প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কমানোর লক্ষ্যে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, শিল্পসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তিন বছর মেয়াদি বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতায় চক্ষুসেবার প্রসার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় এবং সেবার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে চক্ষুস্বাস্থ্যের বহুখাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৭–২০২৯)’ চূড়ান্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহযোগিতায় চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক বহুখাতীয় জাতীয় প্ল্যাটফর্মটি চালু করেছে দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন (এফএইচএফ)। এতে অংশীদার হিসেবে রয়েছে সাইটসেভার্স এবং আন্তর্জাতিক এনজিও ফোরাম ফর আই হেলথের সদস্যরা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চক্ষুস্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবার বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। মানুষের শিক্ষা, কর্মক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং জাতীয় প্ল্যাটফর্মের সভাপতি মো. মহসিন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে চক্ষুসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন খাতের সম্মিলিত অঙ্গীকার ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কর্মপরিকল্পনার মূল রূপরেখা তুলে ধরেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্ল্যাটফর্মের সহসভাপতি ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি পরিকল্পনার কৌশলগত অগ্রাধিকার, বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র এবং প্রস্তাবিত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চোখের স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করতে চায়।
কর্মশালায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব, কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের ধাপ ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৭–২০২৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করাই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চক্ষুসেবায় বাংলাদেশ অগ্রগতি করলেও প্রতিরোধযোগ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা ও অন্ধত্ব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সেবার বিস্তার এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় চক্ষুস্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ক্লাস্টার ডিরেক্টর মোসাব্বির আলম বলেন, সম্মিলিত অঙ্গীকারকে সমন্বিত কার্যক্রমে রূপ দেওয়া এখন প্রধান অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
কর্মপরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার করে দেশব্যাপী চক্ষুসেবার পরিধি বাড়ানো। তবে পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর জবাবদিহির ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন