০১:৩০ পি.এম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শোক, আবেগ এবং প্রতিশোধের আহ্বানে মুখর হয়ে উঠেছে।
রাজধানী তেহরানের ইমামে খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খামেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিন জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাচে ঘেরা বিশেষ কফিনের মধ্যে খামেনির লাশ রাখা রয়েছে। পাশেই রাখা হয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও। এ সময় হাজারো শোকাহত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং শেষবারের মতো তাদের নেতাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স এবং আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককেই দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে। তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনগুলোতেও সকাল থেকেই দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছিল হাজারো নাগরিক।
অনুষ্ঠানস্থলে বহু শোকাহত লাল পতাকা বহন করেন, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাদের অনেককে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। একসাথে পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে বাপ্পি হত্যা মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিনে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ঘটনার সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।
গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন