প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তাঁর নির্দেশনার পর বিষ বিক্রেতাসহ এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) এবং বিষ বিক্রেতা মোঃ সেলিম মিয়া (৫২)। সোহেল ও লাইজুর বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে।
গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে টহল দেয়ার সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করতে যান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান এবং নৌকার চালক মোঃ এরশাদ আলী আহত হন।
এজাহার অনুযায়ী, সোহেল শেখ ধারালো দা দিয়ে এরশাদ আলীকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বৈঠা দিয়ে মতিউর রহমানের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর ডান হাতে আঘাত লাগে।
এই ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ (৩৬), তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২), ইউনুস আলী (৩৮) ও নূপুর খী (৩০) এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেন। এদের সবার বাড়ি মোংলার জয়মনি এলাকায়। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ শিকারের বিষ কেনার তথ্য দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে একই রাতে সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দাকোপ থানার ওসি মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার দুপুরে আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ও বন বিভাগ বিষ দস্যুদের আটকাতে তৎপর হন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত ছাড় দেওয়া হবে না। সুন্দরবনে এ অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।" এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন