০১:২২ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ বর্তমানে দেশের সামুদ্রিক খাতে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পুরস্কার অর্জনের পথে রয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মর্যাদাপূর্ণ ‘লেটার অফ কমেন্ডেশন্স ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি-২০২৬’ (সমুদ্রে অসাধারণ বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার)-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৬ তারিখে, এই পুরস্কারটি সংস্থাটির লন্ডনস্থ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। চলতি বছরের শুরুতে, কেবলমাত্র একটি ঘটনার জন্য, ক্যাপ্টেন আসিফকে এই বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
তিনি কর্ণফুলী চ্যানেলে নিজের জীবন বাজি রেখে দক্ষতার সঙ্গে একটি বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত মহাবিপর্যয় মোকাবেলা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, গত ২০ জানুয়ারি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী ১৫৯.৯ মিটারের জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) কাজ করছেন আসিফ। জাহাজটিতে ছিল ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪,৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস। হঠাৎ করেই, পূর্বের কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই, বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়।
প্রবল স্রোতের টানে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে অভাবের দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে যদি জাহাজটির সঙ্গে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির সংঘর্ষ ঘটে তবে একটি ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারতো এবং শহরের বাসযোগ্যতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হারাতো। আরও ভয়াবহ ছিল বন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা।
আরও পড়ুন: অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করেই জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে তখন মাত্র কয়েক সেকেন্ড ছিল একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। চরম সংকটের মুহূর্তে, নিজের জীবনের প্রতি আগ্রহ ত্যাগ করে তিনি অসীম সাহস এবং নিখুঁত পেশাদারিত্ব দেখান। তিনি জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২টি নোঙর ফেলার নির্দেশ দেন এবং টেক্সটবুক ম্যানুভারিং এর বাইরে গিয়ে ২টি নোঙর তুলে ফেলেন। তার এই দূরদর্শী ও নিখুঁত কৌশলের কারণে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি কমে যায়।
তিনি নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে ‘গ্যাস হারমোনি’কে জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে এসে সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে থামিয়ে দেন। ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের এই অনন্য সাধারণ মেধা, উদ্ভাবন, দৃঢ় মনোবল ও বীরত্ব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হয়েছে। ‘গ্যাস হারমোনি’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও মালিক পক্ষও তাকে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, আইএমও অসাধারণ বীরত্ব পুরস্কার হলো বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা। এটি সমুদ্রে নিজের জীবন বাজি রেখে বড় ধরনের বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিকভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত। ক্যাপ্টেন আসিফের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন