ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ


হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরবরাহপথ দখল এবং সরকারি শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকাংশে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা, রসদ সরবরাহের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিকের কাছে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। হামলার সময় দেশটির পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি অক্ষত রইলেন। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী ও তাদের সমর্থনে নিয়োজিত সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের স্থল অগ্রযাত্রা সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগর উপকূল বরাবর দ্রুত অগ্রসর হয়ে হুথিরা মোখা বন্দর দখল করে। পশ্চিম তাইজ অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি রসদ সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। পাল্টা অভিযানে সরকারি বাহিনী হারানো কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হলেও মোখা এখনো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামোও হুমকির মুখে রয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

তাইজ শহরের পরিস্থিতি এই সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। হুথিরা শহরটির সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের সংযোগকারী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আশপাশের পাহাড়ি এলাকার বিকল্প পথগুলোও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং গত সপ্তাহে পেট্রলের দাম তিন গুণ বেড়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি বেসামরিক মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি সরকারি বাহিনীর গোলাবারুদ, জ্বালানি ও অতিরিক্ত সেনা সরবরাহেও বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহপথে বাধা সৃষ্টি হলেও অভিযান বন্ধ হবে না। পশ্চিম ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ফোর্সেসের মুখপাত্র কর্নেল ওয়াদাহ আল-দুবাইশের মতে, হুথিরা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। স্থল, নৌ ও আকাশপথ ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে রসদ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এতে সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং কিছু কিছু রণাঙ্গনে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনী বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইয়েমেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ফয়সাল আল-মাজিদির ভাষ্য অনুযায়ী, শাবওয়া, মারিব, তাইজের হুথিমুক্ত এলাকা, লোহিত সাগর উপকূল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন কেন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে পৃথক রণাঙ্গনে রসদ পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কৌশলগত পাহাড়ি এলাকাগুলো দখলে রাখার চেষ্টা চলছে।

তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ পার্বত্য জেলাটি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাটি লোহিত সাগর উপকূলের ওপর নজরদারির সুযোগ দেয় এবং পশ্চিম দিক থেকে তাইজ শহরের অবরোধ ভাঙার সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। তবে বিকল্প সরবরাহপথ থাকলেই যে দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, প্রতিটি রণাঙ্গনে নিয়মিত গোলাবারুদ, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও নতুন সেনা পাঠাতে হলে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা সরকারি বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, অক্টোবরের শুরু থেকে তাদের হামলায় হুথিদের শত শত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

আল-দুবাইশের মতে, ইরানের সরবরাহ করা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি সহায়তা ছাড়া ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে বড় ধরনের অভিযান চালানো কঠিন। সৌদি বিমান হামলা হুথিদের শক্তিবৃদ্ধি ঠেকানো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং স্থলবাহিনীকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে তাইজ অবরোধের সাম্প্রতিক পর্যায়ে সরকারি বাহিনীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছাতে আগের মতো আকাশপথে সরবরাহের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনীর জন্য শুধু রসদ সংকটই নয়, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাও বড় সমস্যা। হুথিবিরোধী শিবিরের বিভিন্ন সামরিক ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে পৃথক নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হলে অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়ের পেছনেও এ দুর্বলতা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সমস্যা দূর করতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জানুয়ারিতে সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি (এসএমসি) গঠন করে। জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন হুথিবিরোধী বাহিনীকে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীনে এনে সরকারি সামরিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর এ উদ্যোগ আরো গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো

ইয়েমেনের সামরিক বিষয়ে গবেষক আদনান আল-জাবারনির মতে, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে। তবে নতুন কমান্ড কাঠামো কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজন, পৃথক অর্থায়ন এবং নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই কাগজে-কলমে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে তার বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর অভিযান এখন একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে রয়েছে। লোহিত সাগর উপকূল, তাইজ শহরের আশপাশ এবং সানার পূর্বাঞ্চলে মারিব ও আল-জাওফ এলাকায় লড়াই চলছে। এসব এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করতে হলে বিপুল পরিমাণ রসদ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং সমন্বিত সামরিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। হুথিরা যদি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরবরাহকেন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়াতে পারে, তাহলে সরকারি বাহিনীর পক্ষে একই সঙ্গে সব রণাঙ্গনে চাপ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, সৌদি বিমান সহায়তা এবং বিকল্প সরবরাহপথের ব্যবহার সরকারি বাহিনীকে অভিযান অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে পারে। সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, হুথিদের হামলা তাদের অভিযান থামানোর বদলে আরো জোরদার করতে পারে। তবে এ দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো, তাইজের অবরোধ ভাঙা এবং মোখার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্দখলের সক্ষমতার ওপর।

সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আপাতত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখলেও হুথিদের পরাজিত করে সানা পুনর্দখলের লক্ষ্য অর্জন এখনো অনিশ্চিত। সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। সরবরাহপথ সচল রাখা, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিভিন্ন বাহিনীকে কার্যকর একক কমান্ডের অধীনে পরিচালনা করতে পারাই হবে অভিযানের স্থায়িত্ব ও সাফল্যের প্রকৃত পরীক্ষা।

আরও পড়ুন: হুতি বিদ্রোহীদের এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উন্নত দেশের অর্থায়ন ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান গুতেরেসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উন্নত দেশের অর্থায়ন ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান গুতেরেসের

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের ঐতিহাসিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (কপ-১৬)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

মহাসচিব গুতেরেস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এই অভূতপূর্ব ক্ষতি মানবজাতির অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "এই মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এই মুহূর্তেই উন্নত দেশগুলোর তরফ থেকে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা কুমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক (জেবিএফ) বাস্তবায়নে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু উন্নত দেশগুলোর গড়িমসির কারণে তার সরবরাহ এখনও অত্যন্ত ধীরগতির।

মহাসচিব গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, অর্থায়নের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ক্ষতি রোধ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।

তহবিল সরবরাহে উন্নত দেশের ধীরগতি:

২০২২ সালের চুক্তির আলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতি বছর অন্তত ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে ক্যালি সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত এই আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়নের একটি বড় অংশ এখনও অবমুক্ত হয়নি।

২০৩০ সালের বিশাল বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা:

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, "এখনই উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের গতি না বাড়ালে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

উন্নয়নশীল দেশের ওপর চাপ:

বাংলাদেশ, কলম্বিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো চরম জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক অনুদান না পাওয়ায় তাদের নিজস্ব বনাঞ্চল ও জলাভূমি রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে না।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্েযর আন্তঃসম্পর্ক:

মহাসচিব গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি—এই দুটি সংকট একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্যালির এই জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিকতা দেখায়, তার ওপরই বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন মাখোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন মাখোঁ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সংশ্লিষ্ট সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে যে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ববর্তী ছয় মাস রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপি প্যারিস থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে। আট বছর আগে মাখোঁ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে রয়েছে।

শনিবারের বিক্ষোভের কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ বা ‘হলুদ ও তরুণ’। আন্দোলনকারীরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেনশনভোগী ও কৃষকদের এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ফ্রান্স-২ টেলিভিশনে বলেন, ‘আমরা বিপুলসংখ্যক জনসমাগমের ধারণা করছি।’ পুলিশের একটি সূত্র এএফপি’কে জানায়, কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রায় ২ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারে। এর মধ্যে প্যারিসে ৪০ হাজারের মতো মানুষের উপস্থিতি থাকতে পারে।

মাখোঁ শান্ত থাকার এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে যোগ দিতে ব্রাসেলসে অবস্থানরত ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে মানুষের প্রতি এবং সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্বও দেখাতে হবে।

সরকারের একজন মুখপাত্র মাখোঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, তিনি এ সপ্তাহে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ‘যৌক্তিক’ দাবিগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

ফ্রান্সের উগ্র বাম ও উগ্র ডানপন্থী দলগুলোও এ অস্থিরতাকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। উগ্র বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউডের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তাদের সমর্থনে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা মেরিন ল্য পেন তাঁর ন্যাশনাল র‌্যালি দলকে পুলিশের পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যুক্ত হলে আগামী এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মাখোঁ সরকারের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের

বরগুনা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন যে, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

আজ বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নসংক্রান্ত একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন প্রশাসনের একটি প্রধান দায়িত্ব। জনগণ যেন হয়রানি ছাড়া সরকারি সেবা পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের একটি অংশ। এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

চিফ হুইপ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও আন্তরিকতার বিকল্প নেই। বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা

আবু মোশাররফ

চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণ, পৃথক ট্রানজিট সেন্টার এবং কার্গো ভিলেজ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীনের সাথে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ‘আন্তর্জাতিক’ হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক কিছু রুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্বমুখী অর্থনৈতিক পরাশক্তির দেশগুলোর সাথে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি পত্র পাঠান। ওই পত্রে বিমানবন্দরটির উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সরকারের সাড়া দিয়ে দ্রুতই দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ সমন্বয়ে প্রকল্পের একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ‘কুইক-উইন ফেজ’ বা দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার করে বড় আকারের (ওয়াইড-বডি) উড়োজাহাজ ওঠানামা নিশ্চিত করা এবং ট্রানজিট যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এখান থেকে চীন, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল; কিন্তু নানা সময়ে অবকাঠামোগত সংকট ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের সেসব গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দর কিংবা বিদেশি সংযোগকারী বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং কার্গো পরিবহনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিমানবন্দরটির বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার। প্রকল্পের আওতায় এটি পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার ৬০০ মিটারে উন্নীত করা হবে। উড়োজাহাজ পার্কিং স্ট্যান্ড থাকবে ১১টি (ন্যারো-বডি), ওয়াইড-বডি পার্কিং স্ট্যান্ড থাকবে ৮টি। বার্ষিক যাত্রী সক্ষমতা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি করা হবে। বোর্ডিং ব্রিজের সংখ্যা দু’টি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি (যার মধ্যে চারটি ওয়াইড-বডির উপযোগী) করা হবে। ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চালু করা হবে পৃথক ট্রানজিট সেন্টার। এছাড়া রানওয়ে শক্তিশালীকরণ, সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ এবং দ্রুত প্রস্থান বা র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হবে। এই উন্নয়নের মাধ্যমে বোয়িং ৭৭৭, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কিংবা এয়ারবাস এ৩৩০ ও এ৩৫০-এর মতো বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহদাকৃতির বিমানগুলো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের বেশির ভাগ আমদানি-রপ্তানি পরিচালিত হলেও পচনশীল পণ্য, তৈরি পোশাকের উচ্চমূল্যের নমুনা, ইলেকট্রনিকস এবং জরুরি ওষুধপত্রের আন্তর্জাতিক পরিবহনে আকাশপথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে সেই সেবাও সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। একটি নতুন কার্গো ভিলেজ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাপনা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপন করা হবে। এতে পচনশীল কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী সরাসরি চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পথ সুগম হবে। তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি ক্রেতারা দ্রুত চট্টগ্রাম সফর করতে পারবেন এবং তৈরি পোশাকের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল চীন থেকে সরাসরি আনা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি ও সহযোগী খাত থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ফাস্টট্র্যাক এই মেগা প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ঋণ বা অর্থ সহায়তা চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি); যার পরিমাণ প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার জোগাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বেবিচক। বিমানবন্দরের আশপাশে হোটেল, শপিং মল, কমার্শিয়াল স্পেস এবং অন্যান্য সেবামূলক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলে আরও ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বাসস-কে বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত বাস্তবতায় চট্টগ্রাম অনেক আগেই এই অঞ্চলের আকাশ যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতদিনেও তা হয়নি, এটা দুঃখজনক। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ আগস্ট আমি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে একটি পত্র প্রেরণ করি। মাননীয় অর্থমন্ত্রী পত্র পাওয়ার পর আমাদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ নামে ফাস্টট্র্যাক মেগা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। এটা এক কথায় ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আমরা চাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। এতে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থান যেমন দ্রুত বদলে যাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও নতুন গতির সঞ্চার হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র অনেকটা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে ধাবিত হয়েছে। বিশেষ করে চীন অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রম বিগত দুই দশকে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা বিনিয়োগকারী ও কর্মীদের উপস্থিতি এখন উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এখান থেকে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ না থাকায় একটা নেতিবাচক পরিস্থিতি আমরা দেখছি। প্রস্তাবিত এয়ার হাব প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সেদিক থেকেও একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আছিফ চৌধুরী বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে এই অঞ্চলের এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কার্গো ভিলেজ, চেকিং কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, লাগেজ বেল্ট ও যাত্রীদের জন্য উন্নত লাউঞ্জ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের ল্যান্ডিং চার্জ (অবতরণ মাশুল) প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে আনতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কার্যকর বিপণন ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, হংকং ও তাইওয়ানসহ পূর্ব এশিয়ামুখী বিমান সংস্থাগুলোকে আকৃষ্ট করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে জ্বালানি ভরার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উড়োজাহাজের জ্বালানির দামও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা গতি পাবে এবং এর মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।’

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বাসস-কে বলেন, ‘কোনো উড়োজাহাজ এখানে অবতরণের পর যদি তাদের সমস্ত আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনীয়তা যেমন— হোটেল সুবিধা, জ্বালানি নেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পায় তখনই তারা এই বিমানবন্দরটিকে একটি ‘হাব’ হিসেবে গণ্য করবে। একবার এটি অর্জিত হলে, পৃথিবীর প্রায় সব এয়ারলাইন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানেও এই বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার মতো অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি কার্গো ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য এয়ারলাইনগুলোকে কার্যকর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যদি এয়ারলাইনের ফ্লাইটের সংখ্যা এবং সহায়ক অবকাঠামো বাড়ানো যায়, তবে এই বিমানবন্দরটি দেশের একটি বিকল্প হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ট্রানজিট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনগুলোর এমন চাহিদা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা যাত্রীদের নিজ দেশ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে অন্য গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে। তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে, কারিগরি যাত্রাবিরতি বা ‘টেকনিক্যাল স্টপওভার’ সেবা প্রদানের ওপর মনোযোগ দেওয়াটা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯ লাখ ৭৭ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%