বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার স্বার্থে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতে আবেদন করেছেন রাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার। খবরটি প্রকাশ করেছে সামা টিভি অনলাইনের।
পাসকো কাউন্টির একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে তিনি বিচারকের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য অনুরোধ করেছেন। এতে মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুককে ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোরদের জন্য মেটার সব অ্যাপের দৈনিক ব্যবহারসীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ, ‘অটোপ্লে’ ও ‘ইনফিনিট স্ক্রল’-এর মতো আসক্তি বাড়াতে পারে এমন ফিচার বন্ধ করা এবং তাদের কাছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন না করার প্রস্তাবও রয়েছে। মামলার বিচার চলাকালীন এসব ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে ফ্লোরিডার পক্ষ থেকে।
তবে মেটা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ফ্লোরিডার উচিত ইউটিউব ও টিকটকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সুরক্ষায় ইউটিউব ও টিকটকের ওপর চাপ প্রয়োগে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত। এর পরিবর্তে বহু বছর ধরে চলা মামলায় ভিত্তিহীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আবেদন করায় আমরা দুঃখিত।’
ফ্লোরিডার অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেছে রাজ্যটি।
দেশজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা অনুরূপ মামলাগুলোর মধ্যে ফ্লোরিডার মামলাও একটি। গত আগস্টে মেটা ওয়াশিংটন ডিসিসহ আরও ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ এবং কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে।
যদিও সমঝোতায় রাজি হলেও মেটা কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। কোম্পানিটির দাবি, তারা সবসময়ই কিশোরদের নিরাপদ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে রিপাবলিকান নেতা জেমস উথমেইয়ার ওই সমঝোতায় যোগ না দিয়ে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফ্লোরিডা বলেছে, সমঝোতার শাস্তি ‘হাতে চড় মারার মতো সামান্য’, যা ব্যবসা পরিচালনার স্বাভাবিক খরচ হিসেবেই দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ ঠেকাতে কার্যকর হবে না।
ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত বিধিনিষেধগুলো মেটার সমঝোতায় সম্মত হওয়া শর্তগুলোর চেয়েও কঠোর। কারণ সময়সীমা শেষ হলে কিশোরদের বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের কোনো বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।
তবে ফ্লোরিডার দাবি, অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় মেটা যেসব পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, সেটিই প্রমাণ করে যে আরও কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরান হারিয়ে ফেলেছে।
গ্রিস সফরের সময় গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এএফপির খবর অনুযায়ী, মার্কো রুবিও বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং ‘তেহরানের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে ধসে পড়ছে’ বলে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী এখন উন্মুক্ত। সংঘাত শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল এখানে প্রবাহিত হতো, এখনও প্রায় ততটাই প্রবাহিত হচ্ছে। সুতরাং, প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।’
গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ জেরাপেট্রিটিসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর একাধিক সুযোগ ইরান কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ইরান আগের চেয়ে অনেক দুর্বল এবং দেশটি ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞার’ মুখে পড়েছে।
রুবিওর যুক্তি হলো, কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি এমন এক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যা খুব কম দেশের ক্ষেত্রে হয়েছে।
তিনি বলেন, কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতারা যে অর্থ বা ডলার পান, তার পুরোটাই হিজবুল্লাহ ও হামাসের পেছনে ব্যয় করা হয়।
রুবিও বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না—বিষয়টি সহজ, চূড়ান্ত এবং এখানেই আলোচনার ইতি।
তিনি আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইরানকে এমন কিছু নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রমাণিত হয় যে তাদের হাতে কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র আসবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তি, ইরান মূলত এমন বিশাল এক প্রথাগত সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল, যার ফলে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভাগ থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
নতুন পাঁচজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৯৪ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক দিনে প্রায় দুই হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ অনুষ্ঠিত এই সিম্পোজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ শিক্ষা (জেনারেল এডুকেশন) কোর্সের মাধ্যমে বিভাগের যাত্রা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) প্রোগ্রাম চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সামাজিক পরিবর্তন বোঝা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ গঠনে সমালোচনামূলক চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং) একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও সমাজকে গভীরভাবে বোঝার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা অধ্যাপক এস এম নুরুল আলমের একাডেমিক যাত্রা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার বিকাশে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।
মূল বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজির সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার শুরুর দিকের কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা অ্যানথ্রোপলজির পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রাখেন।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সিম্পোজিয়ামে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রাম এবং চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রস্তাবিত এই কার্যক্রমের আওতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ একটি শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
সিম্পোজিয়ামে ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একাডেমিক পর্বের পর অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোহাম্মদ হোসেন। এ সময় অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
তিন বছর আগে ৭ অক্টোবর হামলায় নিহত ৩০০ জনের বেশি মানুষের স্মরণে নোভা সঙ্গীত উৎসবের স্থানে পরিবারের সদস্যরা ভোরে জড়ো হন। এ সময় গাজার দিক থেকে সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, রাতভর চলা ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ নিহতদের একজনকে মোহাম্মদ তামুস হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, তিনি তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের অধীনে জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর তারা হামাসের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, নিহতদের একজন ইসরায়েলি সেনাদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ‘হলুদ রেখা’ এলাকায় বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিলেন।
‘হলুদ রেখা’ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি ও হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকা চিহ্নিত করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় নিহতদের একজন মোহাম্মদ তামুস। তাদের দাবি, তিনি হামাসের সামরিক শাখার একজন স্নাইপার ছিলেন এবং একই সঙ্গে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থায় কাজ করতেন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতাল জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ৬০ বছর বয়সী হিশাম ইব্রাহিম আবু মুস্তফা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। হাসপাতালটি আরো জানায়, খান ইউনিসের দক্ষিণে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত জিয়াদ জারাবের মরদেহ সেখানে আনা হয়েছে। ওই হামলাতেও কয়েকজন আহত হন।
এছাড়া বিকেলে আল-বুরাক ক্যাম্পের একটি তাঁবুতে হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতালটি জানিয়েছে। সর্বশেষ হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এএফপিকে জানায়, তারা একজন ‘সামরিক ব্যক্তিকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে নিহত বা আহত অন্যদের বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পরও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এখনও অত্যন্ত কঠিন। গাজা শহরের বাসিন্দা মাহমুদ আবু হাসিরা বলেন, তিন বছর ধরে চলা অবরোধ, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজা এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে
গাজার লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনও তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছে। এসব আশ্রয় সমুদ্রসৈকত কিংবা বোমায় ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের পাশে গড়ে উঠেছে।
গাজার উত্তরের প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বেইত হানুনের বাসিন্দা বাসাম নাসের জানান, যুদ্ধের শুরুতেই তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের নিজেদের বাড়ি ছিল। এখন আমরা প্রিয়জনদের হারিয়েছি, যাদের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে।’
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে বেইত হানুনসহ গাজার সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকা রয়েছে। অন্যদিকে, গাজার বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি হামাস-নিয়ন্ত্রিত বাকি এলাকায় বসবাস করছে।
যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তাদের জীবন এখনও অত্যন্ত কঠিন। গাজা শহরের বাসিন্দা আহমেদ নাসের বলেন, ‘যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ আমাদের ক্ষুধার্ত, ভীত ও বাস্তুচ্যুত করেছে। আমরা তাঁবুতে থাকছি এবং নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে লড়াই করছি।’
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই কোনো না কোনো সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৭৪ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরো ১ হাজার ৪৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ