ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আনন্দ-দুশ্চিন্তা নিয়েই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের


আনন্দ-দুশ্চিন্তা নিয়েই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি জেলেদের

সাগরে মাছ ধরার ৫৮ দিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামী ১১ জুন থেকে জেলেরা আবারও সাগরে নামছেন। এই উপলক্ষে কক্সবাজার উপকূলে ট্রলার প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলেরা। তবুও বর্ষা মৌসুমের উত্তাল সাগর এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের মনে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।

মৎস্য বিভাগের আশা, সফল নিষেধাজ্ঞার ফলে এবার সাগরে ধরা পড়বে বিপুল পরিমাণ মাছ। লাভবান হবেন জেলে ও ট্রলার মালিকেরা।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর চেয়ারম্যান ঘাটে নদীতে নোঙর করা ট্রলারগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এফবি মা-মেহেরুন্নেছা ট্রলারের ২২ জেলে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ড্রামে পানি ভরছেন, আবার কেউ ট্রলারের পাটাতন ও ইঞ্জিন ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। দীর্ঘ ৫৮ দিনের অপেক্ষার পরে সাগরে নামার সুযোগ পেয়ে সকলের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস এবং প্রত্যাশার ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

এফবি মা-মেহেরুন্নেছা ট্রলারের জেলে সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আমরা সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ট্রলার এবং জালসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আশা করছি, সাগরে মাছ ধরতে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারব।’

একই ট্রলারের মাঝি লুৎফুর রহমান বলছেন, ‘সাগরে গেলে অবশ্যই ভালো লাগবে। কারণ মাছ ধরা আমাদের একমাত্র জীবিকা। কাজ করতে না পারলে পরিবার নিয়ে চলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের ট্রলারের ২২ জন জেলে সকলেই ট্রলারে এসেছে। জাল, রশি, তেল, চাল-ডাল থেকে শুরু করে বাঁশ ও ড্রাম সবকিছু ট্রলারে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন ইঞ্জিন এবং রঙের সামান্য কাজ বাকি আছে, যা বুধবারের মধ্যে শেষ হবে। আশা করি, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরে সাগরে গিয়ে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়বে।’

৬ নম্বর ঘাটে নোঙর করা একটি ট্রলারের মাঝি আয়ুব আলী বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। দীর্ঘদিন সাগরে যেতে না পেরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকার কারণে সংসার চালানো একেবারেই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, জাল এবং ট্রলার মেরামতের কাজ শেষ করছি। আশা করছি, সাগরে গিয়ে মাছ ধরতে পারলে আবার স্বাভাবিকভাবে পরিবার চালাতে পারব।’

শুধু বাঁকখালী নদী নয়, কক্সবাজার উপকূলজুড়ে একই চিত্র বিরাজমান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাখো জেলে। তবে এই আনন্দের মাঝেও শঙ্কা রয়েছে। কারণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বর্ষা মৌসুমে, যখন উত্তাল সাগর এবং বৈরী আবহাওয়া জেলেদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাছের আশায় বুক বাঁধলেও নিরাপদে ফিরে আসার চিন্তা তাদের মনে ভীড় করছে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। জুন-জুলাই মাসে সাগরে আবহাওয়া সাধারণত খুবই বৈরী থাকে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হয়। আমাদের মতে, নিষেধাজ্ঞাটি যদি আরও কিছুটা পরে কার্যকর করা হতো, তাহলে ভালো হতো। এখন সাগরে যাওয়ার সময়ও আবহাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকবে।’

আরেক ট্রলারের মাঝি শুক্কুর আলী বলেন, ‘সরকার যখন নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন সাধারণত সাগরের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জুন-জুলাই মাসে ঝড়, বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়া শুরু হয়। এ সময় সাগর স্বাভাবিকভাবেই উত্তাল থাকে। ফলে মাছ ধরতে গিয়েও আমাদের নানা ঝুঁকি এবং কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে যায়।’

এদিকে, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ট্রলার মালিকেরা স্বস্তিতে নেই। জ্বালানি, বরফসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ব্যয় বাড়ছে কয়েকগুণ। তারপরও ভালো মাছের আশায় সামনে ১১ জুন থেকে সাগরে ট্রলার নামানোর জন্য তারা অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে মৎস্য খাতটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহায়তা এবং বিশেষ নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আগামী ১১ জুন নিষেধাজ্ঞার সমাপ্তি হওয়ায় জেলে এবং ট্রলার মালিকরা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বরফ এবং অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মৎস্য খাত বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে। অনেক মালিকের জন্য ট্রলার সাগরে পাঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও জেলেরা মাছ পাওয়ার আশায় সাগরে যাচ্ছেন। সরকারের দ্রুত জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার জেলে, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী আরও বড় সংকটে পড়বেন।’

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

জেলা মৎস্য বিভাগের দাবি, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলেদের আপত্তির বিষয়গুলোও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সুফল আগামী দিনগুলোতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি। জেলেদের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে যে আপত্তি রয়েছে, বিশেষ করে মাছ ধরার মৌসুম এবং বৈরী আবহাওয়ার বিষয়গুলো, সেগুলো মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। আগামী ১১ জুন নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। এ সময় জেলেরা যে সংযম ও সহযোগিতা করেছেন, তাতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের প্রজনন ও উৎপাদন ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

কক্সবাজারে নিবন্ধিত প্রায় ৬৫ হাজার জেলে থাকলেও এ পেশায় জড়িতদের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করেছে জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি। এবং নৌযানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ এম


মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে। এদিকে তেহরানও প্রতিশোধমূলক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, মঙ্গলবার (৯ জুন) জিএমটি সময় রাত ১০টায় এই হামলা শুরু হয় এবং এটি ‘ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের একটি আনুপাতিক জবাব।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানায়, প্রথম দফায় হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে এবং সিরিক ও জাস্ক বন্দরে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এছাড়া, বুধবার জাস্কে এবং বন্দর আব্বাসে আরও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।

তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেয়া এক বিবৃতিতে লিখেছেন যে, প্রণালীর ওপর টহলরত অবস্থায় ইরান বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই এই হামলার জবাব দেবে।

ট্রাম্প বলেন, বিমানের উভয় ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়ে, সেন্টকম জানায়, বিধ্বস্ত মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে একটি আমেরিকান সি ড্রোনের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযানে ওই বিশেষ যান ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রথম জনসমক্ষে নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান হামলাটি চালাতে একটি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে ইরানি ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিতে হামলা করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা, যিনি বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজকে এ কথা জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ভূখণ্ডের কাছে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনী ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং পরে তিনি নতুন মার্কিন হামলার জবাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘ইরানি বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ এম


৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোর্ডে আলোচনা পরিচালিত হয়। এতে নির্ধারিত হয়েছে, যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে, সেগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইসাথে, বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

এখন কি কি প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়ন বা বন্ধ করার তালিকায় রয়েছে তা জানা গেছে। তালিকায় এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তির আমানতকারীর মোট দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

বর্তমানে, আমাদের প্রথম কাজ হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের পর, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

তিনি আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সক্ষমতা তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে সেগুলোকে রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না এই মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির জন্যই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার এত বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার চারটি এনবিএফআই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরে তীব্র তরলতা সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেডফোন কানে, কক্সবাজারগামী ট্রেনের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ এম


হেডফোন কানে, কক্সবাজারগামী ট্রেনের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মো. টিপু (২০) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার রেলপথে এই সঙ্গত ঘটে।

নিহত টিপু কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকার শাহজাহানের ছেলে। তিনি কিছুদিন আগে সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিপু কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় কক্সবাজারমুখী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

লোহাগড়া ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সাইমুন সিরাজ বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক যুবককে আনা হয়েছিল, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

লোহাগড়া রেলওয়ে স্টेशনের স্টেশন মাস্টার দিদার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলেই আমি জানিয়েছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসির-তামিমা দম্পতির মামলার রায় আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১০ এম


নাসির-তামিমা দম্পতির মামলার রায় আজ

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আজ বুধবার (১০ জুন) আদালত রায় ঘোষণা করবেন।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করবেন।

গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এদিন রায়ের জন্য ধার্য করেন আদালত।

ওই দিন শুনানিতে নাসির ও তামিমার সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় জাতীয় দলের এক সময়ের ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তবে অভিযোগ ওঠে যে তামিমা তার আগের স্বামীকে তালাক না দিয়েই এই বিয়ে করেন। এই ঘটনায় তামিমার আগের স্বামী রাকিব ২৪ ফেব্রুয়ারি একই বছরের তার ও নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

৩০ সেপ্টেম্বর একই বছর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে আদালত অভিযোগ গঠন করে।

এই মামলায় দোষ প্রমাণিত হলে ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমাকে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%