ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সামুদ্রিক খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ


সামুদ্রিক খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ বর্তমানে দেশের সামুদ্রিক খাতে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পুরস্কার অর্জনের পথে রয়েছেন। তিনি জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মর্যাদাপূর্ণ ‘লেটার অফ কমেন্ডেশন্স ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি-২০২৬’ (সমুদ্রে অসাধারণ বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার)-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৬ তারিখে, এই পুরস্কারটি সংস্থাটির লন্ডনস্থ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। চলতি বছরের শুরুতে, কেবলমাত্র একটি ঘটনার জন্য, ক্যাপ্টেন আসিফকে এই বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

তিনি কর্ণফুলী চ্যানেলে নিজের জীবন বাজি রেখে দক্ষতার সঙ্গে একটি বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত মহাবিপর্যয় মোকাবেলা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, গত ২০ জানুয়ারি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী ১৫৯.৯ মিটারের জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) কাজ করছেন আসিফ। জাহাজটিতে ছিল ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪,৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস। হঠাৎ করেই, পূর্বের কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই, বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়।

প্রবল স্রোতের টানে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে অভাবের দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে যদি জাহাজটির সঙ্গে কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির সংঘর্ষ ঘটে তবে একটি ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারতো এবং শহরের বাসযোগ্যতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হারাতো। আরও ভয়াবহ ছিল বন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা।

আরও পড়ুন: অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করেই জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে তখন মাত্র কয়েক সেকেন্ড ছিল একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। চরম সংকটের মুহূর্তে, নিজের জীবনের প্রতি আগ্রহ ত্যাগ করে তিনি অসীম সাহস এবং নিখুঁত পেশাদারিত্ব দেখান। তিনি জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২টি নোঙর ফেলার নির্দেশ দেন এবং টেক্সটবুক ম্যানুভারিং এর বাইরে গিয়ে ২টি নোঙর তুলে ফেলেন। তার এই দূরদর্শী ও নিখুঁত কৌশলের কারণে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি কমে যায়।

তিনি নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে ‘গ্যাস হারমোনি’কে জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে এসে সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে থামিয়ে দেন। ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের এই অনন্য সাধারণ মেধা, উদ্ভাবন, দৃঢ় মনোবল ও বীরত্ব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হয়েছে। ‘গ্যাস হারমোনি’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও মালিক পক্ষও তাকে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, আইএমও অসাধারণ বীরত্ব পুরস্কার হলো বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা। এটি সমুদ্রে নিজের জীবন বাজি রেখে বড় ধরনের বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিকভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত। ক্যাপ্টেন আসিফের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা-দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


বন্যা-দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস কিংবা অন্যান্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে কঠিন পরীক্ষা হয়ে আসে। এসব দুর্যোগের ফলে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে।

এমন দুর্যোগের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত বলা হয়। একজন মুমিন তার নিজের স্বার্থের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসবেন—এটাই ইসলামের শিক্ষা। অসহায় মানুষের চোখের অশ্রু মুছে দেওয়া, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিপদে সাহস জোগানো—এসব কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়।

বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা করা তাকওয়ার পরিচয় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২) বন্যা ও দুর্যোগের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক কিংবা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষের উপকার করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।’ (তাবারানি, হাদিস : ৫৭৮৭) অতএব, দুর্যোগের সময়ে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এগিয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ।

মুমিনেরা পরস্পরের ভাই : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০) আর ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক শুধুমাত্র কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

অন্যের কষ্ট দূর করার প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯) তাই বলা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কাজ করবে, আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

দান-সদকার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়; প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬১) তাই দুর্যোগের সময়ে একটি খাবারের প্যাকেট, একটি কম্বল বা সামান্য অর্থও আল্লাহর কাছে অমূল্য হয়ে যেতে পারে।

রহমত লাভের অন্যতম উপায় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করে, পরম দয়ালু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪) সুতরাং অসহায় মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

শুধু অর্থ নয়, যেকোনো সহযোগিতাই সদকা : অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র অর্থবানরাই সহযোগিতা করতে পারেন। অথচ ইসলাম জানায়, সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতাই সদকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৫) অতএব, খাদ্য বিতরণ, উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ, অসুস্থদের সেবা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, এমনকি সান্ত্বনার একটি বাক্যও আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ। একজন সত্যিকারের মুমিন কখনো অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, কারণ তিনি জানেন—মানুষের সেবা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ।

আসুন, আমরা সকলেই বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, শ্রম, সময় কিংবা আন্তরিক দোয়া—যে যেভাবে পারি সহযোগিতা করি। মনে রাখতে হবে, আজ যখন আমরা অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছি, কাল আমাদের বিপদের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও সাহায্য দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার

ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ১১৮ জনে পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগের ফলে আহত হয়ে আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া, হাজার হাজার মানুষ বাস্থানের অভাব নিয়ে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা এই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) ভেনেজুেলার পার্লামেন্টের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ নিজের যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

হোর্হে রদ্রিগেজ পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "২৪ জুন পরপর আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১১৮ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, "উপকূলীয় লা গুয়াইরার পুরো এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।" তিনি জানিয়েছেন, "এ ছাড়াও আরও কয়েক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ আছেন।"

এদিকে, পোস্টে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারের সাহায্য করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২ জন মানুষকে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৫৬টি ভবন, যার মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। গৃহহীন মানুষের জন্য ৮৯টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুন ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রা ও ৭ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। দেশটিতে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং বহু উঁচু ভবনের আবাসিক ব্লক পুরোপুরি ধসে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়াদের মধ্যে জীবিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হয়ে গেছে, এই কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো ‘জীবিত’ মানুষের সন্ধানে অভিযান শেষ করেছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে খোঁজ চলেছে পরিবারগুলি। তারা আশা করছেন, জীবিত না হলেও অন্তত মরদেহ কিংবা দেহাবশেষ পাওয়া গেলে, তথাকথিত প্রিয়জনদের মর্যাদাপূর্ণভাবে দাফনের সুযোগ পাবেন।

একই দিন, শুক্রবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির রাজধানী কারাকাসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি সুউচ্চ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ভেনেজুয়েলার জন্য এই বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠন কার্যক্রম একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ বুধবার ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলার জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

বর্তমানে লা গুয়াইরা রাজ্যের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এই রাজ্যেই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, বাড়িঘর ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ পুনরুদ্ধার করে তা ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসন কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন। বুধবার তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা ভেনেজুয়েলাসংক্রান্ত প্রায় ৩০ টন সোনা ছাড় করানোর জন্য তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে অনুরোধ করেছেন।

ডেলসি রদ্রিগেজ জোড়া ভূমিকম্পের পর সরকারের জরুরি তৎপরতার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, "দেশটি আর সামাজিক অস্থিরতার দিকে যাবে না।" তবে, অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল আসার আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম যথেষ্ট ছিল না। এটি নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩০ পি.এম


বগুড়ায় বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন

বগুড়া সদরের সাবগ্রামে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতের সময় সদর উপজেলার চকধোনাই গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ জহুরুল আলম, সাবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ নয়ন, ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার আলী, আতাউর রহমান মিঠুসহ ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপির কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্য সফরে প্রিন্স হ্যারির একের পর এক বিপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


যুক্তরাজ্য সফরে প্রিন্স হ্যারির একের পর এক বিপত্তি

 

অল্প কিছুদিন পর যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে প্রিন্স হ্যারি চেয়েছিলেন, আবারও বিশ্বের নজর তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ইনভিকটাস গেমস’-এর দিকে ফেরাতে। ধারণা করা হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমেই প্রায় চার বছর পর প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। কিন্তু প্রত্যাশার পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখা গেল।

একের পর এক বিতর্ক, আদালতে আইনি পরাজয়, সফরের নানান জটিলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় বিভ্রান্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হ্যারির সফর আলোচনায় আসলেও আড়ালে পড়ে যায় তাঁর দাতব্য উদ্যোগ ও ইনভিকটাস গেমসের প্রচারণা।

প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন আর হয়নি। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, লন্ডন ও বার্মিংহামে ইনভিকটাস গেমস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানানো হয়, তিনি যুক্তরাজ্যে কোন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। ফলে চার বছর পর ব্রিটিশ জনতার সামনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেটিরও অবসান ঘটে।

তবে সফরের শেষের দিকে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে হ্যারি, মেগান এবং তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বাকিংহাম প্যালেস এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন ছবি প্রকাশ করা হয়নি এবং বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি। ফলে এ সাক্ষাতও জনমতের আলোচনার মোড় ঘোরাতে পারেনি।

হ্যারির সফর শুরুর আগেই তার আবাসন নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস ও সাসেক্স শিবিরের মধ্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ পায়। কোথায় তিনি অবস্থান করবেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়। এতে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ সফরের শুরুতেই ইতিবাচক পরিবেশ নষ্ট করে দেয়।

সফরের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক ঘটনা ঘটে ইনভিকটাস গেমসের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের দিন। প্রিন্স হ্যারি যখন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে ডেইলি মেইল-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স-এর বিরুদ্ধে করা তাঁর সব আইনি দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের মোবাইল ফোনে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ইনভিকটাস গেমসের উদ্বোধনী আয়োজনের চেয়ে আদালতের রায়ই সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়ে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হ্যারির নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। পরদিনের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতির কারণে আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য হ্যারির প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইনভিকটাস গেমস-এর প্রচারণা অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। অথচ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল এই আয়োজনকে সামনে আনা। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত ও আইনি বিতর্ক শেষ পর্যন্ত হ্যারির মানবিক উদ্যোগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়।

বার্মিংহামের ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ইনভিকটাস গেমসের অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা যায় প্রিন্স হ্যারিকে। তিনি প্রতিযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান। সবার সঙ্গে কথা বলেন, আলিঙ্গন করেন, ছবি তোলেন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমেও অংশ নেন। অনেকের কাছে ইনভিকটাস পরিবার যেন হ্যারির ‘দ্বিতীয় পরিবার’। সেখানে তাঁকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক ভালোবাসা। তিনি ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে ইনভিকটাস গেমসের জন্য তৈরি নতুন একটি বিশেষ সংকেতও ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে এই সফর প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের জন্য জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার একটি বড় সুযোগ হতে পারতো। বিশেষ করে মেগানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং ইনভিকটাস গেমসকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক প্রচারণার সুযোগ ছিল। কিন্তু ধারাবাহিক বিতর্ক, আদালতের রায়, সফরের নানা অনিশ্চয়তা এবং জনসংযোগ কৌশলের দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে সফরের শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিভ্রান্তি, বিতর্ক এবং হারিয়ে যাওয়া এক সম্ভাবনার গল্প; আর আড়ালেই থেকে গেছে যুদ্ধাহত সেনাসদস্যদের জন্য প্রিন্স হ্যারির বহুদিনের মানবিক উদ্যোগ ইনভিকটাস গেমস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%