বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৩ পি.এম
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী শনিবার মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হতে যাচ্ছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব।
মহালয়া উপলক্ষে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওই দিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়া, রমনা কালী মন্দিরেও শনিবার ভোরে মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।
মহালয়া পিতৃপক্ষের (পূর্বপুরুষদের স্মরণে নিবেদিত কৃষ্ণপক্ষ) সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের (শুভ পক্ষ) সূচনার বার্তা নিয়ে আসে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্র দানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তাঁর পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন, যা দুর্গাপূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটক) চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, ‘এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও (বিএইচবিসিইউসি) দুর্গাপূজায় টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পূজা শুরু হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। উৎসব চলাকালীন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ অক্টোবর ‘মহা ষষ্ঠী’র মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী ও মহা নবমী পেরিয়ে ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে মহাসপ্তমীর আগের দিন, অর্থাৎ মহাসষ্ঠীতে ‘কল্পারম্ভ’ এবং দেবীর প্রতিমা উন্মোচন বা ‘বোধনের’ মধ্য দিয়ে।
মহাসপ্তমীতে অনুষ্ঠিত হবে ‘নবপত্রিকা’ বা ‘কলাবউ’ স্নান ও পূজা; এতে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়।
মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিপূজা’ যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে পালন করা হয়। অন্যদিকে, মহানবমীতে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা ও ‘ভোগ’ নিবেদনের আয়োজন থাকবে।
উৎসব যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে মণ্ডপগুলো জমকালো সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং নান্দনিক থিমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।
পুরো উৎসবজুড়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মণ্ডপগুলোতে সমবেত হবেন; তারা প্রার্থনা করবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
তবে, দুর্গাপূজা চলাকালীন নজরদারি জোরদার করতে কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে। মণ্ডপ আয়োজকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত এবং বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যাকআপ হিসেবে রিচার্জেবল লাইটের ব্যবস্থা রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি নাগরিক আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী শ্রমিক লীগের নেতা ছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, কাজী আজিজুল হক খোকন শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। জানা গেছে, নিখোঁজের দিনেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রুকলিনের আই ৯৯ উইনত্রোপ স্ট্রীট চীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয়ের ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে সেখানে তার মরদেহ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, খোকন খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। তিনি কিউ গার্ডেনের বাসায় একা থাকতেন।
তার দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরায় অবস্থিত। খোকন প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করলেও তার অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হয়নি বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে গত ৫ অক্টোবর পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তারেককে মারধর করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ।
এ ঘটনার মীমাংসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংঘর্ষটি সংঘটিত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিওন, সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রমজান আলী, হল শাখার সদস্য সাইফ আলী শিথিল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ এবং পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তারেক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার পর রমজান আলী অচেতন হয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত অন্যদের ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সূত্রে জানা গেছে, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তারেককে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভের সঙ্গে ৫ অক্টোবর সংঘর্ষের ঘটনার মীমাংসার জন্য ছাত্রদলের দুটি গ্রুপ এবং তারেকের বন্ধুরা একত্রিত হন। মীমাংসার প্রক্রিয়ায় কথোপকথন থেকে সংঘর্ষের সূচনা ঘটে।
তারেক জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌরভ মোটরসাইকেল চালিয়ে তাকে প্রায় ধাক্কা দিতে যাচ্ছিলেন। প্রতিবাদ জানালে সৌরভ তাকে কয়েকবার চড় মারেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার তারেক ও তার কয়েকজন বন্ধু সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সৌরভ ভয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি সূর্যসেন হলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান আবাসিক শিক্ষার্থী ফাইম শাহরিয়ার সাজিব।
বিরোধ মীমাংসার জন্য তারেকের বন্ধুরা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং সূর্যসেন হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিওনসহ কয়েকজন সৌরভের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
ফাইম শাহরিয়ার সাজিব অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় লিওন তাকে মারধর করেন এবং সংঘর্ষের উসকানি দেন। তিনি বলেন, ‘মীমাংসার সময় জহুরুল হক হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে এসে আমাদের মারধর করেন।’
অন্যদিকে, লিওন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগের বিরোধের কারণে তারেক ও তার বন্ধুরা সৌরভকে মারধর করতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন এবং মল চত্বরে বৈঠকের আয়োজন করেন। তার দাবি, ‘সৌরভ ক্ষমা চাওয়ার পরপরই তারা হঠাৎ আমাদের মারধর শুরু করে।’
সৌরভ জানান, তারেকের লোকজন তার মোটরসাইকেল ‘ছিনিয়ে নিয়ে’ সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে সোমবারের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন ধরেননি।
এদিকে মারধরের ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বুধবার দিবাগত রাতেই শাহবাগ থানায় তারেক ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিওন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বরিশাল জিলা স্কুলে ‘নজরুলবর্ষ’ এবং বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বরিশাল জিলা স্কুলের অডিটোরিয়ামে ‘নজরুলবর্ষ’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বরিশাল জিলা স্কুলের সুনাম সারা দেশে রয়েছে। তিনি বলেন, এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত ডিভাইসমুখী প্রবণতা এবং মাদকের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মাদকের বিষাক্ত থাবা তরুণ প্রজন্মের অপার সম্ভাবনা কেড়ে নিচ্ছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও বেশি আন্তরিক ও মনোযোগী হতে হবে।
বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আ. জব্বার, জিলা স্কুলের প্রভাতী শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা এবং দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারুক আলমসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার স্বার্থে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতে আবেদন করেছেন রাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার। খবরটি প্রকাশ করেছে সামা টিভি অনলাইনের।
পাসকো কাউন্টির একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে তিনি বিচারকের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য অনুরোধ করেছেন। এতে মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুককে ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরদের জন্য মেটার সব অ্যাপের দৈনিক ব্যবহারসীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ, ‘অটোপ্লে’ ও ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো আসক্তি বাড়াতে পারে এমন ফিচার বন্ধ করা এবং তাদের কাছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন না করার প্রস্তাবও রয়েছে। মামলার বিচার চলাকালীন এসব ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে ফ্লোরিডার পক্ষ থেকে।
তবে মেটা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ফ্লোরিডার উচিত ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সুরক্ষায় ইউটিউব ও টিকটকের ওপর চাপ প্রয়োগে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত। এর পরিবর্তে বহু বছর ধরে চলা মামলায় ভিত্তিহীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আবেদন করায় আমরা দুঃখিত।’
ফ্লোরিডার অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেছে রাজ্যটি।
দেশজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা অনুরূপ মামলাগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডার মামলাও একটি। গত আগস্টে মেটা ওয়াশিংটন ডিসিসহ আরও ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে।
যদিও সমঝোতায় রাজি হলেও মেটা কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। কোম্পানিটির দাবি, তারা সবসময়ই কিশোরদের নিরাপদ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে রিপাবলিকান নেতা জেমস উথমেইয়ার ওই সমঝোতায় যোগ না দিয়ে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফ্লোরিডা বলেছে, সমঝোতার শাস্তি ‘হাতে চড় মারার মতো সামান্য’, যা ব্যবসা পরিচালনার স্বাভাবিক খরচ হিসেবেই দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ ঠেকাতে কার্যকর হবে না।
ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত বিধিনিষেধগুলো মেটার সমঝোতায় সম্মত হওয়া শর্তগুলোর চেয়েও কঠোর। কারণ সময়সীমা শেষ হলে কিশোরদের বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।
তবে ফ্লোরিডার দাবি, অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় মেটা যেসব পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, সেটিই প্রমাণ করে যে আরও কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ