প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোর্ডে আলোচনা পরিচালিত হয়। এতে নির্ধারিত হয়েছে, যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে, সেগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইসাথে, বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।
এখন কি কি প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়ন বা বন্ধ করার তালিকায় রয়েছে তা জানা গেছে। তালিকায় এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তির আমানতকারীর মোট দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
বর্তমানে, আমাদের প্রথম কাজ হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের পর, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।
তিনি আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে।
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সক্ষমতা তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে সেগুলোকে রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না এই মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির জন্যই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার এত বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার চারটি এনবিএফআই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরে তীব্র তরলতা সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন