ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে সোমবার, আসতে পারে কয়েকটি বিল


সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে সোমবার, আসতে পারে কয়েকটি বিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই অধিবেশনটি মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার জন্য আহ্বান করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৪ অক্টোবর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে অধিবেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এই অধিবেশন আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবস ধরে চলতে পারে।

আরও পড়ুন: কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে: হুইপ দুলুর মন্তব্য

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, এই অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে। অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টি বিল উপস্থাপন হতে পারে এবং এসব বিলের ওপর আলোচনা করা হবে।

আগামী জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বছরের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন, অর্থাৎ ২০২৭ সালের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে, চতুর্থ অধিবেশন শুরুর দিন জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অধিবেশনের কার্যদিবসের মেয়াদ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর, জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ ও সাধারণ আলোচনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চলমান ও জনগুরুত্বসম্পন্ন কোনো ইস্যুতে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব এলে তা নিয়ে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে আলোচনা হতে পারে।

আরও পড়ুন: স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক, যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

তবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব এই অধিবেশনে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে। জানুয়ারিতে সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সেটি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘরের বাতাস সতেজ রাখতে সহায়ক ইনডোর গাছগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ঘরের বাতাস সতেজ রাখতে সহায়ক ইনডোর গাছগুলো

ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজের ছোঁয়া দেওয়ার জন্য অনেকেই ইনডোর গাছের প্রতি আকৃষ্ট হন। বসার ঘর, শোবার ঘর অথবা বারান্দার এক কোণে সহজেই এসব গাছ স্থাপন করা সম্ভব। কিছু গাছ ঘরের বাতাসে থাকা নির্দিষ্ট দূষক শোষণ করতে পারে, এমন তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে সাধারণ ঘরের পরিবেশে গাছ রাখার মাধ্যমে বাতাসের বিশুদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। ঘরের বাতাসের মান উন্নত রাখতে নিয়মিত জানালা খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সহজ পরিচর্যার জন্য উপযোগী ১০টি ইনডোর গাছের পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো—

১. স্নেক প্ল্যান্ট

স্নেক প্ল্যান্ট বা মাদার-ইন-লজ টাং কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে। এর পাতাগুলো লম্বা ও খাড়া। পরিচর্যার জন্য বেশি পানি প্রয়োজন হয় না। রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ছাড়ার কারণে অনেকেই শোবার ঘরে এ গাছ রাখতে পছন্দ করেন।

২. স্পাইডার প্ল্যান্ট

নতুন গাছপ্রেমীদের জন্য স্পাইডার প্ল্যান্ট একটি ভালো পছন্দ হতে পারে, কারণ এটি সহজে বেড়ে ওঠে। এর সরু ও বাঁকানো পাতার পাশে ছোট ছোট নতুন চারা জন্মায়। মাঝারি আলোতে এটি ভালো থাকে এবং নিয়মিত অল্প পানি দিলেই বেড়ে ওঠে। সাধারণত পোষা প্রাণীদের জন্যও এটি তুলনামূলক নিরাপদ।

৩. পিস লিলি

সাদা ফুল ও গাঢ় সবুজ পাতার জন্য পিস লিলি বেশ পরিচিত। সরাসরি রোদ নয়, এমন আলো এবং আর্দ্র পরিবেশে এ গাছ ভালো জন্মায়। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির পাতা বা ফুল খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

৪. অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী একটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতার ভেতরে থাকা জেল ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এ গাছ ভালো থাকে। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিলেই চলে। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছের শিকড় নষ্ট হতে পারে। তবে পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

৫. অ্যারেকা পাম

ঘরের সাজসজ্জায় সবুজের আবহ তৈরি করতে অ্যারেকা পাম বেশ জনপ্রিয়। এর পাতাগুলো পালকের মতো ছড়ানো। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো জন্মে এবং আশপাশের বাতাসে আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে। বসার ঘরের এক কোণে বড় টবে এই গাছ রাখা যেতে পারে।

৬. রাবার প্ল্যান্ট

বড় ও চকচকে পাতার কারণে রাবার প্ল্যান্ট ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে এটি ভালো জন্মে। মাটি কিছুটা শুকিয়ে এলে পানি দিতে হয়। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছটি বেশ বড় হয়ে ওঠে। তবে এর কষ ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং পোষা প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর।

৭. বোস্টন ফার্ন

ঘরের আর্দ্র পরিবেশে বোস্টন ফার্ন ভালো জন্মায়। এর ঘন ও নরম পাতা ঘরের সাজে স্নিগ্ধতা আনে। সরাসরি রোদ এড়িয়ে পরোক্ষ আলোতে রাখতে হয়। মাটি সব সময় হালকা আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। বাথরুমের মতো আর্দ্র জায়গায় এ গাছ ভালো থাকতে পারে।

৮. ইংলিশ আইভি

ঝুলন্ত টব কিংবা উঁচু তাক সাজাতে ইংলিশ আইভি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর লতানো ডাল ও সবুজ পাতা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। মাঝারি আলো এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত মাটিতে এটি ভালো জন্মায়। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে গাছটির পাতা খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

৯. গোল্ডেন পথোস

হৃদয়াকৃতির পাতা ও লতানো ডালের জন্য গোল্ডেন পথোস বেশ জনপ্রিয়। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে বলে এটি ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রাখা যায়। খুব বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঝুলন্ত টব কিংবা তাকের ওপর রাখলে এর লতানো ডাল নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত।

১০. জেডজেড প্ল্যান্ট

গাঢ় সবুজ ও চকচকে পাতার জেডজেড প্ল্যান্ট কম আলোতেও ভালো থাকতে পারে। নিয়মিত পানি দেওয়ার প্রয়োজন কম, তাই এটি ব্যস্ত মানুষের জন্য পরিচর্যা করা সহজ। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হয়। তবে এ গাছের অংশ খেলে পোষা প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

ইনডোর গাছ ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি প্রদান করে। তবে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে শুধুমাত্র গাছের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইডটকো ও ফ্লোসোলারের চুক্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাব্যতা যাচাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ইডটকো ও ফ্লোসোলারের চুক্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাব্যতা যাচাই

দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এ লক্ষ্যে ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফ্লোসোলারের সঙ্গে যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে টেলিকম টাওয়ার পরিচালনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ইডটকোর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর কার্যক্রমে সরবরাহের সুযোগ যাচাই করবে উভয় প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে ফ্লোসোলার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্থান নির্বাচন, গ্রিড সংযোগ এবং প্রকল্প উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, ইডটকো উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা এবং বিদ্যুতের চাহিদা মূল্যায়নে সহযোগিতা করবে।

এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো ইডটকোর টেলিকম টাওয়ার পরিচালনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। এর ফলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ মন্তব্য করেন, "ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিসর প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব অবকাঠামোয় বিদ্যুৎ সরবরাহের পদ্ধতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।" তিনি আরও জানান, "বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।"

ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, "টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। ফলে এ খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্কে পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পরিকল্পিত কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।"

প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোতে ইডটকোকে কোনো প্রারম্ভিক মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে না। ফ্লোসোলার সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও অর্থায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং চূড়ান্ত বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে ইডটকো দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংগ্রহের সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যাবে। তবে প্রকৃত উৎপাদন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিমাণ নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রকল্পের ধরন, প্রযোজ্য গ্রিড নিঃসরণ সূচক এবং গ্রিডের প্রচলিত বিদ্যুতের কতটুকু প্রতিস্থাপিত হচ্ছে তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, গ্রেপ্তার ৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, গ্রেপ্তার ৩ জন

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তাঁর নির্দেশনার পর বিষ বিক্রেতাসহ এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) এবং বিষ বিক্রেতা মোঃ সেলিম মিয়া (৫২)। সোহেল ও লাইজুর বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে টহল দেয়ার সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করতে যান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান এবং নৌকার চালক মোঃ এরশাদ আলী আহত হন।

এজাহার অনুযায়ী, সোহেল শেখ ধারালো দা দিয়ে এরশাদ আলীকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বৈঠা দিয়ে মতিউর রহমানের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর ডান হাতে আঘাত লাগে।

এই ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ (৩৬), তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২), ইউনুস আলী (৩৮) ও নূপুর খী (৩০) এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেন। এদের সবার বাড়ি মোংলার জয়মনি এলাকায়। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ শিকারের বিষ কেনার তথ্য দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে একই রাতে সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাকোপ থানার ওসি মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার দুপুরে আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ও বন বিভাগ বিষ দস্যুদের আটকাতে তৎপর হন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত ছাড় দেওয়া হবে না। সুন্দরবনে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।" এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চক্ষুসেবায় ৭ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


চক্ষুসেবায় ৭ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত

দেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কমানোর লক্ষ্যে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, শিল্পসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তিন বছর মেয়াদি বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতায় চক্ষুসেবার প্রসার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় এবং সেবার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে চক্ষুস্বাস্থ্যের বহুখাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৭–২০২৯)’ চূড়ান্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহযোগিতায় চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক বহুখাতীয় জাতীয় প্ল্যাটফর্মটি চালু করেছে দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন (এফএইচএফ)। এতে অংশীদার হিসেবে রয়েছে সাইটসেভার্স এবং আন্তর্জাতিক এনজিও ফোরাম ফর আই হেলথের সদস্যরা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চক্ষুস্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবার বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। মানুষের শিক্ষা, কর্মক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং জাতীয় প্ল্যাটফর্মের সভাপতি মো. মহসিন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে চক্ষুসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন খাতের সম্মিলিত অঙ্গীকার ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কর্মপরিকল্পনার মূল রূপরেখা তুলে ধরেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্ল্যাটফর্মের সহসভাপতি ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি পরিকল্পনার কৌশলগত অগ্রাধিকার, বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র এবং প্রস্তাবিত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চোখের স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করতে চায়।

কর্মশালায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব, কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের ধাপ ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৭–২০২৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করাই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চক্ষুসেবায় বাংলাদেশ অগ্রগতি করলেও প্রতিরোধযোগ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা ও অন্ধত্ব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সেবার বিস্তার এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় চক্ষুস্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ক্লাস্টার ডিরেক্টর মোসাব্বির আলম বলেন, সম্মিলিত অঙ্গীকারকে সমন্বিত কার্যক্রমে রূপ দেওয়া এখন প্রধান অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

কর্মপরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার করে দেশব্যাপী চক্ষুসেবার পরিধি বাড়ানো। তবে পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর জবাবদিহির ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%