এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০১:২৪ পি.এম
গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জোটের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জোটের মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাব। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।
এছাড়া বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপির জেলা সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা বলেন, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব করা হচ্ছে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শোক, আবেগ এবং প্রতিশোধের আহ্বানে মুখর হয়ে উঠেছে।
রাজধানী তেহরানের ইমামে খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খামেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিন জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাচে ঘেরা বিশেষ কফিনের মধ্যে খামেনির লাশ রাখা রয়েছে। পাশেই রাখা হয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও। এ সময় হাজারো শোকাহত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং শেষবারের মতো তাদের নেতাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স এবং আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককেই দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে। তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনগুলোতেও সকাল থেকেই দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছিল হাজারো নাগরিক।
অনুষ্ঠানস্থলে বহু শোকাহত লাল পতাকা বহন করেন, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাদের অনেককে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। একসাথে পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিনে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ঘটনার সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।
গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের সম্মানে জুলাই স্মৃতি স্মারক প্রদান করেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাতে প্রধানমন্ত্রী এই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন।
এরপর শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আন্দোলনে আহত আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ইমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন।
এ সময় সঞ্চালক জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করলেও জুলাই স্মৃতি পরিবারের সব সদস্যের জন্য স্মৃতি স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সেগুলো প্রত্যেক শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের আহতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না।
তিনি শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান জুলাই জাতীয় সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দলকে সংগঠিত করে অরাজনৈতিক পরিচয়ে জুলাই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম হই। এটা পর্দার অন্তরালের কথা।’
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতির প্রত্যাশা অনেক। অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সরকার তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করতে বলেন যে, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে গণতান্ত্রিক দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে। তারা এ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিকভাবে তাদের দাফন হয়ে গেছে।’
শিগগিরই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘জুলাই চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি, চেতনা বিক্রি ভালো নয়। যারা চেতনা ব্যবসা করবে তাদের পরিণতিও দেশের মানুষ দেখবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ