প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস কিংবা অন্যান্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে কঠিন পরীক্ষা হয়ে আসে। এসব দুর্যোগের ফলে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে।
এমন দুর্যোগের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত বলা হয়। একজন মুমিন তার নিজের স্বার্থের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসবেন—এটাই ইসলামের শিক্ষা। অসহায় মানুষের চোখের অশ্রু মুছে দেওয়া, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিপদে সাহস জোগানো—এসব কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়।
বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা করা তাকওয়ার পরিচয় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২) বন্যা ও দুর্যোগের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক কিংবা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।
মানুষের উপকার করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।’ (তাবারানি, হাদিস : ৫৭৮৭) অতএব, দুর্যোগের সময়ে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এগিয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ।
মুমিনেরা পরস্পরের ভাই : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০) আর ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক শুধুমাত্র কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।
অন্যের কষ্ট দূর করার প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯) তাই বলা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কাজ করবে, আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।
দান-সদকার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়; প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬১) তাই দুর্যোগের সময়ে একটি খাবারের প্যাকেট, একটি কম্বল বা সামান্য অর্থও আল্লাহর কাছে অমূল্য হয়ে যেতে পারে।
রহমত লাভের অন্যতম উপায় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করে, পরম দয়ালু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪) সুতরাং অসহায় মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।
শুধু অর্থ নয়, যেকোনো সহযোগিতাই সদকা : অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র অর্থবানরাই সহযোগিতা করতে পারেন। অথচ ইসলাম জানায়, সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতাই সদকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৫) অতএব, খাদ্য বিতরণ, উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ, অসুস্থদের সেবা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, এমনকি সান্ত্বনার একটি বাক্যও আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ। একজন সত্যিকারের মুমিন কখনো অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, কারণ তিনি জানেন—মানুষের সেবা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ।
আসুন, আমরা সকলেই বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, শ্রম, সময় কিংবা আন্তরিক দোয়া—যে যেভাবে পারি সহযোগিতা করি। মনে রাখতে হবে, আজ যখন আমরা অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছি, কাল আমাদের বিপদের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও সাহায্য দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন