প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে ১৫ বছরের জন্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদনকে কেন্দ্র করে বাসদ (মার্কসবাদী) তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। দলটির মতে, এই টার্মিনালটি জাতীয় অর্থনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা উচিত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা এসব মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। তবে, খসড়া চুক্তির শর্তাবলী সম্পর্কে দেশের জনগণকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
মাসুদ রানা বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। একইভাবে এনসিটিও ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দেশব্যাপী সমালোচনা ও আন্দোলনের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে বাধ্য হতে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার বিদেশি অপারেটরের নাম প্রকাশ না করলেও দলটির ধারণা, আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেই এ কনসেশন চুক্তি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিনা টেন্ডারে যে প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার কেন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি তুলে দিতে আগ্রহী—এ প্রশ্নও তোলা হয়েছে বিবৃতিতে।
বাসদ (মার্কসবাদী) জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত নয়; এটি দেশের ভূকৌশলগত, রাজনৈতিক, সামরিক ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ও জড়িত। তাদের দাবি, দেশীয় অর্থে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে।
দলটি দাবি করেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টার্মিনালটি থেকে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিদেশি অপারেটর আসলে বন্দরের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
মাসুদ রানা বলেন, এনসিটির মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও লাভজনক একটি টার্মিনালের পরিচালনা কেন বিদেশি অপারেটরের হাতে দিতে হবে, এটি বোধগম্য নয়। তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বন্দর শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এনসিটি পরিচালনার প্রকল্পে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) ‘ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার’ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাসদ (মার্কসবাদী)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএফসি প্রকল্পটির সার্বিক যাচাই-বাছাই, চুক্তির কাঠামো ও চুক্তিপত্র তৈরি এবং নির্বাচিত অপারেটরের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনালের কনসেশন চুক্তি তৈরিতেও সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে। তাদের পরামর্শে বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আইএফসির ভূমিকা নিয়ে দলটির রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংক ও আইএফসির কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে তাদের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়ন বিবৃতিতে উপস্থাপন করা হয়নি।
বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির মতো জাতীয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পদ জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন