফসির কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে তাদের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়ন বিবৃতিতে উপস্থাপন করা হয়নি।
বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির মতো জাতীয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পদ জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর কর্ণফুলী রেজিমেন্টের আওতায় চট্টগ্রামের ১১ ব্যাটালিয়নের অধীনে হাটহাজারী সরকারি কলেজের বিএনসিসি প্লাটুন পরিদর্শন এবং নবাগত ক্যাডেট নির্বাচন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কর্ণফুলী রেজিমেন্টের এ্যাডজুটেন্ট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ফিদা ফারদিন প্লাটুনটি পরিদর্শন করেন।
তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং ১১ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট (বিএনসিসিও) মো. আবু তালেব।
পরে, হাটহাজারী সরকারি কলেজের বিএনসিসি প্লাটুনের ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল চৌকস ক্যাডেট তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.
মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে বিএনসিসির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রেজিমেন্ট এ্যাডজুটেন্ট কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারী সরকারি কলেজ এবং নাজিরহাট কলেজের প্লাটুনের নবাগত ক্যাডেট নির্বাচন ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এ সময় সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট (বিএনসিসিও) মো. আবু তালেব, নাজিরহাট কলেজের পিইউও ড.
দোলন কান্তি ভট্টাচার্যসহ সামরিক প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.
মোহাম্মদ আরিফুর রহমান রেজিমেন্ট এ্যাডজুটেন্ট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ফিদা ফারদিনকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালিত অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলার ওয়ারলেস বাজার ও ছায়াবানী মোড় এলাকায় এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানের সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছাড়া দাহ্য পদার্থ ব্যবহার ও সংরক্ষণ এবং অগ্নিনির্বাপক স্প্রে না রাখার কারণে এস এস বাজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখবিহীন পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং মূল্যতালিকা না থাকার কারণে ব্রাদার্স কর্পোরেশনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান অভিযানে জরিমানার আদেশ দেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠান দুটি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করে। এছাড়া, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানে চাঁদপুর জেলা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সহযোগিতা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দীর্ঘদিনের বসতভিটা ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হয়রানি, ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. আহাম্মদ শরীফ।
কুচনীপাড়া বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আহাম্মদ শরীফ দাবি করেন, তার পরিবার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছে। বিরোধীয় সম্পত্তির একটি অংশ আইনানুগভাবে ক্রয় করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিরোধীয় ৫৭ শতাংশ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নোটিশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এরপরও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেন আহাম্মদ শরীফ।
তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী, সাদিকুর রহমান ও শাহজালালের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
****বদলগাছীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রত্যক্ষদর্শী পিতা-পুত্রকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের কান্দা মধ্যপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাকবিতণ্ডা ও হামলার শিকার হন প্রত্যক্ষদর্শী বকুল হোসেন (৫০) ও তার ১১ বছরের ছেলে মেশকাত গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল ৫টার দিকে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের ঝগড়া বিবাদ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ বকুল হোসেন ও তার ছেলে মেশকাত উভয় পক্ষকে ঝগড়া-বিবাদ না করার জন্য বাধা দায়। এর একপর্যায়ে একই গ্রামের আজিজারের ছেলে বাবুল হোসেন ও সুজাউল হোসেন, বাবুলের স্ত্রী খালেদা, সুজাউলের স্ত্রী নিলু এবং বাবুলের ছেলে ওমর আলী উত্তেজিত হয়ে।প্রত্যক্ষদর্শীকে সংঘবদ্ধ হয়ে হাসুয়া, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপ ও লাঠির আঘাতে বকুল ও তার শিশুপুত্র মেশকাত মারাত্মকভাবে জখম হলে
স্থানীয় লোকজন তাদেরকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বদলগাছী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আজকের হামলার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুলবুল আহম্মেদ বুলু
নওগাঁ প্রতিনিধি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ